সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২০, ২৬ শ্রাবণ ১৪২৭

ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিলের তদন্ত শাক দিয়ে মাছ ঢাকার মতো : ক্যাব

প্রকাশিতঃ বৃহস্পতিবার, জুলাই ২, ২০২০, ১:০১ অপরাহ্ণ


চট্টগ্রাম : মহামারীকালে বিদ্যুতের মাত্রাতিরিক্ত বিলে গ্রাহক ভোগান্তি সৃষ্টিকারী কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করে সাত দিনের মধ্যে শাস্তি দেওয়ার যে ঘোষণা বিদ্যুৎ বিভাগ দিয়েছে সেটিকে ‘শাক দিয়ে মাছ ঢাকার মতো’ বলে মন্তব্য করেছে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) চট্টগ্রাম।

ক্যাব বলছে, প্রবল আপত্তির মুখে বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিল নিয়ে তদন্তে টাস্কফোর্স গঠন করেছে বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজনকে দিয়ে। ফলে এই টাস্ক ফোর্স অনেকটাই শাক দিয়ে মাছ ঢাকার মতো। কারণ যারা গড় বিল করার জন্য নির্দেশ দিয়েছে তারাই আবার টাস্ক ফোর্সের সদস্য।

তাই টাস্কফোর্সকে পুনর্গঠন করে সেখানে ভোক্তাদের প্রতিনিধি হিসাবে ক্যাব প্রতিনিধি ও গণমাধ্যম প্রতিনিধি অর্ন্তভুক্ত করার দাবি ও জুন পর্যন্ত বকেয়া বিলের জরিমানা আগামী আগষ্ট পর্যন্ত স্থগিত রাখার দাবি জানিয়েছে ক্যাব।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে ক্যাব কেন্দ্রিয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন, ক্যাব চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক কাজী ইকবাল বাহার ছাবেরী, ক্যাব মহানগরের সভাপতি জেসমিন সুলতানা পারু, সাধারণ সম্পাদক অজয় মিত্র শংকু, যুগ্ন সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম, ক্যাব চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা সভাপতি আবদুল মান্নান, ক্যাব যুব গ্রুপের সভাপতি চৌধুরী কে এনএম রিয়াদ ও সম্পাদক নিপা দাস উপরোক্ত দাবি জানান।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, করোনার মহামারীতে অধিকাংশ সাধারণ গ্রাহকের আয় রোজগার কমে যাওয়া, অনেকে চাকুরী হারিয়ে বা বেতন কর্তনের মতো দুর্দশায় জীবন-জীবিকা নির্বাহ করতে কঠিন সময় পার করছেন। সে সময়ে বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের উদ্ভট সিদ্ধান্ত গড় বিল ও ৩-৪ গুণ অতিরিক্ত বিলের বোঝা চাপিয়ে সাধারণ ভোক্তাদের জন্য বিদ্যুৎ বিল আর একটি “মরার উপর খাড়ার ঘা” হিসাবে আর্বিভূত হয়েছে। আবার ৩০ জুনের মধ্যে পরিশোধ না করলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার মতো ঘোষণা অমানবিক, মহামারীকালে সাধারণ মানুষের উপর রাষ্ট্রীয় অর্থে পরিচালিত সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের এর ধরনের সিদ্ধান্ত অগ্রহণযোগ্য।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, বিদ্যুৎ, গ্যাস, ওয়াসার বিরুদ্ধে গড় বিল করা, ত্রুটিপূর্ণ মিটার সরবরাহ করার মতো অভিযোগ সব সময় বিদ্যমান। সেখানে ভুতড়ে বিল ও গ্রাহক ভোগান্তি নিরসনে বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজনকে দিয়ে টাস্কফোর্স গঠন অনেকটাই “আমরা-আমরাই, মিলে মিশে করি”, এটাকেও হার মানায়। তৃতীয় কোন পক্ষকে দিয়ে এই টাস্ক ফোর্স করা যেতো। প্রয়োজনে স্থানীয় জেলা, উপজেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ক্যাব ও গণমাধ্যম প্রতিনিধি দিয়ে গ্রাহক পর্যায়ে তথ্য অনুসন্ধান করা হলে প্রকৃত ঘটনা বের হয়ে আসতো। এখন এই টাস্কফোর্স কোন অনিয়ম পাবে না এবং গ্রাহকের ভুতুড়ে বিলের কোন সুরাহা হবে না। আর গ্রাহকের বাড়ী পরিদর্শন ও মিটার যাচাই ছাড়া এই সমস্যা সমাধানে গণশুনানির মতো অফিসে বসে কোন সমাধান কাংখিত ফল আসবে না।

বিবৃতিতে ক্যাব নেতৃবৃন্দ বলেন, সরকারের ভেতরে একটি মহল সব সময় বিদ্যুৎ ও জ্বালানী খাতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে যে অভূতপূর্ব উন্নয়ন ও অগ্রগতি হয়েছে তাকে ম্লান করার জন্য নানা রকমের নীলনকশা বাস্তবায়নের চেষ্টা করেন। মহামারী সংকটকালে গড় বিল, ভুতড়ে বিল, জুনের টার্গেট প্রদান করে রাজস্ব আহরণের ঘটনাগুলি তারই অংশ কিনা তা খতিয়ে দেখা দরকার। কারণ করোনার মহামারীকালে সরকার প্রধান হিসাবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দিনে ২০ ঘন্টা পরিশ্রম করে সাধারণ জনগণের দুর্ভোগ লাগবে করছেন। আর সেখানে সরকারের একশ্রেণীর কর্মকর্তারা নানা ফর্মূলা দিয়ে মানুষের ভোগান্তি বাড়াতে নানা ফন্দি-ফিকির করছেন, যা কোনভাবেই কাম্য নয়।