২১ এপ্রিল ২০১৯, ৭ বৈশাখ ১৪২৬, শনিবার

আইন অমান্য করে শিশুর নাম-পরিচয় প্রকাশ করলেন ম্যাজিস্ট্রেট!

প্রকাশিতঃ মঙ্গলবার, এপ্রিল ২, ২০১৯, ১২:৪১ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রাম: বিচারাধীন কোন মামলা বা বিচার কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শিশুর নামপরিচয় প্রকাশ আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ; আর সেই কাজটিই করার অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে কর্মরত সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট একরামুল ছিদ্দিকের বিরুদ্ধে।

‘এসি ল্যান্ড বোয়ালখালী’ নামে বোয়ালখালী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর অফিসিয়াল আইডি থেকে সোমবার দিবাগত রাতে একটি পোস্ট দেওয়া হয়। এতে বাল্যবিবাহের শিকার ভুক্তভোগী শিশুর প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার সনদ, স্ট্যাম্পসহ মোট চারটি ছবি সংযুক্ত করে দেয়া হয়।

পরীক্ষার সনদপত্র অনুযায়ী ১৬ বছর ১০ মাস বয়সী মেয়েটির নাম, বাবার নাম ও ঠিকানা উল্লেখ করে এতে লেখা হয়েছে, ‘আজ একজন নাবালিকার বিয়ে হচ্ছে এমন গোপন খবরের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে… একটি বাল্যবিবাহ বন্ধ করে দেয়া হল। মেয়ের পিতা ও চাচাকে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হল এবং ১৮ বছরের আগে মেয়ে বিয়ে দিবেনা এই মর্মে ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে অঙ্গীকারনামা নেয়া হল।

পলাতক থাকা বিয়ের কাজীকেও ছাড় দেয়া হবেনা বলেও ঘোষণা দেয়া হয় ওই স্ট্যাটাসে।

মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১২টা পর্যন্ত উক্ত স্ট্যাটাসে ৪০২ জন রিয়েক্ট দিয়েছেন, ৫৪ জন কমেন্ট করেছেন এবং ১৮ জন শেয়ার করেছেন।
এতে মোরশেদ আলম নামের একজন কমেন্ট করেছেন, ‘কাজির সনদ বাতিলের সুপারিশ করা প্রয়োজন।’ এসি ল্যান্ড বোয়ালখালী আইডি থেকে উত্তর দেয়া হয়, এটাই করা হবে।

প্রসঙ্গত শিশু আইন, ২০১৩ এর ৮১ ধারার ১ উপ-ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে, বিচারাধীন কোন মামলা বা বিচার কার্যক্রম সম্পর্কে প্রিন্ট বা ইলেকট্রনিক মাধ্যম অথবা ইন্টারনেটের মাধ্যমে কোন শিশুর স্বার্থের পরিপন্থী এমন কোন প্রতিবেদন, ছবি বা তথ্য প্রকাশ করা যাইবে না, যাহার দ্বারা শিশুটিকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে শনাক্ত করা যায়।

একই আইনের ২ উপ-ধারায় উল্লেখ আছে, কোন ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর বিধান লঙ্ঘন করিলে উহা এই আইনের অধীন অপরাধ হিসাবে গণ্য হইবে এবং উক্ত অপরাধের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অনধিক ১ (এক) বৎসর কারাদণ্ড অথবা অনধিক ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট একরামুল ছিদ্দিক একুশে পত্রিকাকে বলেন, সোমবার ৯৯৯ এ স্থানীয়রা ফোন করে বাল্য বিয়ের খবরটি জানান। সেখান থেকে জেলা প্রশাসক স্যারকে জানানো হয়। স্যার আমাকে বলার পর আমি বিয়ে বন্ধের ব্যবস্থা নিয়েছি।

শিশু আইন অমান্য করে ভুক্তভোগীর নাম-পরিচয় প্রকাশ প্রসঙ্গে তুলে ধরা হলে তিনি বলেন, শিশু আইনে আমি বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করিনি। বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনে বিয়ে বন্ধ ও জরিমানা করা হয়েছে। মেয়েটি একেবারে ছোট নয়, ১৭ বছর ৩ মাস। কলেজে পড়ছে সে।

‘মেয়েটির ওয়ার্ড, বাড়ির ঠিকানা কিছুই দিইনি। তার ছবি প্রচার করা হয়নি। সবাই যাতে সতর্ক হয় সেজন্য একটি বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। কারণ বোয়ালখালীতে বাল্যবিবাহ বেড়ে গেছে।’ বলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট একরামুল ছিদ্দিক।