২১ এপ্রিল ২০১৯, ৭ বৈশাখ ১৪২৬, শনিবার

পটিয়ায় রাতের আঁধারে ভবন-নির্মাণের অভিযোগ

প্রকাশিতঃ মঙ্গলবার, এপ্রিল ৯, ২০১৯, ৬:৩০ অপরাহ্ণ

পটিয়া প্রতিনিধি : পটিয়া পৌরসভার কোনো ধরনের অনুমোদন ছাড়াই রাতের আধারে একটি বহুতল ভবনের নির্মাণ-কাজ চলছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার আরকান মহা সড়কের পটিয়া সদরের থানা সন্নিকটের দক্ষিণ পাশে ভবনটি নির্মাণ কাজ করছেন উপজেলার খরনা এলাকার মো: আইয়ুব আলী। ভবন নির্মাণ বন্ধ রাখতে পৌর কর্তৃপক্ষ নোটিশও দিলেও সেই নোটিশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে রাতে কাজ করছেন বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন।

স্থানীয়রা জানান, জায়গা নিয়ে দু’টি পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এই ঘটনায় একাধিকবার সংঘাত, সংঘর্ষের মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে প্রশাসনের সহযোগিতায় বারবার নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছে।

এ নিয়ে চট্টগ্রাম জেলা জজ আদালতে একটি আপিল মামলা বিচারাধীন। ওই মামলায় প্রবাসীর বিরুদ্ধে ভবন-নির্মাণে নিষেধাজ্ঞাও রয়েছে। পৌরসভার নোটিশ ও আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে দিনে ও রাতে ইমারত নির্মাণ কাজ করে যাচ্ছেন তিনি।

অভিযোগ ওঠেছে, প্রবাসী আইয়ুব প্রশাসনের সঙ্গে সখ্যতা করে অনুমোদন ছাড়াই বহুতল ভবন নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। দক্ষিণ চট্টগ্রামের একমাত্র প্রথম শ্রেণীর পৌরসভার নক্সা ছাড়া ইমারত নির্মাণ করায় ১৯৯৬ এবং স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন ২০০৯ এর (দ্বিতীয় তফশীল ৩৫,৩৬ নং ক্রমিক মোতাবেক) লঙ্ঘন হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।

এই জায়গা নিয়ে পটিয়া পৌরসভার সোনা মিয়ার পুত্র ঠিকাদার জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে দীর্ঘদিন বিরোধ চলে আসছিল। আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকার কারণে পটিয়া পৌর কর্তৃপক্ষ বহুতল ভবনের নক্সা অনুমোদন দেওয়া হয়নি। তারপরও প্রবাসী আইয়ুব আলী পৌর কর্তৃপক্ষ ও আদালতকে অমান্য করে রাতের আধারে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

জানা যায়, বিরোধীয় ভুমিতে ইমারত নির্মাণ, হোল্ডিং ট্যাক্স, ট্রেড লাইসেন্স ও ভুমির নক্সা পর্যন্ত অনুমোদন নেওয়া হয়নি। বিরোধীয় জায়গাটি এক সময়ে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ও পটিয়া পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান শামশুল আলম মাস্টার দেখাশোনা করতেন এবং পরবর্তীতে তার ভাগিনা উপজেলার হাইদগাও এলাকার জাহাঙ্গীর আলম জায়গাটির মালিক হন।

পটিয়া পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বলেন, বহুতল ভবনের ইমারত নির্মাণে কোনো ধরনের অনুমোদন নেওয়া হয়নি। যার কারণে কাজ বন্ধ রাখার জন্য প্রবাসী মো. আইয়ুব আলীকে একটি নোটিশও দেওয়া হয়েছে।

পটিয়া পৌরসভার মেয়র অধ্যাপক হারুনুর রশীদ এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং থানা প্রশাসনকে জানিয়েছেন বলে জানান।

একুশে/কেএ/এটি