শনিবার, ৮ আগস্ট ২০২০, ২৪ শ্রাবণ ১৪২৭

জুয়ার নামে টাকা ‘আত্মসাৎ’, ফাঁদে ফেলে প্রতারক ধরল পুলিশ

প্রকাশিতঃ বৃহস্পতিবার, জুলাই ২, ২০২০, ৬:২৩ অপরাহ্ণ


চট্টগ্রাম : চট্টগ্রামে ‘কিংস প্লেয়ার’ নামের তিন তাসের কার্ডের একটি জুয়ার খেলার মাধ্যমে ফাঁদে ফেলে টাকা হাতিয়ে আসা একটি চক্রের সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে কোতোয়ালী থানা পুলিশ।

বৃহস্পতিবার কোতোয়ালী থানার ওসি মোহাম্মদ মহসীন বলেন, উক্ত চক্রের মাধ্যমে প্রতারণার শিকার হওয়া একজন ব্যক্তি গত ১৫ জুন থানায় অভিযোগ করেন। এরপর তদন্তে নেমে বুধবার বিকেলে কৌশলে নগরের কোতোয়ালী থানাধীন ইকবাল বোডিংয়ের সামনে থেকে মো. ফয়েজকে (৬০) গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ফয়েজ নোয়াখালী জেলার মিয়াজান মিয়াজী সাহেবের বাড়ীর নূর মোহাম্মদের ছেলে। এ ঘটনায় মোস্তাক (৬৪), হাজী মনসুর (৬৫) ও ফরিদ (৫০) নামের তিন আসামি পলাতক আছেন।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার ফয়েজ ও পলাতক তিন আসামি একটি প্রতারক চক্র তৈরি করে কৌশলে বিভিন্ন লোকদের প্রলুব্ধ করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করে আসছে। আসামিরা মূলত কিংস প্লেয়ার নামের তিন কার্ডের একটি জুয়া খেলার মাধ্যমে ভিকটিমকে ফাঁদে ফেলে। এ চক্রের মূল বসের ভূমিকায় থাকে চন্দনপুরার অধিবাসী মোস্তাফিজ, বোকার তথা দালালের ভূমিকা পালন করে হাজী মনসুর, অন্যান্যরা খেলোয়ারের ভূমিকায় থাকে।

বোকার প্রথমে যে কোনো ধরনের ব্যবসার প্রলোভন দেখিয়ে কোনো ভিকটিমকে আপন করে নিয়ে তার চক্রের অন্যদের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়। পরবর্তীতে চক্রের সদস্যরা দুভাগে বিভক্ত হয়ে একভাগ ভিকটিমের পক্ষে অবস্থান নেন অপর পক্ষে বস একা ভূমিকা পালন করে।

প্রথম প্রথম কোনো ভিকটিম কিংস প্লেয়ার খেলায় সামান্য লাভ পেলেও পরবর্তীতে খেলতে খেলতে বিরাট অংকের টাকা পায় বলে চক্রটি জানালে- এ বিরাট অংকের টাকা সংগ্রহ করতে হলে প্রতিপক্ষকেও নিজের বিরাট অংকের টাকা দেখাতে হবে- বলা হয়। তখন আসামিরা নিজেরা কিছু টাকা নিজেদের মধ্যে আছে বলে জানিয়ে বাকি টাকা ভিকটিমকে যোগাড় করতে বলে এবং টাকা যোগাড় হলে কৌশলে ভিকটিমের কাছ থেকে টাকাটি নিয়ে আত্মসাৎ করে পালিয়ে যায়।

কোতোয়ালী থানার ওসি মোহাম্মদ মহসীন বলেন, এই চক্রটি মামলার বাদীর কাছ থেকে ৬ হাজার টাকা নিয়ে ‘কিংস প্লেয়ার’ নামের তিন তাসের কার্ডের খেলাটি খেলার পর জানায়, তিনি ২৫ লাখ টাকা জিতেছেন। কিন্তু এই টাকাটা নিতে হলে ২৫ লাখ টাকা দেখাতে হবে। সেজন্য কমপক্ষে ১ লাখ টাকা যোগাড় করতে বলে এবং তারা বাকিটা যোগাড় করবে। এসময় বাদী আসামিদের ২৪ লাখ টাকা দেখাতে বললে তারা কৌশলে বিষয়টি এড়িয়ে যায়। তখনই বাদীর সন্দেহ হয়। এরপর ১ লাখ টাকা দেওয়ার কথা বলে আসামিদের ডেকে নেয় ভুক্তভোগী। তখন একজনকে গ্রেপ্তার করি। বাকি তিনজনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।