২১ এপ্রিল ২০১৯, ৭ বৈশাখ ১৪২৬, শনিবার

বর্ণিল আয়োজনে চট্টগ্রামে বর্ষবরণ

প্রকাশিতঃ রবিবার, এপ্রিল ১৪, ২০১৯, ৫:২৫ অপরাহ্ণ


চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম নগরজুড়ে নানা আয়োজনে বাংলা নববর্ষকে বরণ করা হয়েছে। বর্ষবরণের প্রতিটি আয়োজনে ছিল নানা বয়সী নারী-পুরুষের উপচে পড়া ভিড়। মূল আয়োজন ছিল নগরীর ডিসি হিলে।

সম্মিলিত পয়লা বৈশাখ উদযাপন পরিষদের উদ্যোগে ৪০ বছর ধরে এ আয়োজন করা হচ্ছে। ভোর ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চলে অনুষ্টানমালা।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন, সিটি করপোরেশন এবং বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, এনজিও ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা বর্ণাঢ্য আয়োজনে বাংলা নববর্ষকে স্বাগত জাািনয়ে দিনব্যাপী অনুষ্টানের মাধ্যমে উদ্যাপন করেছে।

জেলা প্রশাসন সার্কিট হাউস থেকে সকালে বর্ণাঢ্য শোভা যাত্রা বের করেন। এতে নেতৃত্ব দেন বিভাগীয় কমিশনার আবদুল মান্নান ও জেলা প্রশাসক ইলিয়াস হোসেন।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দিনের নেতৃত্বে মঙ্গল শোভা যাত্রা বের করেন এম এ আজিজ স্টেডিয়াম সংলগ্ন জিমনেশিয়াম থেকে।

এদিকে নগরীর সিআরবি শিরিষতলায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে বর্ষবরণ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। সকাল পৌনে ৮টায় শুরু হয় বর্ষ বরণের অনুষ্ঠান শেষ হয়েছে সন্ধ্যায়।

মূলত রোববার সকালে নতুন সূর্যোদয়ের পরই চট্টগ্রাম নগরীতে শুরু হয় বৈশাখের আবাহন। নগরীর ডিসি হিল, সিআরবির শিরীষতলা- এই দু’টি মূল ভেন্যু তো আছেই, নগরজুড়ে এমন কোনো সড়ক, জনপদ, অলিগলি নেই যেখানে বর্ষবরণের উন্মাদনার ছোঁয়া লাগেনি। দিন কেটেছে বৈশাখের গান, নতুন শাড়ি, নতুন পাঞ্জাবি জড়িয়ে অলি-গলিতে সরব পদচারণা উৎবসপ্রিয় চট্টগ্রামবাসীর।

সিআরবি সিরিষতলায় নববর্ষ উদযাপন পরিষদ চট্টগ্রামের উদ্যোগে বর্ষবরণ ১৪২৬ অনুষ্ঠানের প্রথম অংশে ছিল সাংস্কৃতিক সংগঠন গুলোর দলীয় পরিবেশনা। দলীয় পরিবেশনায় অংশ নিয়েছে ভায়োলিনিস্ট চিটাগং, আনন্দধ্বনি, সংগীত ভবন, বোধন আবৃত্তি পরিষদ, সুন্দরম শিল্পগোষ্ঠী, বাংলাদেশ রেলওয়ে সাংস্কৃতিক ফোরাম, প্রমা আবৃতি সংঘ। সমবেত নৃত্য, সংগীত ও আবৃত্তির পাশাপাশি ছিল একক পরিবেশনা। দ্বিতীয় পর্বে বিকেল দুটায় শুরু হয় সাহাবউদ্দিনের বলী খেলা।

ডিসি হিল ও সিআরবিতে বর্ষবরণ উৎসবকে ঘিরে ছিল কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা। সকাল থেকে র‌্যাব-পুলিশের কড়া নজরদারি ছিল দুটি অনুষ্ঠানস্থলে। ডিসি হিলের প্রবেশমূখে নিরাপত্তা তল্লশির ব্যবস্থা করা হয়। দুটি আয়োজনকে ঘিরেই বৈশাখী মেলা বসে। বিভিন্ন কারুপণ্য, খেলনা, গৃহস্থালির পণ্যসহ নানা ধরনের খাবার ছিল মেলায়।

চট্টগ্রামে বর্ষবরণের বিভিন্ন আয়োজনে কেউ পরিবার নিয়ে দলবেঁধে, কেউবা হাজির হন বন্ধুদের নিয়ে। সবার পোশাকে ছিল বৈশাখের বর্ণিল সাজ। কারও গালে, কারও কপালে রংতুলির আঁচড়ে লেখা ছিল ‘শুভ নববর্ষ-১৪২৬’।

ডিসি হিলে সম্মিলিত পহেলা বৈশাখ উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক আহমেদ ইকবাল হায়দার বলেন, ‘পহেলা বৈশাখ বাঙালির প্রাণের উৎসব। আমাদের বড় পরিচয় আমরা বাঙালি। এই একটি উৎসবে আমরা ধর্ম নির্বিশেষে সব মানুষ একত্রিত হই। কোনো বিধিনিষেধ দিয়ে বাঙালিকে তার এই প্রাণের আয়োজন থেকে দূরে সরিয়ে রাখা যাবে না।’

সিআরবি’র আয়োজক সংগঠন নববর্ষ উদযাপন পরিষদের সংগঠক ডা.চন্দন দাশ বলেন, যুগে যুগে বাঙালি জাতির আবহমান উৎসবকে ধর্মের বিধিনিষেধ দিয়ে আটকানোর চেষ্টা হয়েছে। এবারও বর্ষবরণের আয়োজনে চট্টগ্রামে যে মানুষের ঢল নেমেছে, সেটা প্রমাণ করে যে বাঙালি তার জাতিসত্তার আবহমান ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।

‘নন্দিত স্বদেশ, নন্দিত বৈশাখ’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে চট্টগ্রামে পহেলা বৈশাখকে স্বাগত জানিয়ে বের করা মঙ্গল শোভা যাত্রায় ফুটে উঠে বিপন্ন কর্ণফুলী নদীকে বাঁচানোর আকুতি।

রোববার সকাল ১০টায় নগরের সার্সন রোডে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় চারুকলা ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে শুরু হয় মঙ্গল শোভাযাত্রা। কাজীর দেউড়ী, প্রেসক্লাব, সার্সন রোড প্রদক্ষিণ করে এ শোভাযাত্রা।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় চারুকলা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক প্রণব মিত্র চৌধুরী বলেন, এবারের শোভাযাত্রায় তুলে ধরা হয়েছে বিপন্ন কর্ণফুলী নদীকে। প্রতীকী নারীর মূখাবয়বে এক কানে ছিল দুল, অন্যটি খালি। চোখে ঝরছে জল।

এছাড়া বড় আকারের মাছ, নৌকা-সাম্পান, হরেক রঙের মূখোশ সহ নানান প্রতিকৃতি নিয়ে চারুকলার সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থী, শিক্ষকসহ সর্বস্তরের মানুষ মঙ্গল শোভাযাত্রায় অংশ নিয়েছেন।