
চট্টগ্রাম : করোনা দুর্যোগে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকার নানামুখী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে চলেছে জানিয়ে চট্টগ্রাম সিটি মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেছেন, সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতাল অধিগ্রহণ, একের পর এক পরীক্ষা ল্যাব চালু, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নমুনা সংগ্রহ বুথ খোলার উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধে জয়ী হতে হলে সরকারের পাশাপাশি নাগরিকদেরকেও কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে। সমাজের বিত্তবান অগ্রসর শ্রেণিকে জনসেবায় আত্মনিয়োগ করার এখনই মুখ্য সময়। ব্যবসায়ী,সমাজহিতৈষি ব্যক্তি,-প্রতিষ্ঠানকে করোনা আইসোলেশন সেন্টার চালুকরণ, নমুনা বুথ খোলা বা ত্রাণ সামগ্রী বিতরণে সরকারের সাথে একাত্ম হতে হবে।
শুক্রবার (৫ জুন) বিকেলে নগরের হালিশহরস্থ প্রিন্স অব চিটাগাংয়ে তারুণশক্তির নির্মিতব্য আইসোলেশন সেন্টারের অগ্রগতি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন মেয়র আ জ ম নাছির। মেয়র একশ’ শয্যার করোনা-আইসোলেশন সেন্টার আর্থিক সহযোগিতাসহ সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
এর আগে বিকেল বিকেল ৪টায় সিটি মেয়রের উদ্যোগে আগ্রাবাদ এক্সেস রোডে সিটি কনভেনশন হলে ২৫০ শয্যার করোনা আইসোলেশন সেন্টারের নির্মাণ-অগ্রগতি পরিদর্শণ করেন মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। আগামি ১৫ জুনের মধ্যে আইসোলেশন সেন্টারটি চালুর পরিকল্পনায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি তদারক করেন মেয়র।
এসময় কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপ প্রচার সম্পাদক ও চলমান মানবিক কাজের নেপথ্যশক্তির মানুষ আমিনুল ইসলাম, একুশে পত্রিকা সম্পাদক আজাদ তালুকদার, ২৪ নং উত্তর আগ্রাবাদ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নাজমুল হক ডিউক, মেয়রের একান্ত সচিব আবুল হাশেম, সাতকানিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কুতুব উদ্দিন, চট্টগ্রাম মহানগরের প্রাক্তন যুবলীগ নেতা নেতা সংগঠক-সমাজসেবক হেলাল উদ্দিন, প্রাক্তন ছাত্রনেতা ওয়াহিদুল আলম শিমুল, আইসোলেশন সেন্টারের স্বপ্নদ্রষ্টা বঙ্গবন্ধু শিশুকিশোর মেলা চট্টগ্রাম মহানগরের সভাপতি মো. সাজ্জাদ হোসেন, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের কার্যনির্বাহী সদস্য মহররম হোসাইন, সংগঠক জাওইদ চৌধুরী, ইমরান আহমেদ, সাদ শাহরিয়ার, জাহাঙ্গীর আলম, অ্যাডভোকেট টি আর খান, নগর যুবলীগ নেতা সুমন দেবনাথ, জাবেদুল আলম সুমন, তাজ উদ্দিন প্রমুখ।
এসময় কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতা আমিনুল ইসলাম বলেন, করোনা-সংক্রমণ রোধ এবং চলমান সঙ্কটে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বঙ্গবন্ধুকন্যা, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা শুরু থেকেই রাতদিন পরিশ্রম করছেন। টেলিকনফারেন্সের মাধ্যমে একেবারে প্রান্তিক পর্যায়েও চিকিৎসক, নার্স এবং স্বাস্থ্যকর্মীর সাথে কথা বলছেন। নানা উৎসাহ, প্রণোদনা দিচ্ছেন। করোনা-সঙ্কটে এমন আন্তরিক, মানবিক প্রধানমন্ত্রী বিশ্বের আর কোথাও আছে কিনা আমার জানা নেই। বলেন আমিন।
হাসপাতাল থেকে রোগী ফিরিয়ে দেওয়া এবং চিকিৎসকদের অবহেলা প্রসঙ্গে আমিন বলেন, ডাক্তারদেরকে দ্বিতীয় ঈশ্বর ভাবা হয়। মানবসেবার মহান ব্রতই তাদের মুলমন্ত্র। এরপরও যদি তারা তাদের দায়িত্বপালনকে প্রশ্নবিদ্ধ করেন তাহলে সেটি হবে দুঃখজনক। দায়িত্ব এবং মানবতা জোর করে চাপিয়ে দেওয়া যায় না।
একশ’ শয্যা আইসোলেশন সেন্টার গড়ার আরেক নেপথ্যের মানুষ, একুশে পত্রিকা সম্পাদক আজাদ তালুকদার বলেন, ‘ত্রাণ নয়৷ প্রাণ দরকার। প্রাণরক্ষার জন্যে চাই মানবিক জাগরণ। সেই মানবিক জাগরণটাই বড় বেশি দরকার এই মুহূর্তে। জাতির সংকট-সন্ধিক্ষণের শুরু থেকে তাই করতে চাইছি। ডা. বিদ্যুত বড়ুয়ার মানবিক যাত্রারম্ভের পর এবার এগিয়ে এলো আরেক উদ্যমী তরুণ সাজ্জাত। তার ইচ্ছে এবং আগ্রহকে এগিয়ে দিতে আমরা সমবেত হয়েছি। আমাদের দরকার আরও কিছু মানবিক মানুষ। যাদের আছে মানবপ্রীতি, উদ্যম আর ঝুঁকি মোকাবিলার সাহস; তিনি যেই হোন, চরম শত্রু হলেও আপত্তি নেই, কথা দিচ্ছি ক্ষুদ্র অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতার ডালা নিয়ে হাজির হবো।
একশ’ শয্যা আইসোলেশন সেন্টারের অন্যতম উদ্যোক্তা, স্বপ্নদ্রষ্টা মো. সাাজ্জাত হোসেন বলেন, ‘ইচ্ছে থাকলে উপায় হয়। আর ভালো কাজে সকলে এগিয়ে আসে। মহামারী সময়ে রাজনীতি-গ্রুপিং দূরে ঠেলে দিয়ে আমরা সবাই করোনাযুদ্ধে নেমেছি। সবার সম্মিলিত উদ্যোগে একদিন আমরা করোনামুক্ত পৃথিবী গড়বো।
