
ঢাকা : চিকিৎসা সেবা দিতে অনীহার কারণে গুরুতর অসুস্থ রোগীর মৃত্যুকে ‘অবহেলাজনিত মৃত্যু’ অর্থাৎ ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করার হাইকোর্টের নির্দেশনা স্থগিত হয়েছে।
চিকিৎসা বিষয়ে পাঁচটি রিট আবেদনে ভার্চুয়াল বেঞ্চ থেকে দেওয়া আদেশে এটিসহ মোট যে ১১ দফা নির্দেশনা ও অভিমত এসেছিল তার মধ্য থেকে শুধু তিনটি বহাল রেখে বাকিগুলো মঙ্গলবার (১৬ জুন) স্থগিত করে দিয়েছে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত।
হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদন শুনে বিচারপতি মো. নূরুজ্জামানের ভার্চুয়াল চেম্বার আদালত থেকে আংশিক স্থগিতাদেশ আসে।
চেম্বার আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন অতিরিক্তি অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা। সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিশ্বজিৎ দেবনাথ।
রিট আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী জেড আই খান পান্না, মনজিল মোরসেদ, অনীক আর হক, ইয়াদিয়া জামান।
মুরাদ রেজা বলেন, আমরা হাই কোর্টের আদেশটিই স্থগিত চেয়েছিলাম। চেম্বার আদালত হাই কোর্টের আদেশটি মোডিফাই করে ১, ৮ ও ৯ নম্বর নির্দেশনা বহাল রেখেছেন। আর ঢাকাকে লকডাউন চেয়ে করা রিটে যেহেতু কাল কোনো আদেশ দেয়নি, রিফিউজ করেছিল হাই কোর্ট, তাই চেম্বার আদালত এটিকে নটপ্রেস করেছে।
গত ১১ মে সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য বিভাগ সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিকে সাধারণ (নন-কোভিড) রোগীদের চিকিৎসা সংক্রান্ত দুটি নির্দেশনা জারি করে।
এছাড়াও ৫০ শয্যা বা তার বেশি শয্যা বিশিষ্ট সরকারি, বেসরকারি হাসপতালে কোভিড ও সাধারণ রোগীদের চিকিৎসার জন্য গত ২৪ মে আরেকটি নির্দেশনা জারি করে।
এসব নির্দেশনা যথাযথভাবে পালন করা হচ্ছে কিনা তা জানিয়ে আগামী ৩০ জুনের মধ্যে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দিয়েছিল হাই কোর্ট।
পাঁচটি রিট আবেদনের শুনানি শেষে সোমবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের ভার্চুয়াল হাই কোর্ট বেঞ্চ ১১ দফা অভিমত-নির্দেশনাসহ একসঙ্গে আদেশ হয়।
এর মধ্যে চেম্বার আদালতে অন্যতম স্থগিত ৬ নম্বর নির্দেশনায় বলা হয়, কোনো সরকারি বা বেসরকারি হাসপাতালে গুরুতর অসুস্থ কোনো রোগীকে চিকিৎসা সেবা দিতে অনীহা দেখালে এবং এতে ওই রোগীর মৃত্যু ঘটলে ‘তা অবহেলাজনিত মৃত্যু’ হিসেবে বিবেচিত অর্থাৎ ‘ফৌজদারি অপরাধ’ হিসেবে বিবেচিত হবে। দায়ী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার নির্দেশনা যথাযথভাবে দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া যাচ্ছে।
অন্যদিকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জারি করা নির্দেশনা যথাযথভাবে পালিত হচ্ছে কি না সে বিষয়ে ৩০ জুনের প্রতিবেদন দাখিল, আইসিইউতে থাকা কোভিড-১৯ রোগীর কাছ থেকে ফি আদায় মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা করা এবং অক্সিজেন সিলিন্ডারের খুচরা মূল্য এবং রিফিলিংয়ের মূল্য নির্ধারণ ও নজরদারি সংক্রান্ত তিনটি নির্দেশনা এটি বহাল রেখেছে চেম্বার আদালত।
মন্ত্রিপরিষদ, স্বাস্থ্যসেবা, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের প্রতি এসব আদেশ দেওয়া হয়।
