চট্টগ্রাম কলেজে সেমিনারের টাকা নয়ছয়ের অভিযোগ


একুশে প্রতিবেদক : শিক্ষার্থীদের সেমিনারের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ অন্য খাতে ব্যয়ের অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রাম কলেজ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। সরকারি পরিপত্রের বাহিরে এমন পদক্ষেপে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে। তবে কলেজ কর্তৃপক্ষ বলছেন, জরুরি পরিস্থিতিতে কর্মচারীদের বেতনের জন্য এটি করা হচ্ছে।

বিশ্বস্থ সূত্র জানায়, করোনার দিক বিবেচনা করে গত ২০ জুলাই সকাল ১১ টায় চট্টগ্রাম কলেজের ১৩২ তম অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ভার্চ্যুয়াল ওই সভায় বিভাগীয় প্রধানদের সেমিনারের ফান্ডের টাকা অন্য একটি ফান্ডে একত্রিত করার প্রস্তাব করা হয়। যা বিভাগের অস্থায়ী ভিত্তিতে কাজ করা দৈনিক বেসরকারি কর্মচারীদের বেতন ভাতায় ব্যবহার হবে।

বিষয়টি জানাজানি হলে শিক্ষার্থীদের সেমিনারের টাকা তছরুপ করা হচ্ছে বলে দাবি করেছে কলেজ ছাত্রলীগ। আর বিভাগীয় প্রধানরা এমন সিদ্ধান্তে বিরোধিতা করেছেন।

২০১৪ সালের ৬ জুলাই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র অনুযায়ী, সরকারি যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনার্স ও মাস্টার্স কোর্স চালু রয়েছে সেসব প্রতিষ্ঠানের সেমিনারে খরচের যাবতীয় বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে।

পরিপত্রের ৬ ধারায় সেমিনারের বইপত্র, সাময়িকী, অবকাঠামোগত সুবিধা, কর্মশালা, আপ্যায়নসসহ শিক্ষা সংশ্লিষ্ট প্রয়োজনীয় খরচেরর আটটি বিষয় সুনির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়। প্রতি শিক্ষাবর্ষের শুরুতে প্রতিটি বিভাগে শিক্ষার্থীদের এককালীন ৪০০ সেমিনার ফি প্রদান করতে হয়। যা নিয়ে সেসিনারের যাবতীয় বিষয় দেখভাল করা হয়।

কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সবুজ মল্লিক সবুজ ফেসবুকে এ বিষয়ে একটি পোস্ট দেন। তিনি সরকারি পরিপত্রের আটটি দফার বাইরে অন্য খাতে ব্যয় করার কোনো সুযোগ নেই বলে দাবি করেন।

একুশে পত্রিকাকে সবুজ মল্লিক সবুজ বলেন, সরকারি পরিপত্রের বাইরে গিয়ে কাজ করা কোনো সরকারির প্রশাসকের এখতেয়ার বা ক্ষমতা নেই। আমাদের টাকা কোন খাতে ব্যয় করা হবে সেটি সরকার মন্ত্রণালয় থেকে ঠিক করে দিয়েছে। আমাদের অর্থ আমাদের প্রয়োজনে ব্যয় হবে, সেটিই আমাদের অধিকার।

তিনি আরও বলেন, আমি সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার নিয়ে সব সময় সোচ্চার ছিলাম। আমি চাই না শিক্ষার্থীদের এক পয়সাও নষ্ট হোক। অনেকে কলেজ প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্তে চুপ থাকতে পারে, আমি পারিনি।

কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি মাহমুদ এমন সিদ্ধান্তকে ষড়যন্ত্র বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি একুশে পত্রিকাবে বলেন, চট্টগ্রাম কলেজের অনেক ফান্ড রয়েছে। কিন্তু কর্তৃপক্ষ হুট করে শিক্ষার্থীদের টাকায় কেনো হাত দিলো বোধগম্য নয়।

ইতিমধ্যে একাডেমিক কাউন্সিলের দাবির বিষয়ে কলেজ প্রশাসনকে অবহিত করেছি। আপত্তি জানিয়েছি শিক্ষার্থীদের সেমিনারের টাকা অন্য কোনো খাতে ব্যয় করা যাবে না। কলেজের অধ্যক্ষকে জবাবদিহী করতে হবে, কেনো এই টাকা অন্য খাতে ব্যয় করার চেষ্টার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। এরপরেও সিদ্ধান্তে অটল থাকলে কলেজ অধ্যক্ষকে অবরুদ্ধ করে দাবি আদায় করে ছাড়ব। বলেন মাহমুদ।

এ বিষয়ে কলেজ অধ্যক্ষ মুজিবুল হক চৌধুরী একুশে পত্রিকাকে বলেন, যারা এসব বলছেন বা ফেসবুকে লিখছেন তারা সঠিকভাবে পরিপত্র না পড়েই বলছেন। সেমিনারের টাকা কোথাও স্থানান্তর বা নেওয়ার সুযোগ নেই। কলেজের ৩৩ টি ফান্ড রয়েছে। কোন ফান্ড থেকে নেওয়া হচ্ছে সেটা আমি আপনাকে বলতে পারব না। গত কয়েক মাস কলেজ বন্ধ রয়েছে। ফলে অনেক ফান্ডের টাকা অব্যবহ্রত রয়ে গেছে সেখান থেকেই দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে কর্মচারীদের বেতন প্রদান করা হবে।

তিনি বলেন, সেমিনারের টাকা তুলতে অধ্যক্ষ ও বিভাগীয় প্রধানের স্বাক্ষরের প্রয়োজন হয়। আমার একার কিছু করার থাকে না। প্রশাসনিক পদের কারণে ব্যক্তিগত কিছু ক্ষমতার মধ্যেই আমি সিদ্ধান্ত নিতে পারি। সে হিসেবে বেতন দেওয়ার ব্যবস্থা করছি।

তবে একাডেমিক কাউন্সিলের সদস্য ও একটি বিভাগের চেয়ারম্যান নাম প্রকাশ না করার শর্তে একুশে পত্রিকার কাছে বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

তিনি বলেন, জরুরি পরিস্থিতিতে সাময়িকভাবে নেওয়া হচ্ছে বেসরকারি কর্মচারীদের বেতনের জন্য। সরকারি পরিপত্রের বাইরে হলেও অবস্থা বিবেচনায় এটি করতে হচ্ছে।