শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ৪ আশ্বিন ১৪২৭

আর যেন বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড না ঘটে : সিনহার বোন

প্রকাশিতঃ সোমবার, আগস্ট ১০, ২০২০, ১১:৩৭ অপরাহ্ণ


ঢাকা : অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাদের সংগঠন রিটায়ার্ড আর্মড ফোর্সেস অফিসার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন বা -‘রাওয়া’ কক্সবাজারে পুলিশের গুলিতে নিহত মেজর (অব:) সিনহার মামলার অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করে দাবি করেছে এ হত্যাকাণ্ডের বিচার যেন দৃষ্টান্তমূলক ও দ্রুততম সময়ে সম্পন্ন করা হয়।

আজ সোমবার (১০ আগস্ট) রাজধানীর উত্তরায় সিনহা রাশেদের পরিবারের সদস্যদের সাথে দেখা করেন সাবেক সেনা সদস্যরা।

মেজর (অবসরপ্রাপ্ত) সিনহা মো. রাশেদের হত্যাকাণ্ডে সরকার এবং প্রশাসনের পদক্ষেপ এবং তদন্তে অগ্রগতিতে সিনহার পরিবার এবং রাওয়ার গক্ষ থেকে সন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে।

এ সময় ‘রাওয়া’ চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত মেজর খন্দকার নুরুল আফসার দাবি করেছেন, অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তারা আরো যে-সব বিচারহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে সেগুলোরও যেন সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার হয়।

তিনি বলেন,সিনহা হত্যার বিচার যদি দ্রুত নিষ্পত্তি হয় তাহলে হয়তো সিনহা বা সিনহার মতো ভুক্তভোগীদের আত্মা শান্তি পাবে।

এ সময় ‘রাওয়া’ চেয়ারম্যান আরও বলেন, শুধু সিনহার নয়; ওসি প্রদীপ অন্য যে-সব বিচার বহির্ভূত হত্যা ঘটিয়েছে সেগুলোরও বিচার হওয়া উচিত। এসময় তিনি প্রশাসন ও সরকারের প্রতি আবেদন করে বলেন, এ হত্যার তদন্ত বা বিচারের বিষয়টি যেন দীর্ঘায়িত করা না হয়। কারণ এটা যে ঠাণ্ডা মাথায় হত্যা তা ইতিমধ্যেই প্রমাণিত।

সিনহার বোন এবং মামলার বাদী শারমিন শাহরিয়ার বলেছেন, আর যেন বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড না ঘটে। এটাই যেন এরকম হত্যার শেষ ঘটনা হয়।

ছেলের নানা স্মৃতির কথা মনে করে আবেগপ্রবণ হয়ে সিনহার মা নাসিমা আক্তার বলেন,’কথায় নয়,কাজে বিশ্বাসী ছিল আমার ছেলে। দেশকে নিয়ে অনেক ভাবতো। ছেলে আমাকে বলতো,আম্মি আমরা যদি দেশে ভালো কিছু রেখে যাই তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম সেটা অনুসরণ করবে।’

এদিকে,কক্সবাজারে পুলিশের গুলিতে নিহত মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খানের সহকর্মী সাহেদুল ইসলাম ওরফে সিফাতের জামিন হয়েছে। কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত আজ সোমবার বেলা ১১টার দিকে এ আদেশ দেন।

এর আগে গতকাল রোববার দুপুরে জামিন পান সিনহার টীমের আরেক সদস্য শিপ্রা দেবনাথ। সিফাত ও শিপ্রা স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী। গত ৩ জুলাই সিনহার সঙ্গে শিপ্রা,সিফাতসহ তিন জন ভ্রমণবিষয়ক ভিডিওচিত্র ধারণ করতে কক্সবাজার যান।

গত ৩১ জুলাই রাতে টেকনাফের মারিষবুনিয়া পাহাড়ে ভিডিওচিত্র ধারণ করে মেরিন ড্রাইভ দিয়ে কক্সবাজারের হিমছড়ি এলাকার নীলিমা রিসোর্টে ফেরার পথে শামলাপুর তল্লাশি চৌকিতে পুলিশের গুলিতে নিহত হন মেজর (অব.) সিনহা। এ সময় পুলিশ সিনহার সঙ্গে থাকা সিফাত ও শ্রিপ্রাকে আটক করে কারাগারে পাঠায়।