
ফয়সাল বাপ্পী : পৃথিবীর মানুষগুলো আজ বড় অসহায়, ঠিক তেমনি আজ আক্রান্ত বন্দরনগরী চট্টগ্রাম। নির্মম ভাইরাসের আক্রমণের সাথে বাড়ছে মৃত্যর সংখ্যা, মুক্তি চাই, প্রতিষেধক চাই-কিন্তু নেই।
ভাইরাস যুদ্ধ, মানুষ কুপোকাত! পৃথিবীর অন্যান্য প্রাণীর অবাধ বিচরণ দেখে মনে হচ্ছে প্রকৃতির বড় অভিশাপে আক্রান্ত মানুষজাতি। প্রকৃতির অভিশাপ এত নির্মম! এই প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি আমার জন্মস্থান চট্টগ্রাম। ভাইরাসের করালগ্রাসে সর্বোচ্চ কঠিন পরিস্থিতিতে প্রিয় চট্টগ্রাম।
অথচ বাংলাদেশের ইতিহাসের সাথে চট্টগ্রাম জড়িয়ে আছে অঙ্গাঅঙ্গিভাবে। দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী খ্যাত চট্টগ্রাম আজ মৃত্যুপুরী। অথচ এই চট্টগ্রামে সর্বদাই অগ্রভাগে নেতৃত্ব দিয়েছে বাংলাদেশকে।
কত স্বনামধন্য রথী-মহারথী রয়েছে এই চট্টগ্রামে। এই ক্রান্তিলগ্নে সবাই যখন নিরাপদে থাকতে ব্যস্ত, একজন সিটি মেয়র, চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, বঙ্গকন্যার স্নেহের আলহাজ্ব আ.জ.ম নাছির উদ্দীন ৬০ লক্ষ মানুষের সেবায় জীবনবাজি রেখে শুরু থেকে প্রতিদিন কাজ করে যাচ্ছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন বাস্তবায়নে চট্টগ্রামকে বাঁচাতে নিজের জীবনের কথা না ভেবে নির্বিঘ্ন শ্রম দিয়ে যাচ্ছেন। অথচ তিনিও কারো স্বামী, কারো বাবা, কারো সন্তান। পরিবার পরিজন ছেড়ে কখনো এটা, কখনো সেটা, কর্মময় দিন পার করছেন। কারণ তিনি জানেন, চট্টগ্রাম করোনামুক্ত না হলে মুখ থুবড়ে পড়বে বাংলাদেশের অর্থনীতি, মহা সংকটে পড়বে প্রিয় মাতৃভূমি।
অথচ তাঁরও জীবন আছে, তিনিও ভাইরাসমুক্ত নন। বঙ্গবন্ধুর আদর্শের লালনকারী ব্যক্তিটির পিছনে একটি পক্ষ সর্বদাই কুপ্রচার, কুকথায় ব্যস্ত।
এর স্বাক্ষী চট্টগ্রাম এবং এর বিচারও করবে চট্টগ্রামের জনগণ-প্রশ্ন রেখে বলতে চাই আ জ ম নাছির উদ্দীনের বিকল্প কতজন, এই দুর্দিনে কই আপনারা? হয়ত মেয়র নাছির বিকল্প পাবে চট্টগ্রাম, কিন্তুু চট্টলার মানুষের বিপদের বন্ধু নাছির উদ্দীনের বিকল্প কেউ হতে পারবে না,আমি সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করছি চট্টল অভিভাবকের জন্য, এই বিপদে মেয়র ব্যতিত কারো সময়োপযোগী কার্যক্রম চট্টলা দেখেনি।
বাংলাদেশের সূচনালগ্ন থেকে সাংবাদিকদের অবদান অনস্বীকার্য। সাংবাদিকের কলমের শক্তি কত অপশক্তি বিনাশ হয়েছে তা দৃশ্যমান। কিন্তু আজকাল তথ্যপ্রযুক্তির বিস্ময় সাফল্যকে অপব্যবহার করে কিছু অনলাইন পোর্টাল ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করতে ব্যস্ত। দেশের এই সংকটকালে যেখানে করোনামুক্তির উপায়, প্রতিরোধ, সচেতনতা নিয়ে সংবাদ প্রচার হবে, তা না করে অপসাংবাদিকতার জয়জয়কার ব্যক্তিবিশেষে, প্রতিষ্ঠানে।
চট্টগ্রামে সরকারের নির্বাচিত মন্ত্রী, এমপি- তাঁদের কার্যক্রম এত ধীর কেন? খুব জানতে ইচ্ছে করে কখন উনারা জাগবে? লাশের সারি আর কত দীর্ঘ হলে তাদের ঘুম ভাঙবে?
সবার সমন্বিত চেষ্টায় এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ মোকাবেলা করতে হবে। এটা একার পক্ষে সম্ভব নয়, এই দুঃসময়ের সকলের উচিত একসাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে জনগণের পাশে দাঁড়ানো, ভাইরাস যুদ্ধে জননেত্রীর প্রতিটি পদক্ষেপকে বাস্তবায়িত করা। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, করোনাকালেও একধরনের নোংরামী চলছে। আমাদের মনে রাখা দরকার, জাতির নজিরবিহীন এই দুঃসময়ে অপরাজনীতি বা অপসংস্কৃতির সময় নয়। এখন জনগণকে রক্ষা করার সময় এবং সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই কাজ করতে হবে।
দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির কাছে জনগণের অসহায় আত্মসমর্পণ, কে দেখছে আজ? ডাক্তাররা দেশের জাতীয় সম্পদ, তাঁদের সুরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত না করলে তারা কীভাবে চট্টগ্রামের মানুষের স্বাস্থ্য সেবায় আত্মনিয়োগ করবে। ডাক্তার বলে তারা কি ভাইরাস মুক্ত? অথচ কিছু জনপ্রতিনিধির বিমাতাসুলভ আচরণে সেখানেও আজ সমস্যা। তবে আপনাদের দায়িত্ব অনেক। অবশ্যই নিজেকে সুরক্ষা রেখে রোগী দেখতে হবে এবং হাসপাতাল মালিকদের প্রতি অনুরোধ, হাসপাতাল রোগী আসলে অবশ্যই এডমিট করাতে হবে! না হয় আপনাদেরকে জনগণ ক্ষমা করবে না। অবশ্যই
এর দায় আপনাদের নিতে হবে। অন্যথায় চট্টলাবাসী এর বিচার করবেই।
শিল্পপতিরা আজ কই? যে চট্টগ্রাম তাদের উদারহস্তে দিয়েছে, চট্টগ্রাম রক্ষায় আজ তারা রিক্তহস্ত। দু’একজন শিল্পপতি এগিয়ে আসলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় নগণ্র। সেখানেও গ্রুফিং, কোন্দল!
চট্টগ্রামবাসী সত্যিই সংকটে, ভেবেছিলাম মনোনয়ন প্রত্যাশী নেতা, প্রতিনিধিরা এই সংকটে জনগণের পাশে থাকবে। কিন্তু তা একেবারেই নগণ্য। মুখোশের আড়ালে সবাই নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত, জনসেবা নয়।
আসুন, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চট্টগ্রামকে করোনামুক্ত করি। এই চট্টলা আমার আপনার। ভেদাভেদ ভুলে করোনাযুদ্ধে সামিল হই, জন্মস্থান বাঁচাই। সবুজের সমারোহ পুণ্যস্থান চট্টগ্রাম হবে বাংলাদেশের প্রথম করোনামুক্ত জেলা- এটাই হোক আমাদের অঙ্গীকার, আমাদের প্রত্যাশা।
ফয়সাল বাপ্পী : রাজনৈতিক কর্মী, সংগঠক
