রবিবার, ৯ আগস্ট ২০২০, ২৫ শ্রাবণ ১৪২৭

ফটিকছড়ি করোনা হাসপাতালের জন্য এমপি নজিবুলের ২৫ লাখ টাকা অনুদান

প্রকাশিতঃ শনিবার, জুলাই ৪, ২০২০, ১:১৯ পূর্বাহ্ণ


ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি : এগিয়ে চলেছে ফটিকছড়ি বিশেষায়িত করোনা হাসপাতাল নির্মাণের কাজ। পুরোদমে চলছে অর্থ ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সংগ্রহের কাজ। সাধারণ মানুষসহ সর্বস্তরের মানুষ এই হাসপাতালের জন্য যে যার সামর্থ অনুযায়ী অর্থসহায়তা দিতে এগিয়ে আসছেন। ২৫ লক্ষ অর্থ সহায়তা নিয়ে এগিয়ে এসেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারী।

এর আগে গত ৯ জুন নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী এমপি উপজেলা সদরের পরিত্যক্ত ২০ শয্যা হাসপাতালকে করোনা রোগিদের জন্য আপদকালীন বিশেষায়িত হাসপাতালে রুপান্তর করার ঘোষণা দেন এবং উপজেলার বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

এই ঘোষণার পর বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণের কাজ শুরু করেন স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন। পরিত্যক্ত এই হাসপাতালকে বিশেষায়িত হাসপাতালে রুপান্তরিত করতে প্রয়োজন ১ কোটি টাকা এবং প্রতি মাসে খরচ পড়বে প্রায় ৩৫ লক্ষ টাকা।

সাংসদের ঘোষণার পর তহবিল সংগ্রহের কাজ শুরু করেন ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার সায়েদুল আরেফিন। এরপর থেকে সেটির উন্নয়নে আর্থিক অনুদান নিয়ে এগিয়ে আসছেন এলাকার বিভিন্ন ব্যক্তিবর্গ ও সামাজিক সংগঠন।

সাংসদ সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে নগদ টাকা, বিভিন্ন মেডিকেল সরঞ্জামাদিসহ হাসাপাতাল চালাতে জরুরি জিনিসপত্র নিয়ে এগিয়ে আসছেন স্থানীয় জনসাধারণ। বিভিন্ন আর্থিক অনুদান নিয়ে হাজির হচ্ছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার ( ইউএনও) কাছে। বিকাশ, রকেটসহ ব্যাংক একাউন্টেও অনেকে পাঠাচ্ছেন নগদ অর্থ। ফেসবুকে গ্রুপ, ইভেন্টস খুলেও অনেকে হাসপাতালের জন্য অর্থ সংগ্রহ করছেন।

৩ জুলাই বৃহস্পতিবার পর্যন্ত জনসাধারণের পক্ষ থেকে প্রশাসনের আপদকালিন ফান্ডে জমা পড়েছে মোবাইল ব্যাংকিং থেকে ১ লক্ষ টাকাসহ সর্বমোট ৪৩ লাখ টাকা ও ৮০ শতাংশ মেডিকেল সরঞ্জামাদি।

এদিকে বুধবার (১ জুলাই) স্থানীয় সাংসদ ও বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী ও তার পরিবারের পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সায়েদুল আরেফিনের কাছে ২৫ লক্ষ টাকার চেক হস্তান্তর করেন উপজেলা চেয়ারম্যান এইচ এম আবু তৈয়ব। এছাড়াও আপদকালিন ফান্ডে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেয়া হচ্ছে ১০ লক্ষ টাকা।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সায়েদুল আরেফিন একুশে পত্রিকাকে বলেন, এখনো পর্যন্ত টার্গেটকৃত মেডিকেল যন্ত্রপাতির ৮০ শতাংশ সংগ্রহ হয়েছে। এছাড়াও ৬ মাসের সম্ভাব্য খরচের প্রায় দুই তৃতীয়াংশ এখনও হাতে আসেনি। তবে তিনি আশা করছেন অন্যান্য সামর্থ্যবানরাও যদি এভাবে এগিয়ে আসেন, এই টার্গেট খুব দ্রত পূরণ হবে। একইসাথে জুলাই মাসের শেষ সপ্তাহ নাগাদ হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম শুরু হবে বলেও তিনি জানান।