২৩ এপ্রিল ২০১৯, ৯ বৈশাখ ১৪২৬, সোমবার

লোহাগাড়ায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরির হিড়িক

প্রকাশিতঃ বুধবার, এপ্রিল ১৭, ২০১৯, ৬:১১ অপরাহ্ণ


রায়হান সিকদার, লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলায় ১০৩টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে মাত্র ২১টিতে নৈশপ্রহরী রয়েছে। এ অবস্থায় স্কুলগুলোতে চুরির হিড়িক পড়েছে। গত এক মাসে কয়েকটি স্কুলে চুরির অভিযোগ পুলিশ পেলেও এখনো কেউ গ্রেপ্তার হয়নি।

জানা গেছে, গত ১৪ মার্চ রাতে লোহাগাড়া মজিদের পাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে চুরির ঘটনা ঘটে। চোরের দল সীমানা দেয়ালের গেইট ও অফিস কক্ষের তালা ভেঙে স্টীলের একটি আলমিরা নিয়ে যায়। আলমিরাতে থাকা বিদ্যালয়ের গুরত্বপূর্ণ কাগজপত্র অফিস কক্ষের মেঝেতে এলোমেলো অবস্থায় পড়ে থাকে।

এ ব্যাপারে গত ১৫ মার্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।

একইদিন লোহাগাড়া আইডিয়াল স্কুলেও চুরির ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক হামিদুল হোসাইন লোহাগাড়া থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।

অপরদিকে গত ১১ মার্চ রাতে উপজেলা সদরে ফয়েজ শফি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে চুরির ঘটনা ঘটেছে। চোরেরা জানালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। আলমিরা ভেঙে ফাইলপত্র তছনছ করে, সৌরবিদ্যুতের বড় ১টি ব্যাটারি, ১টি বৈদ্যুতিক পাকাসহ বেশকিছু জিনিসপত্র নিয়ে যায় বলে অভিযোগ। এ ব্যাপারে ১২ মার্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দেব প্রসাদ বড়ুয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দেন।

গত ৮ এপ্রিল রাতে একই বিদ্যালয়ে আবার চুরির ঘটনা ঘটেছে। পরদিন সকালে বিদ্যালয়ের এসে শিক্ষকরা দেখতে পান সিলিং ফ্যানগুলো নেই। এছাড়াও বেশকিছু ব্যবহার্য জিনিসপত্র ও গুরত্বপূর্ণ ফাইলপত্র কে কা কারা নিয়ে যায়। এ ব্যাপারে পরদিন ৯ মার্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দেব প্রসাদ বড়ুয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

এদিকে গত ৬ এপ্রিল তৈয়ব আশরাফ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চুরির ঘটনা ঘটে। পরদিন সকালে বিদ্যালয়ে এসে শিক্ষকরা দেখতে পান ৩টি ফ্যান, ১টি ব্যাটারি, ১টি প্যানেল ও গুরুত্বপূর্ণ ফাইলপত্র নেই। এ ব্যাপারে ৯ এপ্রিল বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুবোধ কান্তি সিকদার লোহাগাড়া থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।

এছাড়াও গত ৩ এপ্রিল উপজেলা সদর ফয়েজ শফি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় হল রুমে উপজেলা শিক্ষা অফিসের মালামাল চুরির ঘটনা ঘটেছে। চোরেরা ২০১৭ ও ২০১৮ সালের ৫ম শ্রেণীর সমাপনী পরীক্ষার উত্তরপত্র, ২টি টাইপ মেশিন, ২০১৬-২০১৭ সালের ৪০-৫০ বান্ডিল বই (প্রতি বান্ডিলে ৫০-১০০টি বই), ৪টি সিলিং ফ্যান ও বেশকিছু পুরনো জিনিসপত্র নিয়ে যায় বলে অভিযোগ। এ ব্যাপারে ৪ মার্চ লোহাগাড়া থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. আকরাম হোসেন।

এভাবে স্কুলে চুরির ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় গত ১০ এপ্রিল লোহাগাড়া উপজেলা পরিষদের আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মাসিক সভায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য প্রফেসর ড. আবু রেজা মুহাম্মদ নেজাম উদ্দিন নদভী। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরির ঘটনারোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে লোহাগাড়া থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

লোহাগাড়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মুহাম্মদ জহির উদ্দিন বলেন, এসব চুরির ঘটনার তদন্ত চলছে। জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দপ্তরী কাম নৈশপ্রহরী নিয়োগের প্রক্রিয়া চালু হয়েছিল। তৎকালীন শিক্ষা অফিসার মেরাজ উদ্দিন একটি স্কুলের শিক্ষিকার কাছ থেকে ঘুষগ্রহণের সময় দুদকের হাতে ধরা পড়েন। তিনি চাকুরিচ্যুত হন। ফলে দপ্তরী কাম নৈশপ্রহরী নিয়োগ বন্ধ হয়ে যায়।

২০১৭ সালের দিকে পুণরায় দপ্তরী কাম নৈশপ্রহরী নিয়োগের প্রক্রিয়া চালু হয়। তবে এ কার্যক্রমকে হাতিয়ার হিসাবে গ্রহণ করে একটি মহল ব্যাপকহারে বেকার যুবকদের কাছ থেকে টাকা-পয়সা গ্রহণ করে বলে অভিযোগ। সে সময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহবুব আলম ও শিক্ষা অফিসার মানবেন্দ্র নারায়ন বদলি হয়ে গেলে নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায়।