মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২০, ২৩ আষাঢ় ১৪২৭

বোয়ালখালীর কাউন্সিলরের পকেটে প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা, তদন্তে ধীরগতি

প্রকাশিতঃ মঙ্গলবার, জুন ৩০, ২০২০, ৮:৫৬ অপরাহ্ণ


চট্টগ্রাম : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া মানবিক সহায়তার আড়াই হাজার টাকা নিজের মোবাইল নাম্বারে নিয়ে ফেলা চট্টগ্রামের বোয়ালখালী পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সুনীল চন্দ্র ঘোষের অনিয়ম তদন্ত চলছে ঢিমেতালে।

গত ১০ জুন ‘প্রধানমন্ত্রীর মানবিক সহায়তা কাউন্সিলর, ভবনমালিক ও ব্যবসায়ীর পকেটে!’ শিরোনামে একুশে পত্রিকায় একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

এতে উল্লেখ করা হয়, কাউন্সিলর সুনীল চন্দ্র ঘোষ শুধু নিজের মোবাইলেই টাকা নেননি, আরও বেশ কয়েকজন অবস্থাসম্পন্ন ব্যক্তিকে প্রধানমন্ত্রীর মানবিক সহায়তা নিয়ে দিয়েছেন। এছাড়া তালিকায় একজনের নাম-জাতীয় পরিচয়পত্রের নাম্বারের সঙ্গে অন্যজনের মোবাইল নাম্বারও দিয়েছেন এ জনপ্রতিনিধি।

প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর কাউন্সিলর সুনীল চন্দ্র ঘোষের অনিয়ম তদন্তে একটি কমিটি গঠন করে দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আছিয়া খাতুন। তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয় বোয়ালখালী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোজাম্মেল চৌধুরীকে।

উক্ত প্রতিবেদনে যাদের নাম এসেছে তাদের সাক্ষ্য নিতে গত ১৩ জুন সকাল ১০ টায় নিজের কার্যালয়ে তলব করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোজাম্মেল হক চৌধুরী। সেদিন সংশ্লিষ্ট সবার সাক্ষ্য নিয়েছেন তিনি। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়নি। এর মধ্যে তদন্তে দৃশ্যমান কোন অগ্রগতিও নেই।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর মানবিক সহায়তা দেয়ার ক্ষেত্রে কাউন্সিলর সুনীল চন্দ্র ঘোষের আরও অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেছে।
আড়াই হাজার টাকা দেয়ার জন্য তিনি যে তালিকা করেছেন সেখানে একই ব্যক্তিকে দুইবারও রাখা হয়েছে। তালিকায় তাদের নাম ৫০ ও ১২১ নাম্বারে আছে। এছাড়া তালিকার ৭০ ও ৭১ নাম্বারে ভিন্ন নামের দুই ব্যক্তি আছেন, কিন্তু দুইজনের মোবাইল নাম্বার একই।

তদন্তের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আছিয়া খাতুন একুশে পত্রিকাকে বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মানবিক সহায়তা নিয়ে কাউন্সিলর সুনীল চন্দ্র ঘোষের বিরুদ্ধে যে সব অভিযোগ এসেছে সেগুলো তদন্তের জন্য সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন আজ (মঙ্গলবার) পর্যন্ত পাইনি।

বোয়ালখালী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোজাম্মেল চৌধুরী একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘আমি এটা তদন্ত করে রেখেছি। রিপোর্ট দিয়ে দেব আরকি।’ তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করবো না। আমি যেটা পেয়েছি সেটা দিয়ে দেব।’ তদন্তে কয়জনের সাক্ষ্য নেয়া হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটা বলতে চাচ্ছি না। যা পেয়েছি সেটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর দিয়ে দেব।’