শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২০, ৩১ শ্রাবণ ১৪২৭

চট্টগ্রামে গণপরিবহনে স্বাস্থ্যবিধি মানার বালাই নেই

প্রকাশিতঃ বৃহস্পতিবার, জুলাই ৯, ২০২০, ৬:৫৩ অপরাহ্ণ


ইমরান এমি : করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে শারীরিক দূরত্ব রক্ষাসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে রাস্তায় সীমিত আকারে গণপরিবহন চালুর অনুমতি দেয় সরকার। কিন্তু চট্টগ্রামে গণপরিবহনগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি বা নিরাপদ দুরত্ব মানতে দেখা যাচ্ছে না। এতে সংক্রমণের বাড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সরেজমিন বৃহস্পতিবার বিকেলে নগরের সিইপিজেড এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, পোশাক কারখানাগুলো ছুটি হওয়ার পর শ্রমিকদের ঢল। এ সময় সড়কের উপর দাঁড়িয়ে ছিল বেশকিছু গণপরিবহন। এ সময় কার আগে কে যাবেন এমন প্রতিযোগিতা দিয়ে যাত্রীদের বাসে উঠতে দেখা গেছে

এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর গণপরিবহনগুলোতে যাত্রী নেওয়ার সময় জীবানুনাশক স্প্রে ব্যবহার ও প্রতি সিটে দুইজনের স্থলে একজন করে নেওয়ার নির্দেশনা দিলেও সেটা মানার বালাই নেই। প্রতি সিটে দুইজন যাত্রী নেওয়ার পাশাপাশি দাঁড়িয়েও যাত্রী নিতে দেখা গেছে বাসগুলোকে। এমন অনিয়মে পিছিয়ে নেই বিআরটিসি বাসগুলোও।

সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় বিআরটিসির একটি বাস এসে দাঁড়ায় সিইপিজেড প্রধান ফটকের সামনে। দুইতলা বাসটির প্রতিটি সিটে দুইজন করে যাত্রী নেওয়ার পাশাপাশি সমান যাত্রী নিয়েছে দাঁড় করিয়েও। কোন যাত্রীকে ছিঁটানো হয়নি জীবানুনাশক স্প্রে।

এ চিত্র শুধু সন্ধ্যার সময়ের নয়। সকাল-দুপুর সবসময় স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘন করে অতিরিক্ত যাত্রী নিচ্ছে বাস, টেম্পু, টিকটিকিগুলো। নগরীর চকবাজার গুলজার মোড় থেকে আগ্রাবাদ-বড়পুল সড়কের টিকটিকিগুলোতে ৬ জন করে যাত্রী ননিতে বিআরটিএ’র নির্দেশনা থাকলেও দেখা গেছে তার উল্টো। চালকের পাশে দুইজন, পিছনের ১২ সিটে ১০ জন এবং দাঁড়িয়ে নিচ্ছে আরো দুইজন। কিছুদিন জীবানুনাশক স্প্রে ছিঁটালেও এখন সেটাও ছিঁটানো হচ্ছে না।

অপরদিকে দক্ষিণ চট্টগ্রাম থেকে নগরীর প্রবেশপথ শাহ আমানত সেতু নতুন ব্রীজ এলাকায়ও একই চিত্র দেখা গেছে। নতুন ব্রীজ থেকে বাসে করে দক্ষিণ চট্টগ্রামের ৭টি উপজেলাসহ বান্দরবান ও কক্সবাজার জেলায় যাতায়াত করে মানুষ। এসব রুটের বাসগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার অজুহাতে যাত্রীদের বাড়তি ভাড়া আদায় করলেও মানা হচ্ছে না কোন নির্দেশনা। এছাড়াও ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেলগুলোতে চালকসহ দুইজন নিয়ে চলাচলের নিয়ম থাকলেও তিনজন নিয়ে ব্রীজ পার হচ্ছে। একজনের হেলমেট ব্যবহার করছে অন্যরাও।

জানতে চাইলে চট্টগ্রামে বিআরটিএ’র নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুরে জামান একুশে পত্রিকাকে বলেন, আমরা প্রতিদিন তিনটি টিমে ভাগ হয়ে অভিযান চালাচ্ছি। চালকদের জরিমানা করছি। চালকরা তো যাত্রী নিতে চাইবে। কিন্তু জনগণকে সচেতন হতে হবে। দেখা গেলো, একটি টেম্পোর পিছনে পুরোটা খালি, কিন্তু চালকের পাশে দুজন যাত্রী বসে আছেন। এ জন্য আসলে আমরা দায়ী, আমরা সচেতন হলে এটা বন্ধ হবে।

তিনি আরো বলেন, আমি এখনো নতুন ব্রীজে অভিযান চালাচ্ছি। বৃহস্পতিবার আসলে এখানে এ নিয়ম মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা অভিযান চালিয়ে জরিমানাও করেছি। পাশাপাশি আমাদের আরো দুইটি টিমও অভিযান চালাচ্ছে।