বিলুপ্তপ্রায় ৫০টি ডাহুক পাখি হত্যা, আদালতের স্বপ্রণোদিত মামলা


ফরিদপুর : ফরিদপুর জেলার সদরপুর থানাধীন কৃষ্ণপুর গ্রামে বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির প্রায় ৫০ টি ডাহুক পাখি হত্যার ঘটনায় স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলা করেছে আদালত।

বুধবার (১০ জুন) সকালে ফরিদপুরের সংশ্লিষ্ট আমলি আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট অরূপ কুমার বসাক স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলাটি করেন।

মামলাটি যতদ্রুত সম্ভব তদন্ত করে ২৪ জুনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ফরিদপুরের বিভাগীয় বন কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। তদন্ত কাজে সহযোগিতার জন্য সদরপুর থানার অফিসার ইনচার্জকেও (ওসি) নির্দেশ প্রদান করা হয়।

আদালতের আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির প্রায় ৫০ টি ডাহুক পাখি হত্যার উক্ত সংবাদটি সঠিক হলে তা একদিকে যেমন গর্হিত কাজ তেমনি “বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২” এর ৩৮ ধারা অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

এর আগে ফরিদপুরের সদরপুর থানাধীন কৃষ্ণপুর গ্রামে বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির প্রায় ৫০ টি ডাহুক পাখি হত্যার ছবি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে স্থানীয় জনসাধারণসহ পাখি এবং প্রকৃতি নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠন উদ্বেগ প্রকাশ করে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানায়।

ঘটনার বিষয়ে স্থানীয় বন বিভাগের ফরেস্টার সালাউদ্দিন একুশে পত্রিকাকে বলেন, গতকাল ঘটনাটি জানার পর আজকে বুধবার সকালে আমি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ শৈলডুবি এলাকার আনুমানিক শওকত ফকির নামে ৪৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তি পাখিগুলো হত্যা করেছেন। শওকত ফকিরের বাবা ওসমান ফকিরের সঙ্গে আমি কথা বলেছি, তিনি পাখি হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

তিনি বলেন, পাখি হত্যায় জড়িত শওকতকে তার বাড়িতে পাওয়া যায়নি। এলাকার লোকজন জানিয়েছে, সে খারাপ প্রকৃতির লোক। আগেও পাখি হত্যা করেছিল শওকত।

ফরিদপুর অঞ্চলের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. এনামুল হক ভূঁইয়া একুশে পত্রিকাকে বলেন, পাখি হত্যার তদন্তের বিষয়টি আমি একটু আগে আদালতের পক্ষ থেকে জেনেছি। ইতিমধ্যে তদন্ত কাজ শুরু করে দিয়েছি। দ্রুত তদন্ত শেষ করার চেষ্টা করছি।