সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ৬ আশ্বিন ১৪২৭

আমিরাত-ইসরাইল চুক্তি: মুসলিম দুনিয়ায় ভূ-রাজনৈতিক কম্পন!

প্রকাশিতঃ শনিবার, আগস্ট ১৫, ২০২০, ১:০৩ অপরাহ্ণ


আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইসরাইলের সাথে সংযুক্ত আরব আমিরাতের চুক্তি নিয়ে মুসলিম দুনিয়ায় সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক ক্ষোভ আর প্রতিক্রিয়া। ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় এই চুক্তিকে একদিকে ফিলিস্তিনিদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা অন্যদিকে মুসলিম দুনিয়ায় বিভেদ বাড়ানোর প্রেক্ষাপট হিসেবে দেখা হচ্ছে। চুক্তি নিয়ে মিসরসহ বেশ কয়েকটি মুসলিম দেশের প্রধানরা সরাসরি সমর্থন জানালেও মুসলিম দুনিয়ায় একে ভূ-রাজনৈতিক কম্পন হিসেবেই দেখছেন অনেকে।

বিবিসি জানিয়েছে, নিউইয়র্ক টাইমসের বিখ্যাত কলামিস্ট টমাস এল ফ্রিডম্যান এই চুক্তিকে একটি ভূ-রাজনৈতিক ভূমিকম্প হিসেবে অ্যাখা দিয়েছেন। তাঁর এক লেখায় তিনি বর্ণণা করেছেন, “আনোয়ার সাদাতের জেরুসালেমে যাওয়ার মতো কোন ঘটনা এটি নয়- কারণ আরব এবং ইসরায়েলিদের মধ্যে প্রথম সম্পর্ক খুলে যাওয়ার সেই বড় ঘটনার সমকক্ষ আর কিছুই হতে পারে না। হোয়াইট হাউসের লনে ইতজাক রাবিনের সঙ্গে ইয়াসির আরাফাতের করমর্দনের সঙ্গেও এর তুলনা চলে না। কারণ ইসরায়েলি আর ফিলিস্তিনিদের মধ্যে প্রথম প্রকাশ্য সমঝোতার সমান আর কিছুই হতে পারে না।”

বিবিসি আরও জানায়, ফিলিস্তিনিরা সংযুক্ত আরব আমিরাতের এমন সমঝোতাকে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ হিসেবে দেখছে। ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস এর নিন্দা করে বলেছেন, “এটি জেরুসালেম, আল-আকসা এবং ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা।” উর্ধ্বতন ফিলিস্তিনি কর্মকর্তা হানান আশরাউই এই সমঝোতার নিন্দা করে বলেছেন, ইসরায়েলের সঙ্গে তলে তলে যেসব গোপন লেনদেন আর সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালাচ্ছিল, সেটা এবার প্রকাশ হয়ে গেল। তিনি আবুধাবির প্রিন্স মোহাম্মদকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “নিজের বন্ধুর দ্বারা কেউ যেন এভাবে বিক্রি হয়ে না যান।”

এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এ নিয়ে চলছে আলোচনা ও সমালোচনার ঝড়। কাদের ইব্রাহিম নামের সোমালিয়ান এক নাগরিক টুইটে লিখেছেন, ইসরাইলকে গ্রহণের মাধ্যমে আমিরাত ফিলিস্তিনিদের পিঠে চুরিকাঘাত করেছে। এখন অনেক আরব দেশও এটিকে অনুসরণ করবে। ভূরাজনীতিতে এটি একটি বড় পরিবর্তন। আমিরাতের জন্য এ চুক্তি লজ্জাজজনক।

তুরস্কের বরাত দিয়ে এএফপি ও গার্ডিয়ান বলছে, আমিরাতের এ ভণ্ডামি কোনো দিনও ক্ষমা পাবে না। এ চুক্তি মুসলিম উম্মাহর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল। তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গণমাধ্যমে জানায়, ‘নিজেদের সংকীর্ণ স্বার্থে ফিলিস্তিনি ইস্যুতে বিশ্বাসঘাতকতা করেও আরব আমিরাত একে ফিলিস্তিনিদের জন্য আত্মত্যাগ করার মতো কাজ হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছে। এটা বিশ্বের পুরো মুসলিম উম্মাহর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা।’

আরব আমিরাত-ইসরাইল চুক্তির নিন্দা জানিয়েছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকমী সংগঠন হামাসও। ওই চুক্তিকে ফিলিস্তিনসহ পুরো মুসলিম উম্মাহর পিঠে ছুরিকাঘাত বলে উল্লেখ করে সংগঠনটি।

নের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শুক্রবার সকালে এক বিবৃতিতে বলেছে, নির্যাতিত ফিলিস্তিনি জাতিসহ বিশ্বের কোনো স্বাধীনচেতা জাতি অবৈধ দখলদার ও অপরাধী ইসরায়েলের সঙ্গে তার অপরাধের ভাগীদারদের এই সম্পর্ক স্থাপন প্রক্রিয়াকে কখনো ক্ষমা করবে না।

তবে ইসরায়েলের মিত্র মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদুল ফাত্তাহ আল-সিসি এই চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছে। ইসরায়েলের আরেক মিত্র জর্ডানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আয়মান সাফাদি বলেছেন, এই চুক্তির পর থমকে যাওয়া মধ্যপ্রাচ্য শান্তি আলোচনা নতুন করে শুরু হতে পারে।