বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ৮ আশ্বিন ১৪২৭

খুন করে বন্ধুর জানাজা-দাফনে কিশোর!

প্রকাশিতঃ শুক্রবার, আগস্ট ৭, ২০২০, ৩:২৪ অপরাহ্ণ


চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম নগরের খুলশী থানা এলাকার পাহাড় থেকে স্কুলছাত্র রাসেল (১৩) হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তারের পর তার বন্ধু এক কিশোর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) জালালাবাদ হাউজিং সোসাইটি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। একইদিন সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে খুনের বর্ণনা দেয় ১৫ বছর বয়সী ওই কিশোর।

এর আগে গত সোমবার রাত সাড়ে আটটার দিকে নগরের খুলশী থানার পশ্চিম জালালাবাদ শাকবাজার–সংলগ্ন একটি পাহাড় থেকে মো. রাসেল ১৩ নামের এক স্কুলছাত্রের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

রাসেল জালালাবাদ হাউজিং সোসাইটির বালুরপাড় প্রিন্সের কলোনির হুমায়ুন কবিরের ছেলে। স্থানীয় কৃষ্ণচূড়া আদর্শ বিদ্যানিকেতনে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ত রাসেল।

ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে গত ৩১ জুলাই বাসা থেকে বের হয় রাসেল। তারপর সে আর বাসায় ফেরেনি। অনেক খোঁজাখুঁজি করে তাকে না পেয়ে তার বাবা হুমায়ুন কবির খুলশী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

এ ঘটনা তদন্তে নেমে রাসেলের বন্ধু এক ইলেকট্রিক মিস্ত্রি কিশোরকে গতকাল বৃহস্পতিবার গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওই কিশোর হত্যার ঘটনার নিজের সম্পৃক্ততার তথ্য জানান। এরপর জবানবন্দি রেকর্ড করার জন্য তাকে আদালতে নেয়া হয়।

পুলিশ জানায়, জবানবন্দিতে ইলেকট্রিক মিস্ত্রি কিশোর বলেছে, নিহত রাসেল ও সে বন্ধু। পাশাপাশি বাসা। সেই সুবাদে প্রায়ই আড্ডা দেয় তারা। কিছুদিন আগে একজনের সঙ্গে আরেকজনের কথা–কাটাকাটি হয়। কথা–কাটাকাটির জেরে ইলেকট্রিক মিস্ত্রি কিশোর তার স্কুলপড়ুয়া বন্ধুকে খুনের ফন্দি আঁটে। সেই মতো একদিন স্কুলপড়ুয়া বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে ছুরি কেনে ইলেকট্রিক মিস্ত্রি কিশোর।

পরে স্কুলপড়ুয়া বন্ধুকে ডেকে পাহাড়ের চূড়ায় নিয়ে তাকে ছুরিকাঘাতে খুন করে ইলেকট্রিক মিস্ত্রি কিশোর। পরে সে ফিরে এসে তার রক্তমাখা পোশাক পরিবর্তন করে ঘুমিয়ে পড়ে। স্কুলপড়ুয়া কিশোরের লাশ যখন উদ্ধার করা হয়, তখন বন্ধুর জন্য কান্নাকাটি করতে থাকে ইলেকট্রিক মিস্ত্রি কিশোর। শোকার্ত মনে সে তার বন্ধুর জানাজা ও দাফন-কাফনেও অংশ নেয়।

খুলশী থানার ওসি প্রণব চৌধুরী বলেন, ইলেকট্রিক মিস্ত্রি কিশোর তার বন্ধু রাসেলকে হত্যার বিস্তারিত বিবরণ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে দিয়েছে। তাকে চট্টগ্রাম কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে গাজীপুরের কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।