২৩ এপ্রিল ২০১৯, ৯ বৈশাখ ১৪২৬, সোমবার

এইচএসসিতেও প্রশ্নফাঁস হবে না: শিক্ষামন্ত্রী

প্রকাশিতঃ রবিবার, মার্চ ৩১, ২০১৯, ৬:২৭ অপরাহ্ণ


চট্টগ্রাম: যারা প্রশ্নফাঁস ও অনৈতিক কাজের সাথে জড়িত থাকবে তাদের কঠিন শাস্তির আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। রোববার চট্টগ্রামের পোর্ট সিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সমাবর্তনের অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের কোনো ঘটনা ঘটেনি দাবি করে দীপু মনি বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তাতে এইচএসসিতেও প্রশ্নফাঁস হবে না। এবার তীক্ষ্ণ গোয়েন্দা নজরদারি রয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমি আশা করি কেউ কোনোভাবে কোনো অনৈতিক পথে যাবেন না। প্রশ্নফাঁস করে সেটা থেকে সুবিধা আদায়ের কোনো চেষ্টা করবেন না। আমরা আশা করি পরীক্ষার্থীরা তাদের মেধা ও প্রস্তুতি দিয়ে তাদের পক্ষে যতটুক ভালো ফলাফল করার সম্ভাবনা রয়েছে তারা তা করতে পারবেন।

প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুজবে কান না দিতে পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি বলেন, কিছু প্রতারক চক্র রয়েছে যারা প্রশ্ন ফাঁসের গুজব ছড়িয়ে অর্থ আদায় করে। তাদের প্রতারণার খপ্পরে পড়বেন না। আমি অভিভাবক, শিক্ষক, পরীক্ষার্থী সকলের কাছে আবেদন জানাব; প্রতারিত হবেন না।

এর আগে সমাবর্তনে তিনি বলেন, জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তর করতে সরকার যুগোপযোগী মানসম্পন্ন শিক্ষার ওপর গুরুত্বরোপ করছে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে দায়িত্বশীলতার সাথে সুশিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে অবশ্যই ২০১০ সালে প্রণীত আইন মেনে চলতে হবে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষকের দায়িত্ব অভিভাবকের মতো। কখনো কখনো তার চেয়েও বেশি। শিক্ষার মানোন্নয়নের চেষ্টায় আপনারা কোনো ছাড় দেবেন না। শিক্ষার মানকে দিতে হবে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। ক্যাম্পাসে গঠনমূলক পরিবেশ, সহশিক্ষা কার্যক্রম ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সুযোগ্য নাগরিক ও আলোকিত মানুষ গড়ে তোলা হোক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ব্রত। এক্ষেত্রে সরকার সবধরনের সহযোগিতা করবে।

নগরীর একটি কমিউনিটি সেন্টারে অনুষ্ঠিত সমাবর্তনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। সমাবর্তনে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন পানি সম্পদ উপমন্ত্রী ও পোর্ট সিটি ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান একেএম এনামুল হক শামীম, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান, উপাচার্য নূরুল আনোয়ার।

সমাবর্তন বক্তা ছিলেন ইউজিসির সাবেক চেয়ারম্যান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ইমেরিটাস অধ্যাপক একে আজাদ।

প্রসঙ্গত ২০১৩ সালে যাত্রা শুরু করা চট্টগ্রামের এ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রথম সমাবর্তনে বিভিন্ন অনুষদের অধীনে ১০টি বিভাগ থেকে পাস করা দুই হাজার ৮৮ জন শিক্ষার্থীকে সনদ দেওয়া হয়। এছাড়া সাতজনকে চ্যান্সেলর স্বর্নপদক ও ১২ জন শিক্ষার্থীকে প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান স্বর্নপদক দেওয়া হয়।