২৩ এপ্রিল ২০১৯, ৯ বৈশাখ ১৪২৬, সোমবার

নুসরাতের শরীরের আগুনের তাপে পুড়ছে বিবেকের চোখ

প্রকাশিতঃ মঙ্গলবার, এপ্রিল ৯, ২০১৯, ৬:৪৯ অপরাহ্ণ

হাসিনা আকতার নিগার : চুড়িহাট্টা, বনানীর আগুনের লেলিহান শিখায় দেখেছি লোভাতুর মানুষের দৃষ্টি। তার রেশ না কাটতেই নুসরাতের দগ্ধ দেহ দেখে আত্মার ক্রদনে পুড়ছে নিজের চোখ। নারীকে ভোগ্যপণ্য হিসাবে আর কত সইতে হবে নির্যাতন?

এমন কোনো দিন নেই, যেখানে নারী হত্যা, ধর্ষণসহ নানা নির্যাতনের শিকার হচ্ছে না। বলা হয়ে থাকে নারীদের সুরক্ষার জন্য প্রণীত আইন বেশ শক্তিশালী। কিন্তু সে আইনের অধীন বিচারের সাজা দেশে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হয়তোবা পারেনি বলে নুসরাতকে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করেছে নরপুশরা। আর নুসরাতের শরীরের সে আগুনের তাপে পুড়ছে বিবেকের চোখ।

নুসরাত পুড়েছে এটা মনে থাকবে তনু হত্যার মত সবার। কিন্তু মাদ্রাসার সে শিক্ষককে ভুলে যাবে সমাজ। জানি না নুসরাতের ভবিতব্য। যদি বেঁচে থাকে তবে ৮০ ভাগ দগ্ধ শরীরকে বয়ে বেড়ানোর সাথে তাকে শুনতে হবে অনেক কটূক্তি। আইন দিয়ে বিচার হলেও মানুষের মুখ বন্ধ হয় না। এ সমাজের বিচারে নারীরা আজো অবরুদ্ধ।

এমন লোমহর্ষক ঘটনাতে পুলিশের ভুমিকা নিয়ে প্রশ্ন জাগে। পুলিশ জনবান্ধব হতে চায় কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই তার প্রমাণ মিলে না। নুসরাতের মামলাতে তাদের গড়িমসি লক্ষনীয়। এর জন্য কাকে দায়ী করা যায়? সরকার না পুলিশ বাহিনীর দায়িত্বশীলতার অভাব।

নুসরাতের অপরাধ সে অধ্যক্ষের শারীরিক চাহিদাকে পুরণ না করে প্রতিবাদ করেছে। আর সমাজের কিছু বিবেকহীন মানুষ অধ্যক্ষের বিকৃতরুচির সর্মথন করে পুড়িয়ে দিলো নুসরাতের শরীরকে। অন্যায়কারী কতটা প্রভাবশালী তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

শিক্ষকতার মত মহান পেশাতে থেকে নিজের কু রিপুকে যে সংযম করতে পারে না, সে কী করে হয় মানুষ গড়ার কারিগর।

মাদ্রাসা হলো ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। যেখানে কোরআন হাদীসের আলোকে বলা হয় ‘যেনাকারীর কোনো ক্ষমা নাই। ‘ অথচ খোদ কোরআন হাদিসের বয়ানকারী যেনা, হত্যার চেষ্টা করে ধর্মকে করেছে কুলষিত।

সর্বোপরি বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে সকল নারী। যদিও দেশের সরকার প্রধান নারী এবং সে সাথে উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় নারীদের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। রূপা তনু নুসরাত লালসার বলিদান হয়ে এ সমাজকে আর কত কাঁদাবে তার উত্তর দিতে পারছে না সরকার কিংবা দেশ। তবু নারী হয়ে একটু নিরাপত্তা চাওয়ার দাবি সকলের।

একুশে/এইচএএন/এটি