২১ এপ্রিল ২০১৯, ৭ বৈশাখ ১৪২৬, শনিবার

যেভাবে উত্থান ‘গুলি সাইফুলের’

প্রকাশিতঃ মঙ্গলবার, এপ্রিল ৯, ২০১৯, ৯:০০ অপরাহ্ণ


চট্টগ্রাম: পাঁচ বছরেরও বেশি আগে চট্টগ্রাম নগরে চাঁদাবাজির মাধ্যমে মো. সাইফুলের (৩০) অপরাধে হাতেখড়ি হয়। ২০১৪-১৫ সালে চাঁদাবাজি ও মারধরের অভিযোগে তিনটি মামলা হয় সাইফুলের বিরুদ্ধে। সর্বশেষ ৬ এপ্রিল এক যুবলীগকর্মীকে গুলি করে খুনের মামলায় প্রধান আসামি করা হয় তাকে। অপরাধ জগতে ‘গুলি সাইফুল’ নামেই বেশি পরিচিত এ সন্ত্রাসী মঙ্গলবার ভোররাতে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাইফুলের গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বাঁশখালীর ইলশা গ্রামে। তার বাবার নাম রফিক আহমেদ। নগরীর বাকলিয়া থানার সবুজবাগ আবাসিক এলাকায় থাকেন তারা। সাইফুলের বড় ভাই আজিজুল ইসলাম বিএনপির ক্যাডার হিসেবে এলাকায় পরিচিত। আজিজের বিরুদ্ধে রয়েছে নানা অভিযোগে ১০ থেকে ১২টি মামলা।

বিএনপির শাসনামলে বাঁশখালী ও বাকলিয়া-চকবাজার এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করে বেড়াতেন আজিজুল ইসলাম। পরে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে আজিজুল ‘আন্ডারগ্রাউন্ডে’ চলে যান। তবে তার পথে হাঁটা শুরু করেন ছোটভাই সাইফুল। একই সময় থেকে যুবলীগ নামধারী চকবাজারের এক সন্ত্রাসীর ছত্রছায়ায় থাকা শুরু করেন সাইফুল। ধীরে ধীরে হয়ে উঠেন ওই সন্ত্রাসীর ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চকবাজারের একজন বাসিন্দা জানান, যুবলীগ নামধারী ওই সন্ত্রাসীর নেতৃত্বে নানা অপরাধে যুক্ত ছিলেন সাইফুল। তারা বাকলিয়া-চকবাজার থানার সীমানায় থাকা ডিসি রোড়, খালপাড় এলাকায় নীরব চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস করছে। তবে বিপদে পড়ার আশঙ্কায় সাধারণ মানুষ এসব বিষয়ে সবসময় পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন না। তাদের ধারণা, পুলিশে অভিযোগ দিয়ে লাভ নেই। তাই যা দিয়ে পারা যায় সন্ত্রাসীদের সঙ্গে সমঝোতা করছেন মানুষজন।

ডিসি রোডের একজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজি, বিতর্কিত জমির দখল-বেদখল ও মাদকব্যবসা ঘিরে এখানে যুবলীগ-ছাত্রলীগ নামধারী সন্ত্রাসীরা সক্রিয়। নির্মাণ-সামগ্রী সরবরাহের কাজ পেতেও তারা ভয় দেখায়, সন্ত্রাস সৃষ্টি করে। যে ইট ৫ টাকায় কেনা সম্ভব সেটা তাদের কাছে কিনতে হয় ১২-১৪ টাকায়। এক ফুট বালু ২০ টাকা হলেও তারা বিক্রি করে ৬০ টাকা। এভাবে অভিনবপন্থায় চাঁদাবাজি করে তারা।

নানা অভিযোগে সমালোচনার মুখে থাকা যুবলীগ নেতা পরিচয়দানকারী নূর মোস্তফা ওরফে টিনুর সঙ্গে ছবি তুলতে দেখা গেছে সাইফুলের। টিনুর ঘনিষ্ঠজন হিসেবেও পরিচিত সাইফুল। গত ৬ এপ্রিল বাকলিয়ার খালপাড় এলাকায় ‘কিশোর প্রেমের বিরোধে’ লোকমান নামের এক যুবলীগকর্মী খুনের ঘটনার সাইফুলের জড়িত থাকার অভিযোগ উঠার পর টিনু সাংবাদিকদের কাছে স্বীকার করেছেন, সাইফুল তারই অনুসারী।

এদিকে লোকমানকে গুলি করে খুনের বিষয়টি সোমবার রাতে গ্রেপ্তারের পর পুলিশের কাছে সাইফুল স্বীকার করেন বলে একুশে পত্রিকাকে জানান বাকলিয়া থানার ওসি প্রণব চৌধুরী। এরপর হত্যাকাণ্ডে ব্যবহার করা অস্ত্রটি উদ্ধারের জন্য তাকে নিয়ে কল্পলোক আবাসিক এলাকায় অভিযানে যায় পুলিশ। সেখানে সাইফুলকে ছাড়িয়ে নিতে তার সহযোগীরা পুলিশকে লক্ষ করে গুলি করে। পুলিশও তখন পাল্টা গুলি চালালে সাইফুল গুলিবিদ্ধ হয়। পরে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

বাকলিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মঈন উদ্দিন একুশে পত্রিকাকে বলেন, সাইফুলকে আমরা সন্ত্রাসী, খুনের আসামি হিসেবে চিনি। ২০১৪ সাল থেকেই চাঁদাবাজিতে যুক্ত ছিল সাইফুল। চাঁদাবাজি ও মারধরের ঘটনায় ২০১৪-১৫ সালের দিকে তার বিরুদ্ধে চকবাজার থানায় একটি ও বাকলিয়া থানায় দুটি মামলা দায়ের হয়েছে।

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (দক্ষিণ) এস এম মেহেদী হাসান একুশে পত্রিকাকে বলেন, সন্ত্রাস ও খুনের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ ছিল সাইফুলের বিরুদ্ধে। পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে সে নিহত হয়েছে। আমরা অনুরোধ জানাবো, কেউ সন্ত্রাস, চাঁদাবাজির শিকার হলে তারা যেন আমাদের কাছে লিখিত অভিযোগ দেয়। তাহলে আমরা উপযুক্ত পদক্ষেপ নিতে পারবো।

একুশে/এসআর/এটি