শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২০, ২৬ আষাঢ় ১৪২৭

স্বপ্নপূরণের পথে আইসোলেশন সেন্টার, তিন অন্তরালের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা

প্রকাশিতঃ বৃহস্পতিবার, জুন ৪, ২০২০, ১:৩৪ পূর্বাহ্ণ


চট্টগ্রাম : বাধাবিপত্তি ডিঙিয়ে অবশেষে যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে ‘করোনা আইসোলেশন সেন্টার চট্টগ্রাম’ নামের ১০০ শয্যার আইসোলেশন সেন্টার।

নগরের হালিশহরের ‘প্রিন্স অব চিটাগাং কমিউনিটি কমপ্লেক্সে’ অস্থায়ীভাবে তৈরি করা এই আইসোলেশন সেন্টারে কম এবং মাঝারি উপসর্গ আছে এমন করোনা রোগীদের রাখা হবে।

করোনা আইসোলেশন সেন্টার চট্টগ্রাম- এর প্রধান উদ্যোক্তা বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলা চট্টগ্রাম মহানগর শাখার সভাপতি মুহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন আইসোলেশন সেন্টারটি গড়ে তোলার পেছনের গল্প তুলে ধরেছেন ফেসবুকে।

সাজ্জাদ হোসেন লিখেছেন, ‘চট্টগ্রামে যখন করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। প্রতিদিন পরিচিত মুখগুলো মৃত্যুর সাথে লড়াই করছেন, অনেকে মারা গিয়েছেন। বেসরকারি হাসপাতালগুলো এই রোগের চিকিৎসা করাচ্ছে না। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে পর্যাপ্ত বেড না থাকায় মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়েছে। সেই সময় আমি ভেবেছি অন্তত কিছু মানুষকে আইসোলেশন করে চিকিৎসা ও সেবার মাধ্যমে সুস্থ করে তুলতে পারি। হোক সেটা ১০ জন। এভাবে কয়েকজন বন্ধু ও ভাইদের সহযোগিতা নিলে সংখ্যাটা আরো বাড়ানো যায়।’

‘সেই চিন্তা থেকে বিষয়টা নিয়ে প্রথমে আলাপ করি সিনিয়র বড় ভাই চট্টগ্রামের আপোসহীন সাংবাদিক একুশে পত্রিকার সম্পাদক আজাদ তালুকদারে সাথে। যার সাথে আমার বিগত ১৫ বছরের সম্পর্ক। সেই সুবাদে যখনই কোনো আয়োজনে যুক্ত হই, বা হতে চাই তখনই তিনি মানসিক সাপোর্ট দিয়ে আমাকে এগিয়ে দেন। এবারো তেমনটা করলেন। বললেন ১০০ জনকে নিয়ে করেন। আপনার অনেক বন্ধু-ছোট ভাইরা আছে, সবাইকে সাথে নিয়ে নামলে সফল হবেন। ভালো কাজে সফলতা পাবেন। কথাটা মনে ধরাতে ফেসবুকে একটা পোস্ট দেই আমি।’

সেখানে বলেছি, ‘আমি একশ’জন থাকতে পারবে এমন একটা আইসোলেশন সেন্টার করতে চাই। যেখানে অক্সিজেন সাপোর্ট থাকবে, স্বাভাবিক চিকিৎসাগুলো হবে, থাকবে ভালোবাসাময় সেবা। এটা আমি কথা দিতে চাই এটা কোন আত্মপ্রচার প্রকল্প হবে না। আমি করেছি বলে আমিত্ব জাহিরের কোন প্রকল্প হবে না। এটা সত্যিকার অর্থে মানুষের জন্য একটা সেবার জায়গা হবে। সেখানে করোনা রোগীরা খাবে, চিকিৎসা পাবে, সেবা পাবে, মানসিক সাপোর্ট পাবে।

আমার এই উদ্যোগে কে সারথী হতে চান? হাত তুলুন। আমি একশজনের দায়িত্ব নিতে চাই। আপনি কতজনের দায়িত্ব নেবেন? আসুন একসঙ্গে কাজ করি। আমাদের শক্তিগুলো এক জায়গায় করি। ভালোবাসা গুলোকে ঐক্যবদ্ধ করি। ঐক্যবদ্ধ ভালোবাসার শক্তি অনেক বড় শক্তি।’

এরপর বড় ভাই, ছোট ভাইসহ অনেক বন্ধুর ফোন পাওয়া শুরু করেন বলে জানিয়ে বঙ্গবন্ধু শিক্ষা ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী মুহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন লিখেছেন, ‘সবাই এই উদ্যােগকে স্বাগত জানায় এবং সাথে থাকতে চায়। তখন মনের মধ্যে একটা স্পীড চলে আসে। সাথে সাথে ফোন করলাম বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম ভাইকে। যিনি কখনো আমার কোন কাজে না করেননি। যখন যে কাজ নিয়ে গিয়েছি কোনো প্রশ্ন না করে সে কাজে সহযোগিতা করেছেন। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। আমার পুরো পরিকল্পনা শুনে বলেছেন ‘কোথায় করবে? আমি সব ব্যবস্থা করে দিচ্ছি।’ আমিও কয়েকটি স্থানের কথা বলেছি সেখান থেকে উনি প্রিন্স অব চিটাগাং এর স্বত্ত্বাধিকারী আবুল বাশার আবু ভাইকে ফোন করে বলেন ক্লাবটা দিতে। আর আবু ভাইও এককথায় রাজি হয়ে যান। এভাবেই শুরু হয়ে যায় আমাদের কার্যক্রম।’

সাজ্জাদ লিখেন, ‘আবু ভাই একজন দানবীর মানুষ নন শুধু, একজন মানবিক মানুষও। নিজের ব্যবসার ক্ষতি করেই বিনা পয়সায় এই ক্লাবটা আমাদেরকে ব্যবহার করার সুযোগ দিয়েছেন। তার কাছে চট্টগ্রামবাসী ঋণী হয়ে থাকবে। আর আমিন ভাই শুধু আমাকে সাপোর্ট করে হলের ব্যবস্থা করে দেননি। প্রতিনিয়ত ফোন করে বিভিন্ন নির্দেশনা দিয়েছেন, সাহস যুগিয়েছেন, পরামর্শ দিয়েছেন। জানি সামনে বড় খরচ আছে সেটাও উনি ব্যবস্থা করে দেবেন।’

আইসোলেশন সেন্টার করার ক্ষেত্রে টিমওয়ার্কের তথ্য তুলে ধরে মুহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন লিখেছেন, ‘…যারা না হলে এই উদ্যােগ নিয়ে এগোতে পারতাম না। জাওইদ চৌধুরী, আ্যাডভোকেট টি আর খান ভাই, সাংবাদিক ইউনিয়নের কার্যনির্বাহী সদস্য মহরুম ভাই,স্পীকার কাউন্সিল এর সিইও ইমরান আহমেদ,আমার বন্ধু তৌহিদ, জাফর আল তানিয়ার, সাবিনা আপা, সাদ শাহরিয়ার, ব্যাংকার ইকরাম উল্লাহ, বন্ধুর মতো ছোট ভাই জাহাঙ্গীর, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর রেজাউল করিম, নাজিমুদ্দিন মাহমুদ শিমুল ভাই, সেজিম, সুমন, শাহাদাত নবী খোকা, ইফতেখার সাইমন ভাই, ডা. সাইফ, ডা. কামাল, ডা. মাসুম সহ ছোট ভাইরা। স্পীকার কাউন্সিলের পুরো অফিসটা ছেড়ে দিয়েছে ছোট ভাই ইমরান।সে আমার সব উদ্যােগগুলোতে নিজের মনে করে পাশে এসে দাঁড়ায়। যেটা আমি কখনো ভুলিনি।’

এ উদ্যোগে চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজম রনি আসায় পুরো উদ্যােগের গতি বেড়ে যায় উল্লেখ করে সাজ্জাদ লিখেন, ‘আমি আর রনি সিদ্ধান্ত নিই এই জায়গাটাতে আমরা কোনো রাজনৈতিক মতপার্থক্যকে প্রাধান্য দেবো না। সবার সহযোগিতায় আমরা করোনার বিরুদ্ধে লড়াই করবো। একসাথে কাধে কাধ মিলিয়ে করোনার সাথে লড়ে যাবো। আমাদের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে পাশে থাকবে বলে ফোন করে উৎসাহ দিয়েছে আমার বন্ধু প্রাক্তন এমইএস কলেজ ছাত্রনেতা আবু নাছের চৌধুরী আজাদ, প্রাক্তন ছাত্রনেতা ও কারা পরিদর্শক আজিজুর রহমান আজিজ, এমইএস কলেজ ছাত্র সংসদের জিএস আশরাফুল আলম বাচ্চু। তাদের প্রত্যেকের কাছে আমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। পাশাপাশি একাধিক বার ফোন করে পরামর্শ দিয়েছেন চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির প্রাক্তন সভাপতি শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী ভাই, আইনজীবী এমএ নাসের ভাই, হেলাল উদ্দিন ভাই, মাহমুদ সালাউদ্দিন চৌধুরী ভাই, শৈবাল দাশ সুমন ভাই, জাফর উল্লাহ ভাই, ওয়াহিদুল আলম শিমুল ভাই, জাকারিয়া হাসান ভাই, আলমগীর সবুজ ভাই। এছাড়াও আমার উপর একটা বিষয়ে রাগ করলেও সবসময় পাশে থাকবে বলেছে বন্ধু জাবেদুল আলম সুমন।’

‘আম্বুলেন্স সেবা দিয়ে পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মানবিক মানুষ আমিনুল হক ভাই। হেলাল নিজামী মামা, বাবলু মানিক ভাই ও নওশাদ মাহমুদ চৌধুরী রানা মামা ছাড়া বেশিদূর এগুতে পারবো না জানি। এমনিতেই উনাদের কাছে আমি সবসময় ঋণী হয়ে আছি।’

‘সবার যোগে আলো দেখবে আমাদের স্বপ্ন, আর সেই স্বপ্ন প্রাণ সঞ্চার করবে প্রাণে। জেগে উঠবে গুমরে কাঁদা মানবতা…’ লিখেছেন মুহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন।

### করোনা পরিস্থিতি, সাত কমিউনিটি সেন্টার ব্যবহারের জন্য দিতে চান আবু