
চট্টগ্রাম : করোনার বিরুদ্ধে প্রাতিষ্ঠানিক ও আনুষ্ঠানিক যুদ্ধ শুরু করতে যাচ্ছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন। আগামিকাল সোমবার অথধবা পরশুদিন (মঙ্গলবার) চিকিৎসাসেবা কার্যক্রমস শুরুর মধ্যদিয়ে এই যুদ্ধ শুরু করতে যাচ্ছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন।
নগরের আগ্রাবাদ এক্সেস রোডের আধুনিক অবকাঠামো ও সুযোগসুবিধা সম্বলিত সিটি কনভেনশন হলটিই হচ্ছে করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধক্ষেত্র। গত ১৫ দিন ধরে রাতদিন অক্লান্ত পরিশ্রম করে এই যুদ্ধক্ষেত্রটি প্রস্তুত করেছেন সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন।
দুইতলা ভবনটির উপরে এবং নিচের ফ্লোরে ২৫০ শয্যা এখন সম্পূর্ণ প্রস্তুত। সেন্ট্রাল এসির সাথে সংযোজন হয়েছে সেন্ট্রাল অক্সিজেনব্যবস্থা। আধুনিক ফিটিংস, টাইলসের ব্যবহারে পর্যাপ্ত সংখ্যক বাথরুম, প্রতি রোগীর জন্য স্বতন্ত্র বেডবিছানা, মিনি টেবিল, ওষধু বক্স, ওয়্যারড্রোব- সবমিলিয়ে এক আধুনিক থাকার ব্যবস্থা- যেন তিন তারকা মানের হোটেল, অথবা মামার বাড়ি!
শনিবার বিকেলে উদ্বোধন শেষে দিগন্তবিস্তৃত সাজানো-গোছানো, পরিপাটি বিছানা দেখে তথ্যমন্ত্রী বললেন, সত্যিই এক অসাধারণ হোমলি এনভাযরমেন্ট।
মেয়র নাছির একধাপ এগিয়ে গিয়ে বললেন, শুধু কি তাই- থাকছে বড় পর্দার এলইডি টিভি, পাশের কক্ষে রিক্রেয়শন সেন্টার বা গানের ব্যবস্থা। চাইলে কেউ গান শুনতে পারবে, পারবে গাইতেও।’
মেয়রের মতে, মানসিক স্বস্তি ও আরামদায়ক পরিবেশই করোনা-আক্রান্তের আসল ট্রিটমেন্ট। সে বিষয়টি মাথায় রেখেই ২৫০ শয্যার আইসোলেশন সেন্টারটি সাজানো হয়েছে।
সব দেখে এবং শুনে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বললেন, ‘করোনাকালে সত্যিই এটি আইকনিক প্রতিষ্ঠান এবং সমগ্র দেশে কোনো জনপ্রতিনিধির আয়োজনে এটিই প্রথম করোনা-আইসোলেশন সেন্টার। সারাদেশেেই দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের এই উদ্যোগ।’
এসময় আরো কয়েকটা এধরনের আইসোলেশন সেন্টারে করা যায় কিনা মেয়রকে ভেবে দেখার অনুরোধ করেন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। তিনি বলেন, যদি করা যায় তবে চট্টগ্রামে করোনা-চিকিৎসায় সঙ্কট ও হতাশা কেটে যাবে।
তথ্যমন্ত্রী ও মেয়রের পরিদর্শন এবং এমনতর আলাপের সময় করোনা আইসোলেশন সেন্টারের তত্ত্বাধায়ক ডা. সুশান্ত বড়ুয়া. একুশে পত্রিকা সম্পাদক আজাদ তালুকদার, স্থানীয় কাউন্সিলর নাজমুল হক ডিউক, চসিক যান্ত্রিক বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সুদীপ বসাক উপস্থিত ছিলেন।
জানা গেছে, রোববার থেকে তিনদিনব্যাপী চিকিৎসক-নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি রয়েছে করোনা আইসোলেশন সেন্টারে। এরপর সংশ্লিষ্টরা যদি মনে করে সোমবার, আর তা না হলে মঙ্গলবার থেকে রোগী ভর্তির উদ্যোগ নেবে।
এদিকে, চাকরি ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রণোদনা ও স্থায়ীকরণের আশ্বাসে চসিকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের করোনা আইসোলেশন সেন্টারে যুক্ত করা হয়েছে। ঘৃণা-অবহেলার বিপরীতে তারাই পরম মমতায় করোনা-রোগীদের সেবা-সুশ্রুষা দিয়ে সুস্থ করে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন ইতোমধ্যে। রোগীরা সেখানে খাবেন, থাকবেন, ওষুধ ও সেবা পাবেন সম্পূর্ণ বিনাপয়সায়।
সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামিকাল সোমবার অথবা মঙ্গলবার থেকে চসিক আইসোলেশন সেন্টারে আউটডোরে-ইনডোরে রোগী দেখা ও ভর্তির কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে। এর মধ্যদিয়ে করোনা-চিকিৎসায় মাইলফলক রচনা করতে যাচ্ছেন চট্টগ্রামের সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন।
জানা গেছে, এই আইসোলেশনে সেন্টারে সেবাপ্রাপ্তির কারো তদবির বা সুপারিশের দরকার নেই। সকাল থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত যে কেউ সরাসরি আইসোলেশন সেন্টারটির নিচে স্থাপিত জরুরি বিভাগে গিয়ে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ ও প্রয়োজন হলে ভর্তি হওয়া যাবে।
