শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২০, ৩১ শ্রাবণ ১৪২৭

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি বাম গণতান্ত্রিক জোটের

প্রকাশিতঃ বৃহস্পতিবার, জুলাই ৯, ২০২০, ৬:০৪ অপরাহ্ণ


চট্টগ্রাম : স্বাস্থ্য খাতে অনিয়ম, দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা বন্ধ ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে বাম গণতান্ত্রিক জোট চট্টগ্রাম জেলা। উক্ত কর্মসূচি থেকে করোনা টেস্টের ফি বাতিল, চট্টগ্রামের স্বাস্থ্য খাতে নৈরাজ্য বন্ধ, কোভিড-ননকোভিড সকল রোগীদের চিকিৎসা নিশ্চিত করার দাবিও জানানো হয়।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) লালদীঘি পাড়ে চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক কার্যালয়ের সামনে উক্ত বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়।

বাম জোট জেলা সমন্বয়ক ও সিপিবি জেলা সাধারণ সম্পাদক কমরেড অশোক সাহার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন গণসংহতি আন্দোলন চট্টগ্রাম জেলা সমন্বয়কারী হাসান মারূফ রুমি, সিপিবি জেলা সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য অমৃত বড়ুয়া, বাসদ জেলা কমিটির সদস্য মহিন উদ্দিন, বাসদ(মার্কসবাদী) জেলা সদস্য সচিব শফি উদ্দিন কবির আবিদ।

বাসদ সংগঠক রায়হান উদ্দিনের পরিচালনায় উপস্থিত ছিলেন সিপিবি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কমরেড মৃণাল চৌধুরী, বাসদ(মার্কসবাদী) নেতা আসমা আক্তার, গণসংহতি আন্দোলনের নেতা ফরহাদ জামান জনি।

এসময় নেতৃবৃন্দ বলেন, করোনা সংক্রমণ মোকাবিলায় সরকারের চিকিৎসা ব্যবস্থা ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের চরম ব্যর্থতা ফুটে ওঠেছে। এই স্বাস্থ্যমন্ত্রী ব্যর্থ। তারা বারবার বলে আসছিল, করোনা মোকাবিলায় তাদের প্রস্তুতি আছে, কিন্তু করোনা মোকাবেলায় চূড়ান্ত অব্যবস্থাপনায় স্পষ্ট হলো, তাদের কোনো প্রস্তুতিই ছিল না। করোনা মোকাবিলায় ৪৩টির ওপর কমিটি হয়েছে, কিন্তু বেশির ভাগেরই কোনো কার্যক্রম নেই। কোনো কোনো কমিটির এখন পর্যন্ত একটি বৈঠকও হয়নি। স্বাস্থ্যমন্ত্রী করোনা মোকাবিলায় জাতীয় কমিটির সভাপতি। কিন্তু তিনি জানেন না যে, কিভাবে গার্মেন্টস খুলে দেওয়া হয়। তিনি সংসদে দাঁড়িয়ে বলেন যে, স্বাস্থ্যকর্মীরা পিপিই পরতে জানেন না। এই ব্যর্থতা তো স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে তারই। অথচ এই অথর্ব ও ব্যর্থ স্বাস্থ্যমন্ত্রী এখনও বহাল তবিয়তে দায়িত্বে আছেন।

নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, করোনা নিয়ন্ত্রণে জন্য যেখানে প্রয়োজন ছিল গণহারে টেস্ট করা, আক্রান্তদের চিহ্নিত ও আলাদা করা,সেখানে সরকার করোনা টেস্ট নিয়ন্ত্রণ করার জন্য ফি আরোপ করেছে। দক্ষিণ এশিয়ার সব দেশে করোনা টেস্ট বিনামূল্যে হয়। অন্যদিকে দেখছি,আওয়ামী লীগ নেতার রিজেন্ট হাসপাতাল করোনা চিকিৎসার নামে ও ভুয়া রিপোর্ট দিয়ে জনগণ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।সরকারের কোন নিয়ন্ত্রণ নেই। স্বাস্থ্যখাতে এক চরম নৈরাজ্যজনক পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

তারা বলেন, চট্টগ্রামের কোটি মানুষের জন্য চিকিৎসা ব্যবস্থা খুব অপ্রতুল। চট্টগ্রামের মানুষ এ করোনাকালে চিকিৎসার অভাবে এক বিভীষিকাময় সময় অতিক্রম করছে। চার মাস সময় পেলেও করোনা মোকাবেলায় প্রস্তুতি শোচনীয়। টেস্টের সুযোগ সীমিত, রিপোর্ট পেতে একমাসও লাগছে। জেনারেল হাসপাতাল, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল করোনাকালে প্রধান ভরসাস্থল হলেও, সেখানে চিকিৎসার আয়োজন ও সুযোগ অপ্রতুল। পর্যাপ্ত বেড, আইসিইউ, সেন্ট্রাল অক্সিজেন সরবরাহ, হাই ফ্লো ক্যানুলা, জনবল, চিকিৎসা সামগ্রীর তীব্র ঘাটতি আছে।

নেতৃবৃন্দ চট্টগ্রামে দ্রুত কয়েকটি করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতাল স্থাপন, আইসোলেশন সেন্টার তৈরি, হাসপাতালে পর্যাপ্ত আইসিইউ বেড ও সিট, সেন্ট্রাল অক্সিজেন সরবরাহ, হাই ফ্লো ক্যানুলা নিশ্চিত করা, গণহারে করোনা পরীক্ষা ও ল্যাবের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং কোভিড, ননকোভিড সকলের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতের দাবি জানান সমাবেশে।

সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল কেসিদে রোড, আন্দরকিল্লা হয়ে চেরাগী পাহাড় মোড়ে এসে শেষ হয়।