মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২০, ২৭ শ্রাবণ ১৪২৭

বেসরকারি হাসপাতাল অস্বাভাবিক বিল দিলে পরিশোধ করবেন না : সুজন

প্রকাশিতঃ শনিবার, জুলাই ৪, ২০২০, ৬:১০ অপরাহ্ণ


চট্টগ্রাম : কোনো বেসরকারি হাসপাতাল অস্বাভাবিক বিল দিলে সেটা পরিশোধ না করতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও ও নাগরিক উদ্যোগের প্রধান উপদেষ্টা খোরশেদ আলম সুজন। শনিবার (৪ জুলাই) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ আহবান জানান।

আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা খোরশেদ আলম সুজন বলেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হওয়ার প্রথম দিন থেকেই বেসরকারি হাসপাতাল মালিকরা রোগীদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করছে। তাদের অপেশাদারসুলভ মনোভাবের কারণে করোনা আক্রান্ত রোগী ছাড়াও বিভিন্ন রোগে শোকে আক্রান্ত হয়ে অনেক রোগী অকালে মারা গিয়েছে। বছরের পর বছর তারা রোগীদের রোগের ব্যবসা করে বিপুল পরিমাণ বিত্ত-বৈভবের মালিক হলেও রোগীদের প্রতি তাদের সামান্য পরিমাণ সহানুভূতি দেখা যায়নি করোনাকালীন সময়ে। অথচ মানবতার এক মহান ব্রত নিয়ে তারা এ পেশায় আসলেও রোগীদের জিম্মি করে নিজের পকেট ভারী করাই ছিল তাদের আসল উদ্দেশ্য।

তিনি বলেন, পরবর্তী মহামান্য হাইকোর্ট এবং নাগরিক সমাজের চাপে পড়ে তারা রোগী ভর্তি করালেও রোগীকে নূন্যতম চিকিৎসাসেবা না দিয়ে রোগীর আত্নীয় স্বজনদের ঘাড়ে বিশাল অংকের বিলের বোঝা চাপিয়ে দিচ্ছে। দেখা যাচ্ছে যে কোন চিকিৎসা ছাড়া শুধুমাত্র স্যালাইন লাগিয়ে দিয়েই রোগীর স্বজনদের কাছ থেকে হাজার হাজার টাকা বিল আদায় করছে। কোন কোন ক্ষেত্রে সে বিলের মাত্রা লাখ টাকাও ছাড়িয়ে যাচ্ছে। রোগীর ব্যবহৃত ঔষধের দামও বাজার মূল্য থেকে কয়েকগুণ বেশী আদায় করছে এসব অর্থলিপ্সু হাসপাতালগুলো। কোন নিয়ম নীতিরও তোয়াক্কা করছে না এ সব বেসরকারি হাসপাতাল মালিকরা।

‘ইতিপূর্বে চট্টগ্রামের ১২টি বেসরকারি হাসপাতাল চট্টগ্রামের স্বাস্থ্য বিভাগের সাথে চুক্তি সম্পাদন করে রোগীদের চিকিৎসাসেবা প্রদান করার ঘোষণা দিলেও কার্যত চট্টগ্রামবাসীর সাথে প্রতারিত করেছে। স্বাস্থ্য বিভাগ তাদের সাথে বার বার আলোচনা এবং অনুরোধ করেও চট্টগ্রামের জনগণকে চিকিৎসা সেবা প্রদান করাতে ব্যর্থ হয়েছেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনাও তাদের নিকট কলাপাতার মতো। কি কারণে তারা চট্টগ্রামের মানুষকে স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত করবে তা সকলের মতো আমাদেরও বোধগম্য নয়।’

খোরশেদ আলম সুজন অভিযোগ করেন, নগরীর বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে শতাধিক আইসিইউ শয্যা থাকলেও সেগুলোয় ঠাঁই মিলছে না কোনো কোভিড কিংবা নন-কোভিড রোগীর। করোনা আক্রান্ত কোনো রোগী ভর্তি না করিয়েই হাসপাতালে ভর্তির তথ্য দেখাচ্ছে এসব হাসপাতাল। আইসিইউতে কোনো রোগী না থাকলেও ভর্তি থাকার তথ্য দেখাচ্ছে প্রশাসনকে।

একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে অভিযোগগুলো তদন্ত করে হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলসহ তাৎক্ষণিক জেল-জরিমানা দেওয়ার দাবি জানান খোরশেদ আলম সুজন।

তিনি বলেন, আমরা অনেক ধৈর্য্য ধরেছি। আমাদের ধৈর্যের বাঁধ ভাঙতে বাধ্য করবেন না। যদি তা না হয় তাহলে নাগরিক উদ্যোগ জনগণকে সাথে নিয়ে অভিযুক্ত হাসপাতালের সামনে কঠোর অবস্থান কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে।

রোগীর স্বজনদের প্রতি আহবান জানিয়ে খোরশেদ আলম সুজন বলেন, যদি কেউ মনে করেন কোন হাসপাতাল অস্বাভাবিক বিল প্রদান করেছে সে ক্ষেত্রে ঐ হাসপাতালের বিল যেন পরিশোধ করা না হয়। অযৌক্তিক বিল পরিশোধ করতে গিয়ে কারো ভিটে বাড়ি বিক্রি কিংবা বন্ধক রাখতে হলে সেটা হবে মানবতার শ্রেষ্ঠ অপরাধ। আমরা আবারো বলতে চাই নাগরিক উদ্যোগ জনগণের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতের লক্ষ্যে কাউকে আর বিনা চ্যালেঞ্জে ছেড়ে দেবে না।