
চট্টগ্রাম : মানবিক ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের ধারাবাহিক মানবিক স্পর্শে মানবতায় এগিয়ে থাকা চট্টগ্রাম ফিল্ড হাসপাতালের পাশে মানবিক সহায়তা নিয়ে এবার এগিয়ে এসেছে চট্টগ্রামকে দেওয়ার প্রত্যয়ে সদ্য প্রতিষ্ঠিত তারকা-সন্তানদের সংগঠন ‘লাভ ফর চট্টগ্রাম’।
সংগঠনের পক্ষ থেকে ফিল্ড হাসপাতালকে একটি হাই ফ্লো নাজাল ক্যানোলা, নন রিব্রিদেবল মাস্ক ও অতি জরুরি কিছু ওষুধপত্র প্রদান করা হয়।
বুধবার (৮ জুলাই) সকালে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব ভবনে সংগঠনের অস্থায়ী কার্যালয়ে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে ফিল্ড হাসপাতালের প্রধান উদ্যোক্তা ও সিইও ডা. বিদ্যুত বড়ুয়ার হাতে এসব ওষুধ সামগ্রী তুলে দেন ‘লাভ ফর চট্টগ্রাম’-এর অন্যতম উদ্যোক্তা চট্টগ্রামে নিযুক্ত রাশিয়ার অনারারি কনসাল স্থপতি আশিক ইমরান।
এসময় লাভ ফর চট্টগ্রাম-এর আরেক উদ্যোক্তা ফিনলে প্রপার্টিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোফাখখরুল ইসলাম খসরু, একুশে পত্রিকা সম্পাদক ও ফিল্ড হাসপাতালের উদ্যোক্তা-পরিচালক আজাদ তালুকদার, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আতাউল হাকিম খসরু উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে নগরের জেনারেল হাসপাতালে ১০টি অক্সিজেন সিলিন্ডার, নন রিব্রিদেবল মাস্ক, এন৯৫ মাস্ক ও পিপিই সামগ্রী এবং মা ও শিশু হাসপাতালে দুটি হাই ফ্লো নাজাল ক্যানোলা, নন রিব্রিদেবল মাস্ক, এন৯৫ মাস্ক ও পিপিই, সিএমপি-বিদ্যানন্দ ফিল্ড হাসপাতালে হাই ফ্লো নাজাল ক্যানোলা, এন৯৫ মাস্ক প্রদান করে ‘লাভ ফর চট্টগ্রাম’।
চরম মানবিক বিপর্যয় ও জাতির সঙ্কট-সন্ধিক্ষণে অনেকেই যখন আত্মরক্ষার নামে প্রকারান্তরে আত্মপ্রবঞ্চনায় ব্যস্ত, বাঁচার জন্য চারপাশে গগনবিদারী আর্তনাদ, তখনই আত্মপ্রকাশ করে ‘লাভ ফর চট্টগ্রাম’। চট্টগ্রামে বেড়ে ওঠা, স্ব স্ব ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত, আপন মহিমায় সমুজ্জ্বল কিছু সুর্যসন্তানের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই সংগঠনটির আপাদমস্তক উদ্দেশ্য এবং লক্ষ্য- জাতির দুর্দিন-দুঃসময়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং মানবিক সঙ্কট উত্তরণে কাজ করা।
এ প্রসঙ্গে ‘লাভ ফর চট্টগ্রাম’ এর অন্যতম উদ্যোক্তা স্থপতি আশিক ইমরান একুশে পত্রিকাকে বলেন, চট্টগ্রাম আমাদেরকে অনেক কিছু দিয়েছে। এবার চট্টগ্রামকে দেওয়ার পালা। চট্টগ্রামের যে কোনো সঙ্কটে, মানবিক খড়ায় আমরা নিবেদিতপ্রাণ হয়ে কাজ করতে চাই। সেই কারণে আমরা ’৮৩ ব্যাচের বন্ধু এবং সমসাময়িক, সমমনারা মিলে গত রমজান মাসে এক আড্ডা থেকে এই সংগঠনের আত্মপ্রকাশ। এখানে স্ব স্ব ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত চট্টগ্রাম এমনকি বাংলাদেশের সেক্টর-বিশেষ লিড করছেন এমন প্রতিষ্ঠিতজনরাও আছেন।
‘জেনারেল হাসপাতাল, মা ও শিশু হাসপাতাল, সিএমপি-বিদ্যানন্দ ফিল্ড হাসপাতালের পর এবার আমরা চট্টগ্রাম ফিল্ড হাসপাতালে এসেছি। করোনা-মহামারিতে দেশে প্রথমবারের মতো ফিল্ড হাসপাতাল গড়ার উদ্যোগ নিয়ে যে সাহস ও সেবার দৃষ্টান্ত তৈরি করেছেন সে কারণে সিইও ডা. বিদ্যুত বড়ুয়াসহ সংশ্লিষ্টদের আমরা স্যালুট জানাতে চাই।’ আগামিতেও ফিল্ড হাসপাতালের সাথে থাকার কথা জানান আশিক ইমরান।
ডা. বিদ্যুৎ বড়ুয়া বলেন, আজ সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সংগঠন ও ব্যক্তি পর্যায়ের প্রচেষ্টায় করোনা মোকাবিলায় ঘুরে দাঁড়িয়েছে চট্টগ্রাম। এ ক্ষেত্রে খুব অল্প সময়ে চালু হওয়া চট্টগ্রাম ফিল্ড হাসপাতালের অনবদ্য অবদান আজ মানুষের মুখে মুখে । তিনি প্রতিষ্ঠিত বন্ধুদের এই উদ্যোগকে অভিনব ও অনুকরণীয় বলে আখ্যায়িত করেন।
এছাড়া একইদিন বিকেলে চট্টগ্রাম ফিল্ড হাসপাতালে হাই ফ্লো-নাসাল ক্যানোলা প্রদান করে ডা. নুরুল আলম চৌধুরী ফাউন্ডেশন। আগ্রাবাদে র্যাংকস এফসি প্রোপার্টিস-এর কর্পোরেট অফিসে এই হস্তান্তর সম্পন্ন হয়।
ফাউন্ডেশনের পক্ষে ইউএসটিসির এসোসিয়েট প্রফেসর (এনাটমি) ডা. সুলতানা রুমা আলম এবং চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজের নিউরো সার্জারি বিভাগের ডা. মুহাম্মদ মাজেদ সুলতান ফিল্ড হসপিটালের প্রতিষ্ঠাতা ডা. বিদ্যুত বড়ুয়ার হাতে এই নাসাল ক্যানোলাটি তুলে দেন । এসময় র্যাংকস এফসি’র সিইও এবং কানেক্ট দ্যা ডটস ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা প্রকৌশলী তানভীর শাহরিয়ার রিমন উপস্থিত ছিলেন।
