২৩ এপ্রিল ২০১৯, ৯ বৈশাখ ১৪২৬, সোমবার

কর্মবিরতি: দেশব্যাপী নৌযান চলাচল বন্ধ

প্রকাশিতঃ মঙ্গলবার, এপ্রিল ১৬, ২০১৯, ১:১৭ অপরাহ্ণ


ঢাকা: বেতনভাতা বৃদ্ধি, নিরাপত্তা, নৌপথে চাঁদাবাজি বন্ধসহ ১১ দফা দাবিতে দেশব্যাপী লাগাতার কর্মবিরতি পালন করছেন নৌযান শ্রমিকরা। নৌযান শ্রমিকদের একাংশের ডাকে সোমবার দিবাগত রাত ১২টা থেকে এই কর্মবিরতি শুরু হয়।

এর ফলে দেশের অভ্যন্তরীণ রুটে নৌযান চলাচল বন্ধ আছে। চরম দুর্ভোগে পেড়েছেন যাত্রীরা।

বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও বরিশাল অঞ্চলের সভাপতি আবুল হোসেন বলেন, শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি, নৌপথে নিরাপত্তা ও চাঁদাবাজি বন্ধসহ ১১ দফা দাবি না মানা পর্যন্ত নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের কর্মবিরতি চলবে। দাবি আদায়ের লক্ষ্যে গতকাল রাত ১২টার পর থেকে সব ধরনের পণ্য ও যাত্রীবাহী নৌযানে ধর্মঘট ডেকেছেন তাঁরা।

গতকাল ঢাকায় শ্রম প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ানের সঙ্গে আলোচনা করে কর্মবিরতি প্রত্যাহার করার বিষয়ে জানতে চাইলে আবুল হোসেন বলেন, অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির কর্মসূচি আহ্বান করেছেন বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন। এই সংগঠনের পক্ষ থেকে কর্মসূচি প্রত্যাহারের এমন কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি। একটি মহল এ ধরনের বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।

এর আগে গত শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে ১৫ এপ্রিলের মধ্যে নৌ শ্রমিকদের ১১ দফা দাবি বাস্তবায়িত না হলে ১৫ এপ্রিল মধ্যরাত ১২টা ১ মিনিট থেকে কর্মবিরতি পালনের ঘোষণা দেন বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের নেতারা।

ওই সমাবেশে বক্তারা বলেন, ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে ১১ দফা দাবি নিয়ে সরকার, মালিক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়ে জানানোর পরও কার্যকরী কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। যে কারণে কর্মবিরতিতে যেতে বাধ্য হচ্ছি আমরা।

শ্রমিকদের ১১ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে, নৌপথে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, শ্রমিক নির্যাতন বন্ধ, সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার এবং নৌযান শ্রমিকদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। দুর্ঘটনায় কর্মস্থলে কোনো শ্রমিকের মৃত্যু হলে তার পরিবারকে ১০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। সেই সঙ্গে সমুদ্র ভাতা ও রাত্রিকালীন ভাতা নির্ধারণ করতে হবে।

এদিকে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই লাগাতার কর্মবিরতি চলবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের নেতারা।