২১ এপ্রিল ২০১৯, ৭ বৈশাখ ১৪২৬, শনিবার

চবি অবরোধ ইস্যুতে ছাত্রলীগ নেতা সুজনের ‘পল্টিবাজি’ (অডিও)

প্রকাশিতঃ সোমবার, এপ্রিল ৮, ২০১৯, ৭:৩৬ অপরাহ্ণ


চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) ছাত্রলীগের একাংশের ডাকা অবরোধ কর্মসূচি নিয়ে সাংবাদিকদের কাছে বিতর্কিত মন্তব্য করে বেকায়দায় পড়েছেন চবি ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির সাধারণ সম্পাদক এইচএম ফজলে রাব্বী সুজন। এ অবস্থায় নিজেকে ‘সেইফ’ রাখতে একুশে পত্রিকার বিরুদ্ধে অপপ্রচারে নেমেছেন তিনি। যদিও তার ওই বক্তব্যের অডিও রেকর্ড একুশে পত্রিকার কাছে সংরক্ষিত আছে।

গতকাল রোববার রাত ১০টা ২৭ মিনিটে একুশে পত্রিকায় ‘চবিতে অবরোধ অব্যাহত নাকি প্রত্যাহার?’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদটি তৈরি করার সময় বক্তব্য জানতে সুজনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করেন একুশে পত্রিকার প্রতিনিধি। তবে তিনি ফোন ধরেননি।

এ প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত একাধিক সাংবাদিককে দেয়া সুজনের একটি বক্তব্য একুশে পত্রিকা প্রকাশ করে। এতে সুজনের বরাত দিয়ে উল্লেখ করা হয়, দাবি মানার পরও আন্দোলনকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে ছাত্রলীগের মধ্যে ঘাপটি মেরে থাকা এজেন্টরা পুলিশের সাথে সংঘর্ষে জড়িয়েছে।

এইচএম ফজলে রাব্বী সুজন সাংবাদিকদের উপরোক্ত কথা বলেছেন, একুশে পত্রিকাকে নয়- সেটিও ‘চবিতে অবরোধ অব্যাহত নাকি প্রত্যাহার?’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়। একুশে পত্রিকায় উক্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর আন্দোলনকারী ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা সুজনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে ফেইসবুকে স্ট্যাটাস, কমেন্ট করা শুরু করেন।

এরপর নিজের দায় এড়ানোর জন্য একুশে পত্রিকার বিরুদ্ধে বিষোদগার করে সোমবার দুপুরে নিজের ফেইসবুকে স্ট্যাটাস দেন এইচএম ফজলে রাব্বী সুজন; এতে তিনি লিখেছেন, ‘একুশে পত্রিকার কোনো সাংবাদিকের সাথে আমার কথা হয় নাই। উদ্দেশ্যেপ্রণোদিতভাবে একটি মহল আমার নামে মিথ্যা কমেন্ট ব্যবহার করে ছাত্রলীগ কর্মীদের মাঝে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। যারা এই হীন কার্যকলাপে জড়িত তাদের প্রতি একরাশ ঘৃণা।’

নীতির প্রশ্নে আপোস হয় না জানিয়ে সুজন আরো লিখেছেন, ‘নেতার নির্দেশের বাইরে গিয়ে রাজনীতি ও আন্দোলন করা আমার পক্ষে কখনোই সম্ভব নয়। জয় আমাদের সুনিশ্চিত, আবেগের বশবর্তী না হওয়াই আমাদের সকলের জন্য মঙ্গলজনক।’

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির একটি সূত্র জানায়, অনুসারী নেতাকর্মীদের চাপে পড়ে ফজলে রাব্বী সুজন এখন সুর পাল্টিয়েছেন। তবে তিনি রোববার রাতে সাংবাদিকদের কাছে যে বক্তব্য দিয়েছেন, সেটার একটি অডিও রেকর্ড আমাদের হাতে আছে। এতেই বিষয়টি পরিস্কার যে, সুজনের দাবি অসত্য, উদ্দেশ্যেপ্রণোদিত।

অডিও রেকর্ডের শুরুতে একটি পত্রিকার প্রতিনিধিকে বলতে শোনা যায়, আন্দোলনের বিষয়ে জানতে চাচ্ছিলাম, আপনাদের পরবর্তী কোন কার্যক্রম আছে? নাকি আন্দোলন স্থগিত?

মোবাইল ফোনে এইচএম ফজলে রাব্বী সুজন জবাব দেন, ‘না না .. আন্দোলন বলতে আমরা নেতাকর্মীদের মুক্তির জন্য যৌক্তিক যে আন্দোলন করছিলাম, ওই আন্দোলন তো প্রশাসন মেনে নিয়েছে। আমাদের নেতা ব্যারিস্টার মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের সাথে কথা বলে আন্দোলন মেনে নিছে এবং একটা সফল আন্দোলন হইছে। কিন্তু এই সফল আন্দোলনটাকে ব্যর্থতায় পর্যবসিত করার জন্য আমাদের সংগঠনে লুকিয়ে থাকা কিছু এজেন্ট পুলিশের সাথে সংঘর্ষে জড়িয়েছে। আমরা তাদের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে সন্দিহান। প্রশাসনের প্রতি দাবি থাকবে তাদেরকে আইডেন্টিফাই করে তাদের রাজনৈতিক পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য।’

এ পর্যায়ে ফজলে রাব্বী সুজনের কাছে ওপ্রান্ত থেকে জানতে চাওয়া হয়, সকালে আমরা শুনেছিলাম আপনাদের দাবি ছিল চারটি। চারটা দাবিই কি পূরণ হয়েছে?

সুজন উত্তরে বলেন, ‘না না.. প্রথম দুটি দাবি পূরণ হয়েছে। উপাচার্য মহোদয় বলেছিল যে বাকি দাবিগুলোও পূরণ হবে। কিন্তু এর মধ্যেই তো সংঘর্ষে জড়িয়ে গেছে, আন্দোলনটাকে ব্যর্থ করে দেয়ার জন্য।’

সুজনের এ ধরনের কমেন্ট সোমবার কয়েকটি জাতীয় দৈনিকেও প্রকাশিত হয়েছে।

এদিকে শুধু সাংবাদিকদের নয়, রোববার রাতে প্রায় একই ধরনের কথা লিখে ম্যাসেনজারের একটি চ্যাট গ্রুপে এইচএম ফজলে রাব্বী সুজন প্রকাশ করেছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে; ওই গ্রুপে ব্যারিস্টার মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের অনুসারী ছাত্রলীগের বেশকিছু নেতাকর্মী রয়েছেন বলে জানা যায়।

সেখানে ফজলে রাব্বী সুজন লিখেছেন, ‘তোমাদের সবাইকে বার বার বলার পরও তোমরা আমার কথা শোনো নাই। নওফেল ভাইয়ের নির্দেশ তোমরা অমান্য করছো। ভিসি স্যার নওফেল ভাইয়ের সাথে কথা বলে সব দাবি মেনে নেবে বলছিল। আমাদের আন্দোলন শতভাগ সফল হয়েছিল। তোমরা একটা সফল আন্দোলনকে ব্যর্থ করে দিয়েছো। আমি নিজে ভোরে গিয়ে ট্রেন অবরোধ করছি। তোমরা কখনোই আমার কর্মী হতে পারো না। যাদের ইশারায় আমার কথা শোনো নাই তাদেরকে গিয়ে বলো রাজনীতি করতে হলে আদর্শ থাকতে হয়। নেতার নির্দেশ মানতে হয়। আমি ব্যারিস্টার মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল ভাইয়ের নির্দেশে জীবনও দিতে পারি, নিতে পারি। আফসোস আজকে ২:৩০ ঘণ্টা ধরে বলার পরও তোমরা নেতার নির্দেশ অমান্য করেছো। ভালো থাকো সবাই। যাদের .. এসব করেছো তাদের নিয়ে থাকো।’

উপরোক্ত কথাগুলো লিখেই সুজন উক্ত চ্যাট গ্রুপ থেকে ‘বিদায়’ নেয় বলেও ছাত্রলীগের একটি সূত্র জানায়।

এসব বিষয়ে ফজলে রাব্বী সুজনের বক্তব্য জানতে পারেনি একুশে পত্রিকা।

 

একুশে/এসআর/এটি