চবি: চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার নাজিরহাট এলাকার বাসিন্দা সাজু বেগম। অসুস্থ স্বামী আর দুই শিশু সন্তান নিয়ে তার জীবন। সকাল-দুপুর বাড়ি বাড়ি গিয়ে চাল তুলে চলে তার সংসার। সহায় সম্বল বলতে ছোট্ট একটুকরো জমি। আর্থিক অনটনের এ পরিবারে এবারের শীতে গরম কাপড় যোগাড় হয়নি। শনিবার দুপুরে এই পরিবারের জন্য কম্বল নিয়ে হাজির চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থী।
যাদের নের্তৃত্ব দেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহ সম্পাদক সাবরিনা চৌধুরী। শুধু সাজু বেগমের পরিবারই নয়, নাজিরহাট এলাকার এক’শ পরিবারের মাঝে সাবরিনার উদ্যোগে বিতরণ করা হয় শীতবস্ত্র।
মেয়ের অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর এ অনন্য উদ্যোগকে আরও উৎসাহ দিতে বাবা মজহারুল হক শাহও ছিলেন শীতবস্ত্র বিতরণের সময়। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি ও ফটিকছড়ির সাবেক সংসদ সদস্য। সাথে ছিলেন স্থানীয় সামাজিক সংগঠন সবুজ সংঘের উপদেষ্টা মোকাম্মেল হক শাহ চৌধুরী।
শীত বস্ত্র বিতরণ আয়োজনে চবি থেকে অংশ নেয় চবি ছাত্রলীগের কর্মী মুহিত উল্লাহ, আরিফ, তাসলিমুল বশর, ফয়সাল, আসিফ, রিদোয়ান, মিরাজ, পুনম বনিক, রিয়া, আখি, রকি দত্ত প্রমুখ।
শীতবস্ত্র বিতরণ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে চাকসুর সাবেক ভিপি মজহারুল শাহ বলেন, সামাজিক দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে যুবসমাজই প্রধান হাতিয়ার। দেশকে দারিদ্রমুক্ত করতে যুবসমাজের অংশগ্রহন নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আজকে যে দেশ আমরা পেয়েছি তা সম্ভব হয়েছে তরুণ সমাজের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহনের জন্য। প্রত্যেক পাড়ায় মহল্লায় তরুণ-তরুণীরা যদি সংগঠিত হয়, তাহলে ক্ষুদা-দারিদ্রমুক্ত একটি বাংলাদেশ গঠন সম্ভব।
তিনি গ্রামের দরিদ্র পরিবারের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের প্রশংসা করেন।
শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে চবি ছাত্রলীগের সহ সম্পাদক সাবরিনা চৌধুরী বলেন, শুধুমাত্র দায়িত্ববোধের চেতনা থেকে বন্ধুদের সাথে নিয়ে গ্রামে ছুটে আসা। সাথে কিছু শীতবস্ত্র নিয়ে অসহায় পরিবারেরগুলোর পাশে দাঁড়ানোর প্রয়াস আমাদের। এই পরিবারগুলোর সংকট দূর করতে পারলেই আমরা আমাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে পারছি বলে নিশ্চিত হব। সমাজের প্রত্যেক স্তরের মানুষকে যার যার অবস্থান থেকে দারিদ্রমুক্ত দেশ গড়ার কাজে অংশগ্রহন করতে হবে।
