
মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন, বাঁশখালী (চট্টগ্রাম): মোহাম্মদ আনছার সিকদার (২৪)। বাঁশখালীর ছনুয়া ইউনিয়নের আবাখালী গ্রামের অলীমিয়া সিকদার পাড়ার আবদুল জব্বার ও খাইরুন্নেছা দম্পতির ছেলে। ছোটবেলা থেকে ক্রিকেটের প্রতি ছিল তার আলাদা ঝোঁক।
শৈশবকাল থেকে তিনি ক্রিকেট খেলাকে খুব বেশি ভালবাসতেন। স্কুলফাঁকি দিয়ে চলে যেতেন ক্রিকেট মাঠে। গ্রামের বড়দের সাথে খেলার তেমন সুযোগ না পেলেও; বসে না থেকে বাড়ির আঙ্গিনায় ছোট ভাইকে নিয়ে প্রতিনিয়ত চালিয়ে যান অনুশীলন। ধীরে ধীরে নিজের প্রতিভার আলো ছড়াতে থাকেন।
পরবর্তীতে নিজ এলাকায় বড়দের সাথে খেলার সুযোগ পেয়ে তিনি একের পর এক চমক সৃষ্টি করেন। নিজ গ্রামের সিনিয়র খেলোয়াড়দের টপকে হয়ে উঠেন ‘আবাখালী সুপার কিং ক্রিকেট একাদশ’ ক্লাবের অধিনায়ক। ওই ক্লাবের অধিনায়কত্ব লাভের পর নিজের প্রতিভার জানান দেন আরো গতানুগতিকভাবে। এর পেছনে ছিল ‘আত্নবিশ্বাস’। ছোটবেলা থেকে ভাবতেন আর স্বপ্ন দেখতেন দূর-দূরান্তের মাঠে খেলবেন। স্বপ্ন আর ভাবনা বাস্তবে রূপ নিলো ‘আবাখালী সুপার কিং ক্রিকেট একাদশ’ ক্লাবের অধিনায়কত্ব লাভের পর। তাকে আর বেগ পেতে হয়নি।
ক্রিকেট জগতে তার প্রতিভা নিয়ে হইচই পড়ে যায় সর্বত্র। এরই অংশ হিসেবে ডাক আসে বিভিন্ন টুর্ণামেন্টে খেলার। ইতিমধ্যে বাংলাদেশ ক্রিকেট ট্যালেন্ট হ্যান্ট বাছাইপর্বে নির্বাচিত হয়েছেন। কিন্তু করোনার কারণে স্বপ্নভঙ্গ হলো আনছারের। এখন অপেক্ষার প্রহর গুণছেন জেলাপর্যায়ে বাছাইয়ের তারিখের জন্য।
জীবনের প্রথম ম্যাচে তেমন ভাল খেলতে না পারলেও; ২য় ম্যাচে চার-ছক্কা হাঁকিয়ে মাঠ কাঁপিয়ে দর্শক মাতিয়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেন এই ক্ষুদে ক্রিকেটার। এক ইনিংসে ৮৯ রান করে অপরাজিত ইনিংস সেই ম্যাচে এক ওভারে ৫টি ছক্কা হাঁকিয়ে ‘ম্যান অব দ্যা ম্যাচ’ পাওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করেন।
আনছার ‘আবাখালী সুপার কিং ক্রিকেট একাদশ’ ক্লাবের অধিনায়ক হওয়ার আগে দলটি অধিকাংশ ম্যাচে সফলতার মুখ দেখেনি। সে দায়িত্ব নেওয়ার পর দলকে এক অন্যান্য স্থানে নিয়ে যান। এর পেছনে রয়েছে তার দূরদর্শিতা ও কূটকৌশল। দলের সবার সাথে পরামর্শ করে ক্রিকেট মাঠে চমক সৃষ্টি করেন তিনি। অধিনায়কের নেতৃত্ব দেওয়ার সময় তিনি জাতীয় দলের ক্রিকেটার মাশরাফি বিন মর্তুজাকে অনুসরণ করেন।
ক্ষুদে ক্রিকেটার আনছারের ব্যাটিং স্টাইল দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেটার এবিডি বিলিয়ার্স এর মত। তাছাড়া তিনি ওয়ানডাউন ব্যাটিং করতে পছন্দ করেন। ২০১৪ সাল থেকে ক্রিকেট টুর্ণামেন্টে যাত্রা শুরু করলেও অধিনায়কত্ব পান ২০১৫ সালে। ২০১৫ সাল থেকে আবাখালী সুপার কিং ক্রিকেট একাদশ তার নেতৃত্বে ৩টি টুর্ণামেন্টে অংশ নেয়।
তৎমধ্যে প্রথম টুর্ণামেন্টে রানার্স আপ শিরোপা জেতার গৌরব অর্জন করে তার দল। এরপর ২য় ও ৩য় টুর্ণামেন্টে চ্যাম্পিয়ন শিরোপা জিতে আলোড়ন সৃষ্টি করে। এ পর্যন্ত অনেক টুর্ণামেন্টে খেলার সুযোগ হয়েছে অদম্য ক্রিকেটার আনছারের।
তৎমধ্যে চকরিয়া ডোমখালী ক্রিকেট টুর্ণামেন্ট,পুঁইছড়ি বহনাকাটা ক্রিকেট টুর্নামেন্ট,ছনুয়া মধুখালী ক্রিকেট টুর্ণামেন্ট, রাজাখালী ফৈজুন্নেছা হাই স্কুল ক্রিকেট টুর্ণামেন্ট,এয়ার আলী খান হাই স্কুল ক্রিকেট টুর্নামেন্ট, শেখেরখীল ফাঁড়ির মুখ ও মৌলভীবাজার ক্রিকেট টুর্নামেন্ট উল্লেখযোগ্য।
প্রত্যেক ম্যাচে তার সফলতার পাল্লাও ভারী। এ পর্যন্ত টুর্ণামেন্টে অংশ নিয়ে ১৭বার ‘ম্যান অব দ্যা ম্যাচ’ ২বার ‘ম্যান অব দ্যা সিরিজ’ ১বার টুর্ণামেন্ট সেরা ‘ব্যাটসম্যান’ নির্বাচিত হন।
তার ভবিষ্যত পরিকল্পনা কী জানতে চাইলে তিনি একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘জাতীয় দলে খেলার ইচ্ছা আছে। আল্লাহ্ পাক রাব্বুল আলামীন ক্রিকেট খেলার মাধ্যমে আমাকে অনেক সম্মানিত করেছেন। বাঁশখালীর যুবসমাজকে মাদকের ছোবল থেকে রক্ষা করে ক্রিকেটে অভ্যস্ত করাই আমার মূল লক্ষ্য। আমি সবার দোয়া ও ভালবাসা নিয়ে আরো এগোতে চাই।
