মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ৭ আশ্বিন ১৪২৭

ভারতের অর্থনৈতিক কাঠামো শেষ হয়ে গেছে : রাহুল গান্ধী

প্রকাশিতঃ রবিবার, আগস্ট ৯, ২০২০, ১০:৫৮ অপরাহ্ণ


আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভারতের প্রধান বিরোধীদল কংগ্রেসের সাবেক সভাপতি রাহুল গান্ধী এমপি কেন্দ্রীয় সরকার ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সমালোচনা করে বলেছেন, ভুল নীতির কারণে দেশের অর্থনৈতিক কাঠামো শেষ হয়ে গেছে। তিনি আজ (রোববার) এক ভিডিও বার্তায় ওই মন্তব্য করেছেন।

৯ আগস্ট যুব কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠা দিবসকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনায় সোচ্চার হয়েছেন রাহুল গান্ধীসহ কংগ্রেসের একাধিক নেতা। আজ থেকে যুব কংগ্রেস ‘কর্মসংস্থান দাও’ কর্মসূচিতে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে মাঠে নেমে পড়েছে। কর্মহীন বেকার যুবকদের জন্য সোচ্চার হওয়া এবং তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করাই ওই আন্দোলনের উদ্দেশ্য।

রাহুল গান্ধী আজ বলেন, ‘যখন নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন, তখন তিনি দেশের যুবকদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে তিনি প্রত্যেক বছর ২ কোটি যুবকের কর্মসংস্থান দেবেন। তিনি অনেক বড় স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন। কিন্তু সত্য প্রকাশ পেয়েছে। নরেন্দ্র মোদির ভুল নীতির জন্য ১৪ কোটি মানুষকে কর্মহীন বেকার করে তুলেছে। এটা কেন হয়েছে? ভুল নীতির কারণে এমনটা হয়েছে। এগুলো হল, নোট বাতিল, ভুল পণ্য ও পরিসেবা কর (জিএসটি), এবং লকডাউন। ওই তিন পদক্ষেপে ভারতের অর্থনৈতিক কাঠামোকে শেষ করে দিয়েছে।’

আজ যুব কংগ্রেসের প্রধান বি ভি শ্রীনিবাস বলেন, ‘দেশে বর্তমানে ৩০ কোটির বেশি যুবক কর্মহীন অবস্থায় রয়েছে। বেকারত্ব এমন পর্যায়ে পৌঁছে গেছে যে প্রত্যেকদিন কোনও না কোনও যুবক আত্মহত্যা করছেন। আর এটা দুঃখজনক যে, কেন্দ্রীয় সরকার যুবকদের আওয়াজকে উপেক্ষা করছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই সরকার প্রত্যেক বছর দু’কোটি যুবকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবে প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল। সেই হিসেবে গত ৬ বছরে ১২ কোটি লোকের কর্মসংস্থান হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু এর বিপরীতে করোনার লড়াইয়ে অব্যবস্থাপনার কারণে কমপক্ষে ১২ কোটি মানুষ চাকরি হারিয়েছেন!

বি ভি শ্রীনিবাসের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সরকার রেলওয়ে বেসরকারিকরণ করে এবং সরকারি সংস্থা বিক্রি করে যুবকদের উপার্জনের সুযোগ একনাগাড়ে কেড়ে নিচ্ছে।

অন্যদিকে, আজ বিহারের কিষাণগঞ্জের কংগ্রেস নেতা ডা. মুহাম্মাদ জাভেদ এমপি বলেন, ‘বড় আশা করে ভারতবাসী মোদিজীকে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত করেছিলেন। এবং তিনি যে স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন- ১৫ লাখ টাকা দেওয়ার স্বপ্ন, প্রত্যেক বছর ২ কোটি চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি, এসবে যুবকরা খুব আশাবাদী হয়ে এই সরকারকে ক্ষমতাসীন হওয়ার সুযোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু আমরা এখন দেখছি, বছরে ২ কোটি চাকরি তো দূরের কথা, গত ৬ বছরে আমাদের সন্তানদের, ভারতীয় যুবকদের যে ১২ কোটি চাকরি পাওয়া উচিত ছিল তাঁর পরিবর্তে গত কয়েক মাসে করোনা মহামারী সঠিকভাবে মোকাবিলায় ব্যর্থ হয়ে ১২ কোটি মানুষ চাকরি হারিয়েছেন। সব মিলিয়ে কমপক্ষে ৩০ কোটি মানুষ কর্মহীন অবস্থায় রয়েছে।’

যুবকদের কর্মসংস্থানের দাবি আন্দোলনে দেশবাসীকে তাদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন সারা ভারত কংগ্রেস কমিটির সম্পাদক ড. মুহাম্মাদ জাভেদ এমপি।