২১ এপ্রিল ২০১৯, ৭ বৈশাখ ১৪২৬, শনিবার

চবি ছাত্রলীগের দু’পক্ষে ফের সংঘর্ষ, আটক ৬

প্রকাশিতঃ মঙ্গলবার, এপ্রিল ২, ২০১৯, ৬:১৯ অপরাহ্ণ

চবি প্রতিনিধি : আগের দিনের ঘটনার জের ধরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ছাত্রলীগের দুই গ্রুপে ফের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

রোববার (৩০ মার্চ) ফেসবুকের স্ট্যাটাসে মন্তব্য করাকে কেন্দ্র করে বিজয় গ্রুপের এক কর্মীকে সিএফসি গ্রুপের কর্মীরা মারধর থেকে সংঘর্ষের সূত্রপাত। সেই সংঘর্ষের সূত্র জেরে মঙ্গলবার ফের সংঘর্ষে জড়ালো দুই গ্রুপ। সংঘর্ষে জড়ানো পক্ষ দুটি শিক্ষা উপমন্ত্রী মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের অনুসারী বিজয় ও সিএফসি গ্রুপ।

মঙ্গলবার (২ এপ্রিল) সকালে পরিস্থিতি শিথিল হলে দুপুর দেড়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আব্দুর রব হলের মাঠে খেলতে গেলে বিজয় গ্রুপের দর্শন বিভাগের ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের আবু বক্করকে সিএফসি গ্রুপের কর্মীরা পুনরায় মারধর করলে বিকেল তিনটার দিকে দুই গ্রুপে পুনরায় সংঘর্ষ ও ধাওয়া পাল্টা দাওয়ার ঘটনা ঘটে। এসময় বিজয় গ্রুপের নেতাকর্মীরা সোহারওয়ার্দী হল এবং সিএফসি গ্রুপের নেতাকর্মীরা শাহ আমানত হলে অবস্থান নেয়। দুই গ্রুপের নেতাকর্মীরা ইট পাটকেল ছোড়ে এবং দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পাল্টা পাল্টি আক্রমণ করে। সংঘর্ষের ঘটনায় দু’পক্ষের বেশ কয়েকজন কর্মী আহত হয়।

প্রায় ৩০ মিনিট দু’পক্ষে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার পর এক পর্যায়ে পুলিশের লাঠিচার্জে পরিস্থতি নিয়ন্ত্রণে আসে। এসময় পুলিশ বিজয় গ্রুপের ৩ কর্মীসহ ৬ জনকে আটক করে।

আটকরা হলেন, ইতিহাস বিভাগের (১৬-১৭) শিক্ষার্থী অমিত রায়, একই শিক্ষাবর্ষের ইংরেজি বিভাগের বেলাল হোসেন এবং উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের (১৫-১৬) শিক্ষার্থী ইয়াছিন কায়ছার, সিফাত উল্লাহ সরকার, খালেদ মাসুদ ও সাকিব হাসান।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত হাটহাজারী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বেলাল উদ্দীন জাহাঙ্গির বলেন, ছাত্রলীগের দুই গ্রুপে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশের উপস্থিতিতে এখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

এর আগে গতকাল সোমবার মধ্যরাত থেকে ভোর পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচটি আবাসিক হলে তল্লাশি চালিয়ে দুটি আগ্নেয়াস্ত্র, ১২৬ রাউন্ড গুলি এবং রামদা উদ্ধার করেছে পুলিশ। তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাটহাজারী মডেল থানার ওসি বেলাল উদ্দিন জাহাঙ্গীর।

তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় রাতে একযোগে পাঁচটি আবাসিক হলে তল্লাশি চালানো হয়েছে। এতে আলাওল হলের ক্যান্টিনের পেছন থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় দুটি এক নলা বন্দুক, থ্রি নট থ্রি বন্ধুকের ১২৬ রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে। তাছাড়া হলের বেশ কয়েকটি আবাসিক কক্ষ থেকে ১২টি রামদা, রড ও বিপুল পরিমাণ লাঠিসোটাও উদ্ধার করা হয়েছে। তবে কাউকে আটক করা হয়নি।’

একুশে/আইএস/এটি