শনিবার, ৮ আগস্ট ২০২০, ২৪ শ্রাবণ ১৪২৭

চট্টগ্রামে ২৬ দিনেও মিলছে না করোনা রিপোর্ট

প্রকাশিতঃ বৃহস্পতিবার, জুলাই ২, ২০২০, ৭:৩৬ অপরাহ্ণ


চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম আইনজীবি সমিতির সাবেক সভাপতি বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য এডভোকেট মো. কবির চৌধুরী করোনা সংক্রমিত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন গত ২ জুন। এরপর পরিবারটির সদস্যরা ৮ জুন করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা দেন। এরপর ২৬ দিন পার হলেও রিপোর্ট তারা এখনো করোনা রিপোর্ট পাননি।

প্রয়াত কবির চৌধুরীর পুত্র শফিউদ্দিন কবির চৌধুরী আবিদ বাসদ (মার্কসবাদী) চট্টগ্রাম জেলার সদস্য সচিব। তিনি স্বাস্থ্য খাতের অব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন একুশে পত্রিকার কাছে।

শফিউদ্দিন কবির চৌধুরী আবিদ বলেন, রিপোর্ট কবে পাবো, চট্টগ্রামের স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের কেউ বলতে পারছেন না। আর পাব কি পাব না সেটাও কেউ বলছেন না। অদ্ভুত সমস্যায় পড়েছি। খালি প্রশ্ন আসে মাথায়। কর্তা ব্যক্তিরা কী জবাব দেবেন এসব প্রশ্নের? নাকি প্রশ্ন তোলায় আবার মামলা দিয়ে দেবেন?

তিনি বলেন, সংগৃহীত নমুনার মান ৩-৭ দিন ভালো থাকে। এরপর মান কমে, ফলাফলও ঠিক আসে না। ২৬ দিন পর সে নমুনা যদি পরীক্ষা করে ফল দেওয়া হয়, সে ফলাফল কি সঠিক হবে? ভুল ফলাফলের (তাও যদি আসে) দায় কে নেবে? যারা ৮ জুন নমুনা দিয়েছেন, তাদের ১৪ দিনের আইসোলেশন পিরিয়ড শেষ। এরপর তারা নিশ্চয় বের হচ্ছেন। এখন রিপোর্ট যদি পজিটিভ আসে, তাহলে কি হবে?

প্রসঙ্গত গত ৭ ও ৮ জুন চট্টগ্রামে সংগ্রহ করা সাড়ে তিন হাজার নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছিল। এর মধ্যে কিছু ফলাফল আসলেও অনেকের রিপোর্ট আটকা পড়েছে।

এ নিয়ে ভুক্তভোগী শফিউদ্দিন কবির চৌধুরী আবিদ একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘৭ ও ৮ জুন যারা নমুনা দিয়েছেন, তাদের মধ্যে সাড়ে তিন হাজার নমুনার মধ্যে যদি ১ হাজার পজিটিভ হয়, তারা কি আইসোলেশনে ছিলেন? রিপোর্ট দেরি হওয়ায় ধরে নেওয়া যায়, বড় অংশই ৪-৫ দিন পর বের হয়েছেন। নানাজনের সাথে মিশেছেন। তাদের দ্বারা আরো হাজার হাজার মানুষ অজান্তে সংক্রমিত হয়েছেন, তার দায় কে নেবে?

তিনি আরে বলেন, পিসিআর মেশিনে তিন ঘন্টায় রেজাল্ট জানা যায়। প্রথমদিকে বলা হলো একদিনের মধ্যে রেজাল্ট দেওয়া হবে। সে রেজাল্ট পেতে গড়ে ৫-৭ দিন লেগেছে, এখন দেখছি ২৬ দিন গড়াচ্ছে। সামনে আদৌ কোন টেস্টের রেজাল্ট পাওয়া যাবে কি?

শফিউদ্দিন কবির চৌধুরী আবিদ বলেন, চট্টগ্রামে সংক্রমণের দিক থেকে দ্বিতীয়। অথচ প্রতিদিন চট্টগ্রামে নমুনা সংগ্রহ করা হয় মাত্র ১২শ’ থেকে দেড় হাজার। আবার ৪ টি ল্যাবে পরীক্ষা করা হয় মাত্র পাঁচ থেকে সাড়ে পাঁচশ নমুনা। তাহলে নমুনা পরীক্ষার ল্যাব কেন বাড়ানো হলো না? কেন নতুন জনবল নিয়োগ দেওয়া হল না? বরাদ্দ কেন বাড়ানো হচ্ছে না? এখন কি তাহলে নমুনা পরীক্ষা কমিয়ে দেয়া হবে?

আবিদ বলেন, আমার বাবা এড. কবির চৌধুরীর নমুনা জমা দেওয়ার ৪ দিন পর তাঁর মৃত্যুর (২ জুন) আগের রাতে রিপোর্ট আসে। সে ফল তিনি জানতে পারেননি, কারণ তখন তিনি মুমূর্ষু। বাবা হাসপাতালে প্রতিদিন জিজ্ঞেস করতেন, রিপোর্ট এসেছে কিনা? সে প্রশ্নের জবাব আমি দিতে পারিনি।