
একুশে প্রতিবেদক : ১৬ এপ্রিল প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় কক্সবাজারে। এরপর থেকে কক্সবাজারে বেড়ে চলে করোনা রোগীর সংখ্যা। ১৬ এপ্রিল থেকে ১৬ মে এক মাসে কক্সবাজারে ১৭৪ জনের মাঝে করোনাভাইরাস শনাক্ত হতে দেখা যায়।
কিন্তু, ১৭ মে থেকে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে দেশের সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর জেলা কক্সবাজারে করোনা রোগীর সংখ্যা। ১৭ মে থেকে ১৬ জুন পর্যন্ত এই একমাসে কক্সবাজারের ১৫১৪ জনের মাঝে করোনা শনাক্ত করা হয়েছে। আগের ১৭৪ জনসহ যেটি ১৬৮৮ জনে দাঁড়িয়েছে।
দেখা যাচ্ছে ২-১ টা দিন ছাড়া ১৬ এপ্রিল থেকে ১৬ জুন এই দুই মাস সময়ের প্রতিদিনই করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে কক্সবাজারে। আজ ১৬ জুন পর্যন্ত যার সংখ্যা ১৬৮৮ জনে গিয়ে ঠেকল।
উপরের তথ্যটি নিছক কক্সবাজার জেলার। কিন্তু কক্সবাজারে শনাক্ত হয়েছে অনেক রোহিঙ্গা এবং আরও বিভিন্ন জেলার করোনা রোগী।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের তথ্য মতে, কক্সবাজারের ০৮ উপজেলাতেই ছড়িয়েছে করোনা। প্রথম মাসে সংক্রমিতের সংখ্যা চকরিয়াতে বেশি হলেও দ্বীতিয় মাসে সবচেয়ে বেশি আক্রান্তের সংখ্যা কক্সবাজার সদর উপজেলাতেই বেশি।
গত দুই মাসে কক্সবাজারে সবচেয়ে বেশি করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে কক্সবাজার সদর উপজেলায় যেখানে কেমন ৭৭৩ জন শনাক্ত হয়েছে এবং সুস্থ হয়েছেন ১১০ জন ও মারা গেছেন ১৭ জন। সবচেয়ে কম শনাক্ত হয়েছে জেলার দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়ায়। এখানে শনাক্তের সংখ্যা ১০ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ২ জন ও মারা গেছেন ১ জন।
অন্যদিকে, জেলার কুতুবদিয়া এবং মহেশখালীতে কোন রোগী মৃত্যুর খবর পাওয়া যায় নি।
জানা যায়, ১৬৮৮ জনের মধ্যে গত দুই মাসে কক্সবাজার সদর উপজেলায় ৭৭৩ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে যার মধ্যে ১১০ জন সুস্থ হয়েছে এবং মৃত্যু বরণ করেছে ১৭ জন, চকরিয়ায় ২৬০ জনে সুস্থ ১২৪ ও মৃত্যু ৩ জন, উখিয়ায় ২৪৫ জনে সুস্থ ৬৮ ও মৃত্যু ৩ জন, টেকনাফে ১৩৮ জনে সুস্থ ৪৪ ও মৃত্যু ৩ জন,রামুতে ১২৩ জনে সুস্থ ২৭ ও মৃত্যু ১ জন, পেকুয়ায় ৭৯ জনে সুস্থ ৩৭ যেখানে ১ জনেরও মৃত্যু হয় নি, মহেশখালীতে ৬০ জনে ৩৭ জন সুস্থ এখানেও মৃত্যু শূন্য, কুতুবদিয়ায় ১০ জনে সুস্থ হয়েছে ২ জন এবং ১ জনের মৃত্যু হয়েছে।
গত ১৬ এপ্রিল থেকে ১৬ মে পর্যন্ত একমাসে ১৭৪ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে চট্টগ্রামে। কিন্তু, হঠাৎ করে সেখানে গত ১৭ মে থেকে ১৬ জুন পর্যন্ত এই এক মাসে আগের চেয়ে প্রায় নয় গুণ রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়া চিন্তার শুধু নয় বরং উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা এবং আতঙ্কেরও।
কক্সবাজার থেকে প্রকাশিত সংবাদপত্র দৈনিক হিমছড়ি সম্পাদক ও কক্সবাজার প্রেস ক্লাবের সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদক হাসানুর রশীদ কক্সবাজারের চলমান করোনা পরিস্থিতি নিয়ে বলেন, কক্সবাজারে শুরু থেকেই লকডাউন পালনের বিষয়ে জনগণের মধ্যে অনীহা দেখা যায়। তাই এখানে করোনা রোগীর সংখ্যা হঠাৎ করে বেড়ে যায়। রোহিঙ্গা সংশ্লিষ্ট কাজে নিয়োজিত এনজিও কর্মীরা অবাধে ঢাকাসহ তাদের নিজ জেলায় আসা যাওয়া করেছে। ফলে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে জেলার সর্বত্র করোনা।
এমন প্রেক্ষাপটে ৬ জুন মধ্য রাত থেকে কক্সবাজার শহরকে রেড়জোন ঘোষণা করে লকডাউন চলছে। পরে চকরিয়া ও টেকনাফ পৌর শহরেও লকডাউন চলছে। এই জোন ভিত্তিক লকডাউনের ফলাফল কয়েকদিনের মধ্যে হয়তো জানা যাবে বলে তিনি সুফল পাওয়ার আশা প্রকাশ করেছেন।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের তথ্য মতে, গত দুই মাসে কক্সবাজারে ১৬৮৮ জনের মাঝে করোনা শনাক্ত করা হয়। যারমধ্যে ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৪৪৯ জন সুস্থ হয়েছে। সে হিসাবে বর্তমানে কক্সবাজারে ১২১১ জন করোনা রোগী রয়েছেন।
