আইসোলেশন সেন্টারে যত্নআত্তি, করোনা রোগীদের স্বস্তি


ইমরান এমি : বাসা ছোট, আইসোলেশনে থাকার মতো পৃথক কক্ষ নেই, তাই করোনা-আক্রান্ত হয়ে হালিশহরে নতুন চালু হওয়া করোনা আইসোলেশন সেন্টারে এসেছেন মিজানুর রহমান (ছদ্ম নাম)। এখানেই তার থাকা-খাওয়া সব। নিজের ঘরের মতো তিনি এখানে পাচ্ছেন যত্নআত্তি। সারাদিন এদিক-সেদিক হেঁটে এবং টিভি দেখেই সময় পার করছেন তিনি।

একুশে পত্রিকাকে তিনি বলেন, বাসায় থাকলে এতটুকু সেবা পেতাম কিনা জানতাম না। এখানে যারা স্বেচ্ছাসেবক, নার্স ও চিকিৎসক আছেন, তারা সবাই নিজ দায়িত্বে আমাদের চিকিৎসা থেকে শুরু করে সবধরনের সেবা দিচ্ছেন। আমাদের মনোবল শক্ত রাখতে মানসিক শক্তি জোগাচ্ছেন। এখানে এসে ভালো লাগছে, মনে হচ্ছে বেড়াতে এসেছি, কয়েক দিন থেকে চলে যাব। এখানকার সবাই আমাদেরকে আপন করে নিয়েছেন।

নগরের হালিশহর প্রিন্স অব চিটাগাং কমিউনিটি সেন্টারে তারুণ্যশক্তিতে গড়ে তোলা করোনা আইসোলেশন সেন্টারে কোভিড আক্রান্ত ও সাসপেক্ট রোগীরা একুশে পত্রিকার কাছে এভাবেই তুলে ধরলেন তাদের অনুভূতি।

বৃহস্পতিবারও আইলোসেশন সেন্টারে এসেছেন বেশ কয়েকজন রোগী। সবমিলিয়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত সেখানে রোগীর সংখ্যা ২০ এর মতো। করোনা-আক্রান্ত ও করোনা উপসর্গের এসব রোগীর বাসায় আইসোলেশনে থাকার সুযোগ নেই। কারো সুযোগ থাকলেও এখানকার সেবাকেই নিরাপদ ও উপযোগী ভেবেছেন, সে কারণেই আইসোলেশন সেন্টারে এসেছেন তারা।

মনছুর নামে এক রোগী জানান, কোভিড সন্দেহে নমুনা দেওয়ার এক সপ্তাহ পর ফলাফল আসে পজেটিভ। এতদিন ফলাফল না পেয়ে বাসায় ছিলাম। করোনা-আক্রান্ত জানতে পেরে বাসায় থাকতে মন চাচ্ছে না। আমার কারণে যদি ছেলে-মেয়ে বা পরিবারের কেউ আক্রান্ত হয়, তবে সেটা আরো হৃদয়বিদারক হবে। তাই আইলোসেশন সেন্টারে থাকাটা নিরাপদ, যোগ করেন তিনি।

বৃহস্পতিবার বিকেলে গিয়ে দেখা যায়, আইসোলেশন সেন্টারে থাকা এক রোগীর জন্য বাসা থেকে কিছু খাবার পাঠানো হয়। রোগীর স্বজন নিজে গিয়ে সেগুলো দিয়ে আসতে চাইলেও স্বেচ্ছাসেবকরা ঝুকিঁ নিয়ে তাকে সেখানে ঢুকতে দেননি। স্বজনদের ঝুকি নিয়ে যেতে না দিলেও রোগীর কাছে সর্বাক্ষণিক নানা জিনিস নিয়ে তাদের কাছে যাচ্ছেন স্বেচ্ছাসেবকরা। প্রতদিনি সকালে নাশতা, দুপুরে ভাত, বিকেলে নাস্তা ও রাতের খাবার স্বেচ্ছাসেবকরা গিয়ে তাদের পৌছে দিচ্ছেন। ব্যক্তিগত নিরাপত্তা সরঞ্জাম পরে তারা দিন রাত আইসোলেশনে থাকা এসব রোগীদের সেবা করছেন।

কথা হয় একজন স্বেচ্ছাসেবকের সাথে। তিনি একুশে পত্রিকাকে জানান, এখানে যারা আছেন তারা কারো না কারো বাবা, মা, ভাই অথবা বোন। তাদেরকে আমরা নিজেদের পরিবারের একজন মনে করে সেবা দিচ্ছি। যতটুকু সেবা করতাম আমার পরিবারের কেউ হলে, ঠিক ততটুকু সেবা দিচ্ছি তাদের। তারা যেন মনোবল না হারান, সে জন্য তাদের বিনোদনের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

আইসোলেশন সেন্টারের উদ্যোক্তা সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মোহাম্মদ সাজ্জাত হোসেন একুশে পত্রিকাকে বলেন, মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে এ আইসোলেশন সেন্টার গড়ে তুলেছি। কোনো প্রচার বা নিজেকে মানবতার নানা বিশেষণে পরিচয় দেওয়ার জন্য। সেবার মনমানসিকতা নিয়ে এটার যাত্রা। যার কারণে এখানে যারা আছেন, স্বেচ্ছাসেবক, নার্স, চিকিৎসক তারা সকলেই সেটা লক্ষ্য হিসাবে নিয়েছেন।

কোভিড আক্রান্ত এসব মানুষের সেবা করতে পেরে নিজেকে তৃপ্ত দাবি করে সাজ্জাত বলেন, ১০০ শয্যার এ আইসোলেশনে আমরা চিকিৎসাসেবা, খাওয়া দাওয়ার পাশাপাশি অক্সিজেন সিলিন্ডার সেবাও দিচ্ছি।

প্রসঙ্গত, আইসোলেশন সেন্টারে ১১ জন চিকিৎসক, ৯ জন নার্স ও ৫০ জন স্বেচ্ছাসেবক রয়েছেন।