রবিবার, ১২ জুলাই ২০২০, ২৮ আষাঢ় ১৪২৭

রাঙ্গুনিয়ায় ১০ হাজার গাছের বৃহৎ মাল্টা বাগান

প্রকাশিতঃ বৃহস্পতিবার, জুন ৪, ২০২০, ১০:৩৭ পূর্বাহ্ণ


নুরুল আবছার, রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) থেকে : ছোট ছোট গাছে ঝুলছে থোকা থোকা মাল্টা। একেকটি গাছে ১৫-২০টি থেকে ৪০টি পর্যন্ত। গাঢ় সবুজ রঙের মাল্টাগুলোর কোনো কোনোটিতে হলুদাভ ভাব এসেছে। রাঙ্গুনিয়ার দুধপুকুরিয়া এলাকায় ৪০ কানি জমিতে ১০ হাজারের বেশি গাছ নিয়ে মাল্টা বাগানটি গড়ে তুলেছেন সুখবিলাস ফিশারীজ অ্যান্ড প্ল্যানটেশন- এর স্বত্বাধিকারী এরশাদ মাহমুদ।

মাল্টার আদি নিবাস হলো হিমালয়ের আশপাশের এলাকায়। এখন এই ফল সবচেয়ে বেশি উৎপাদিত হয় উত্তর–পূর্ব ভারত, মিয়ানমার ও চীনের ইউনান প্রদেশে। একসময় মুখস্থ প্রবাদের মতো লোকে বলে দিত বাংলাদেশের মাটিতে মাল্টার চাষ সম্ভব নয়। কিন্তু বিশেষ পরিচর্যা দিয়ে ভালোভাবে যে মাল্টা উৎপাদন করা যেতে পারে, তা প্রমাণ করে দিয়েছেন উচ্চশিক্ষিত সফল উদ্যোক্তা এরশাদ মাহমুদ।

সরেজমিন বাগানে গিয়ে জানা যায়, রাঙ্গুনিয়ার দুধপুকুরিয়া অঞ্চলে ৪০ কানি জমিতে প্রথম দফায় সাড়ে সাত হাজার, দ্বিতীয় দফায় তিন হাজার উচ্চফলনশীল বারি-২ প্রজাতির মাল্টা চারা রোপন করেছেন তিনি। থোকায় থোকায় ধরা মাল্টা ফলে ভরে গেছে তাঁর বাগান।

বাগান সংশ্লিষ্টরা জানান, তিন বছর আগে বন বিভাগের পোমরা বিট কর্মকর্তা মাল্টাচাষি ইউনুসের মাধ্যমে ফটিকছড়ি উপজেলার হোয়াকো বাজার থেকে চারা সংগ্রহ করেন এরশাদ মাহমুদ। প্রথম বছর সাড়ে সাত হাজার চারা সংগ্রহের পর দ্বিতীয় বছর নিজেই নতুন চারা উৎপন্ন করে।

নতুন উৎপন্ন চারা থেকে তিন হাজার নিজের কাছে রেখে দিয়ে বাকি ৮-১০ হাজার চারা বিক্রি করে দিয়েছেন তিনি। ফলনের প্রথম বছরে প্রতি গাছ থেকে ন্যূনতম ৩-৪ কেজি মাল্টা সুলভমূল্যে বিক্রি করতে পেরেছেন। এ বছর আরও বেশি পরিমাণে বিক্রি করার সম্ভাবনা দেখছেন তিনি।

ভিটামিন সি-সহ নানা ধরণের পুষ্টি সমৃদ্ধ ও ফরমালিনমুক্ত হওয়ায় দূরদূরান্ত থেকেও অনেকে মাল্টা কিনতে আসেন তাঁর কাছে। এদিকে, হাতের নাগালে সুলভমূল্যে মাল্টা কিনতে পেরে আনন্দিত স্থানীয় ক্রেতাসাধারণও।

মাল্টা চাষের বিষয়ে এরশাদ মাহমুদ একুশে পত্রিকাকে বলেন, অনাবাদী জমিকে আবাদ করে বেকারদের কর্মসংস্থান ও কৃষকদের অনুপ্রাণিত করতেই মাল্টা চাষে মনোনিবেশ করেছেন তিনি।

এদিকে শুধু মাল্টাচাষ নয়, গয়াল, গরু, মহিষ, ছাগল, হাঁস এমনকি মুরগী খামারও করেন এরশাদ মাহমুদ। করেন মৎস্যচাষ। নিজ এলাকায় গড়ে তুলেছেন বৃহদাকারের ৫০টি মৎস্য খামার। করেছেন মাইলের পর মাইল বনায়ন। ২০১৩ সালে সেরা মৎস্যজীবী হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে পুরস্কার গ্রহণ করেন এরশাদ মাহমুদ। এরশাদের বিভিন্ন প্রকল্পে বর্তমানে তিন শতাধিক মানুষ কাজ করছেন।

চট্টগ্রাম সরকারি মুসলিম হাই স্কুল থেকে ১৯৮০ সালে এসএসসি, সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ থেকে এইচএসসি এবং রাঙ্গামাটি সরকারি কলেজ থেকে বিএ পাশ করে আইন কলেজে ভর্তি হয়েছিলেন এরশাদ মাহমুদ। প্রয়াত আইনজীবি পিতা নুরুচ্ছফা তালুকদার চেয়েছিলেন ছেলে তার মস্তবড় আইনজীবি হবে। কিন্তু বাবার এই চাওয়া কখনো টানেনি তাঁকে। তাই আইনপড়া অসম্পন্ন রেখেই পাড়ি জমান গ্রামে। একে একে গড়ে তোলেন বনায়ন, মৎস্যপ্রকল্প, গরু-গয়াল-মহিষ ও ছাগলের খামার।

এরশাদ মাহমুদ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এমপির ছোটভাই। তাঁর প্রয়াত পিতা অ্যাডভোকেট নুরুচ্ছফা তালুকদার চট্টগ্রাম আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও একাধিকবার পাবলিক প্রসিকিউটর ছিলেন।