যে আট বিষয়ে ট্রাম্পের ইতিহাস

বিবিসি: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে বেশ কিছু ক্ষেত্রে ‘প্রথম’ হওয়ার নজির সৃষ্টি করেছেন তিনি। ইতিমধ্যে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ইতিহাস সৃষ্টির নিশ্চয়তাও দিয়েছেন নতুন এই প্রেসিডেন্ট।

আপনি তাঁকে পছন্দ বা ঘৃণা যা-ই করেন না কেন, এটা সত্য যে দায়িত্ব নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বেশ কয়েকটি দিক থেকে তিনি ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। সে বিষয়গুলো দেখে নেওয়া যাক:

সবচেয়ে বয়স্ক প্রেসিডেন্ট
গত বছরের ১৪ জুন ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর ৭০তম জন্মদিন উদ্‌যাপন করেন। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে তিনি সবচেয়ে বয়স্ক প্রেসিডেন্ট। এর আগে এই রেকর্ড ছিল রোনাল্ড রিগ্যানের। ১৯৮১ সালে দায়িত্ব নেওয়ার সময় তাঁর বয়স ছিল ৬৯ বছর।

যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে কম বয়সে (৪২ বছর ৩২২ দিন) প্রেসিডেন্ট হন থিওডোর রুজভেল্ট। ১৯০১ সালে উইলিয়াম ম্যাককিনলে খুন হওয়ার পর দায়িত্ব নেন তিনি।

প্রথম ধনকুবের প্রেসিডেন্ট
ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম ধনকুবের প্রেসিডেন্ট। ফোর্বস সাময়িকীতে বলা হয়েছে, তাঁর সম্পদের পরিমাণ ৩৭০ কোটি ডলার। তবে ট্রাম্প নিজে এক বিবৃতিতে দাবি করেছেন, তাঁর সম্পদের পরিমাণ এক হাজার কোটি ডলারের কিছু বেশি। প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য প্রতীকী বেতন হিসেবে মাত্র এক ডলার করে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প।

সম্পদশালী মন্ত্রিসভা
ধনকুবের ট্রাম্পের মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পেয়েছেন কোটিপতিরা। গত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক পার্টির মনোনয়ন পেতে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী বার্নি স্যান্ডার্স টুইট বার্তায় বলেছেন, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন: ধনকুবের, কোটিপতিদের জন্য।’ ভালো হোক বা খারাপ হোক, আধুনিক যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এটাই হবে সবচেয়ে সম্পদশালীদের প্রশাসন।

ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে জানানো হয়, বাণিজ্যমন্ত্রী হিসেবে ট্রাম্পের মনোনীত উইলবার রসেরই রয়েছে ২৫০ কোটি ডলারের সম্পত্তি। সব মিলিয়ে ট্রাম্পের মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পাওয়া ব্যক্তিদের সম্পদের পরিমাণ সাড়ে তিন হাজার কোটি ডলার হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অনভিজ্ঞ রাজনীতিক
ট্রাম্প কম রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন। গত ৬০ বছরের বেশি সময়ের মধ্যে ট্রাম্পই প্রথম ব্যক্তি, যিনি কংগ্রেস বা রাজ্যের গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন না করেই প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। দেশটিতে রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা না থাকা সর্বশেষ প্রেসিডেন্ট ছিলেন আইসেনহাওয়ার। ১৯৫৩ সালে দায়িত্ব নেওয়ার আগে তিনি ছিলেন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে মিত্রবাহিনীর সুপ্রিম কমান্ডার। তবে অনেক ভোটার মনে করেন, ট্রাম্পের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার অভাব তাঁর অকপট ব্যক্তিত্বেরই নিশ্চয়তা দিচ্ছে।

ক্ষমতাধর সন্তান
মার্কিন প্রেসিডেন্টের সন্তানদের ক্ষমতার দিক থেকেও সবাইকে ছাড়িয়ে গেছেন ট্রাম্প। জামাতা আবাসন ব্যবসায়ী জেরার্ড কুশনারকে জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন তিনি। এ নিয়োগের ফলে ট্রাম্পের প্রশাসনে আত্মীকরণের আশঙ্কা করা হচ্ছে। অনেকেই দাবি করছেন, ওই নিয়োগের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রেসিডেন্টের সবচেয়ে ক্ষমতাধর জামাতায় পরিণত হলেন ৩৬ বছর বয়সী কুশনার।

যদিও প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসনের অর্থমন্ত্রী উইলিয়াম গিবস ম্যাকাডুও বিয়ে করেছিলেন উইলসনের মেয়ে ইলিয়েনরকে। তবে ওই বিয়ে হয়েছিল মন্ত্রী হওয়ার পরে।

এ ছাড়া ট্রাম্পের বড় মেয়ে ইভানকা ট্রাম্পকেও (কুশনারের স্ত্রী) মার্কিন প্রেসিডেন্টদের মেয়েদের মধ্যে সবচেয়ে প্রভাবশালী মেয়ে বলে বিবেচনা করা হচ্ছে।

পোষা প্রাণী নেই
হইচই বাধানোর মতো ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনেক কিছুই রয়েছে। তবে একটি জিনিসের অভাব রয়েছে—একটি পোষা প্রাণী। সম্ভবত ১০০ বছরের মধ্যে তিনি প্রথম প্রেসিডেন্ট হতে যাচ্ছেন, যাঁর সঙ্গে কোনো পশু সঙ্গী হিসেবে থাকছে না।

প্রেসিডেনশিয়াল পেট মিউজিয়াম থেকে জানা গেছে, সব প্রেসিডেন্টেরই সঙ্গে পোষা প্রাণী ছিল। কারও কারও পশুর পুরো একটি পাল ছিল।

মুক্তবাণিজ্যের তীব্র বিরোধী
ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদন শিল্পের পতনের জন্য মুক্তবাণিজ্য নীতিকে দোষারোপ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রেসিডেন্টের এই অবস্থান বিরল। ১৯৩০-এর দশকে রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট হারবার্ট হুভারের মধ্যে এই ধরনের অবস্থান দেখা গিয়েছিল।

২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে ট্রাম্প বলেছিলেন, চীন আমাদের ‘মেরে ফেলছে’। প্রেসিডেন্ট হলে তিনি চীনের পণ্যের ওপর ১২ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপ করবেন। নির্বাচনী প্রচারণা চলাকালে তিনি কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর মধ্যকার ২৩ বছর ধরে চলা মুক্তবাণিজ্য চুক্তি নাফটা বাতিল করার হুমকি দিয়েছিলেন।

এ ছাড়া ডোনাল্ড ট্রাম্প ১২ জাতির ট্রান্সপ্যাসিফিক পার্টনারশিপ বাণিজ্য চুক্তি পরিত্যাগের প্রতিশ্রুতি দেন।

ফার্স্ট লেডি হিসেবে মেলানিয়া
শুধু ট্রাম্প নন, তাঁর স্ত্রী মেলানিয়া ফার্স্ট লেডি হিসেবে নিয়ে এসেছেন অনেক ‘নতুনত্ব’। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম ফার্স্ট লেডি, যাঁর মাতৃভাষা ইংরেজি নয়। মেলানিয়া এসেছেন স্লোভেনিয়া থেকে। তাঁর জন্ম স্লোভেনিয়ায়।

মেলানিয়া অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে জন্ম নেওয়া দ্বিতীয় ফার্স্ট লেডি। যুক্তরাষ্ট্রের ষষ্ঠ প্রেসিডেন্ট জন অ্যাডামসের (১৮২৫-১৮২৯) স্ত্রী লুইজা অ্যাডামস ছিলেন প্রথম ফার্স্ট লেডি, যিনি যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে জন্ম নেওয়া। লুইজা জন্মগ্রহণ করেন লন্ডনে।

মেলানিয়ার আগে ট্রাম্প দুটি বিয়ে করেন। কাজেই মেলানিয়াই প্রথম ফার্স্ট লেডি, যিনি প্রেসিডেন্টের তৃতীয় স্ত্রী। ট্রাম্পের আগে রোনাল্ড রিগ্যান ছিলেন একমাত্র প্রেসিডেন্ট, যাঁর স্ত্রীবিচ্ছেদ ছিল। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার আগেই তাঁর স্ত্রীবিচ্ছেদ ঘটে।

মেলানিয়া স্লোভেনীয়, ইংরেজি, ফরাসি, জার্মান ও সার্বীয় ভাষা জানেন। কাজেই সম্ভবত তিনিই প্রথম ফার্স্ট লেডি, যিনি সবচেয়ে বেশি ভাষা জানেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের স্ত্রী হিসেবে মেলানিয়াই প্রথম, যাঁর নগ্ন ছবি প্রকাশিত হয় সাময়িকীতে। ২০০০ সালে জিকিউ সাময়িকীতে অন্য অনেকের সঙ্গে মেলানিয়ার নগ্ন ছবি ছাপা হয়। যদিও এ ধরনের বিষয়ে কম যানটি ট্রাম্পও। ১৯৯০ সালের মার্চে প্লেবয় সাময়িকীর কাভারে আবির্ভূত হয়েছিলেন ট্রাম্প। সঙ্গে স্লোগান ছিল: ‘দারুণ সাময়িকী, এটা কি বিক্রি করতে চান?’