স্বৈরাচার এরশাদের সহযোগীদের বিচার দাবি আ.লীগ নেতাদের

চট্টগ্রাম: স্বৈরাচার এরশাদের সহযোগীদের দল থেকে বের করে দিয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধীদের মতো বিচারের দাবি জানিয়েছেন চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগ নেতারা। নগরীর লালদীঘিতে শেখ হাসিনার গাড়িবহরে গুলি চালিয়ে ২৪ জনকে হত্যার বর্ষপূর্তিতে মঙ্গলবার আয়োজিত এক সমাবেশে এ দাবি জানানো হয়।

চট্টগ্রাম আদালতের প্রবেশমুখে শহীদদের স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ২৯ বছর আগে স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের সময় নারকীয় এই হত্যাকান্ডকে ‘চট্টগ্রাম গণহত্যা দিবস’ হিসেবে পালন করে আওয়ামী লীগ।

সমাবেশে নগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন বলেন, স্বৈরাচার এরশাদের পতন ঘটিয়ে দেশে গণতন্ত্র ফেরানোর জন্য আমাদের সভানেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অনেক নেতাকর্মী জীবনবাজি রেখে যুদ্ধ করেছে। অনেক নেতাকর্মীর রক্তে রঞ্জিত হয়েছে রাজপথ। জেলজুলুম, অত্যাচার সহ্য করে আমরা স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছি।
তিনি বলেন, স্বৈরাচারের সহযোগীরা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হত্যা করার জন্য চট্টগ্রামের রাস্তায় বোমা নিয়ে ঘুরত। তাদের আমরা গণদুশমন ঘোষণা করেছিলাম। কিন্তু দুঃখের বিষয় দেশে গণতন্ত্র ফিরে আসার পর সেই গণদুশমনদের অনেকে লেবাস পাল্টে বিভিন্ন ফাঁকফোকরে আওয়ামী লীগের ভেতরে ঢুকে গেছে।

খোরশেদ আলম সুজন বলেন, চট্টগ্রামের সেই গণদুশমনদের অনেকে এখন এমপি হয়ে সংসদেও আছে। স্বৈরাচারের সহযোগী গণদুশমনদের সংসদে দেখলে, দলের ভেতরে দেখলে আমাদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়। সেই গণদুশমনদেরও দল এবং সংসদ থেকে বের করে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর জন্য নেত্রীর কাছে আমরা দাবি জানাচ্ছি।

সভাপতির বক্তব্যে নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেন, সেদিন যারা স্বৈরাচারের সহযোগী ছিল তাদের অনেকে এমপি হয়েছে। এমপি হয়ে বন্দরের সম্পদ লুটপাট করছে। মাদকের ব্যবসা করছে। দলের নাম ভাঙ্গিয়ে লুটেরা আর মাদক ব্যবসায়ীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় যারা দিচ্ছে তাদের ক্ষমা করবো না। তাদের জায়গা সংগঠনে হবে না। আর এরশাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে আবারও আন্দোলনে নামব।

সমাবেশে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য ইছহাক মিয়া, নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমদ, নগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি অ্যাডভোকেট ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল ও জহিরুল আলম দোভাষ, আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী বক্তব্য রাখেন।