আনোয়ারার ব্যবসায়ীকে অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ (ভিডিও)


আনোয়ারা (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি : ব্যবসায়িক বিরোধের জের ধরে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় নাছির উদ্দীন শাহ (৪৩) নামের একজন মৎস্য ব্যবসায়ীকে অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে র‌্যাবের বিরুদ্ধে।

আজ বুধবার সন্ধ্যায় উপজেলার চাতরী চৌমুহনী বাজার এলাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে নাছির উদ্দীনের স্ত্রী শারমিন আকতার এ অভিযোগ করেন।

গ্রেপ্তার নাছির উদ্দীন শাহ আনোয়ারা উপজেলার বৈরাগ ইউনিয়নের উত্তর গুয়াপঞ্চক গ্রামের শাহ বাড়ীর মৃত আব্দুল ছবুর শাহ’র ছেলে।

আজ বুধবার র‌্যাবের পক্ষ পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, “মঙ্গলবার পৌনে ৩টার দিকে উপজেলার পারকি এলাকায় লুসাই পার্ক এর পাশ থেকে নাছির উদ্দীন শাহকে আটক করা হয়। এরপর তার দেওয়া তথ্যমতে উপজেলার বটতলী রুস্তম হাটের হাজী ইমাম শপিং সেন্টারের তার ফ্ল্যাটের খাটের নিচ থেকে ১টি ওয়ান শুটারগান, ২ রাউন্ড গুলি, ৭ টি রামদা এবং ১ টি চাইনিজ কুড়াল উদ্ধার করা হয়।”

র‌্যাবের দাবি, “গ্রেপ্তার নাছিরকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তিনি দীর্ঘদিন যাবত অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার করে চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন এলাকায় সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন।”

তবে র‌্যাবের এসব দাবি অসত্য অভিযোগ করে সংবাদ সম্মেলনে শারমিন আকতার বলেন, পারকি লুসাই পার্কে ব্যবসায়িক বৈঠক থেকে র‍্যাব সদস্যরা সিভিল পোশাকে আমার স্বামীকে আটক করে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে অস্ত্র, রামদা, শর্টগানের কার্তুজ দিয়ে মামলায় ফাঁসিয়ে দিয়েছে।

তিনি বলেন, আমার স্বামী চট্টগ্রাম শহরের বাসিন্দা আখতারুজ্জামান খাঁন মিজানের সাথে পারকি এলাকায় ৮-১০ বছর যাবত মৎস্য ব্যবসা করে আসছিলেন। সাম্প্রতিক সময়ে তাদের মধ্যে ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব, কলহ সৃষ্টি হয়। সে দ্বন্দ্বের প্রেক্ষিতে ১৮ আগস্ট সকালে পারকি লুসাই পার্কে আনোয়ারার বারশত ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতির মনোনীত প্রতিনিধি নুর হোসেন ইমন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাঈনউদ্দীন গফুর (খোকন) সহ ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য আবদুর রহমান, ব্যবসায়িক পার্টনার নুর মোহাম্মদ ও নুরুল হক শাহ্ জাহাঙ্গীর মেম্বারসহ আমার স্বামীর প্রতিপক্ষ আখতারুজ্জামান খাঁন মিজানের পক্ষে চট্টগ্রাম শহরের বাসিন্দা সাহেদ ও কাইয়ুম এর উপস্থিতিতে বৈঠক হয়।

“বৈঠকে বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) উভয় পক্ষ চার লক্ষ টাকা জমা দিয়ে উভয় পক্ষে দুইজন শালিশকার নিয়োগ করার সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠক শেষ করে বের হওয়ার মূহুর্তে হঠাৎ সিভিল পোশাকে কয়েকজন র‍্যাব সদস্য এসে অভিযোগ আছে বলে আমার স্বামীকে আটক করে। বেলা ১২টার দিকে বটতলী ইমাম শরীফ মার্কেটের সামনে আমাদের ভাড়া বাসার সামনে নিয়ে আসে র‌্যাব। আমি তখন তালা মেরে বাসার বাইরে ছিলাম। এসে দেখি আমার স্বামীকে গাড়িতে রেখে র‍্যাব সদস্যরা তালা খুলে আমার বাসায় ঢুকছে। এ সময় তাদের সাথে থাকা একটা ছেলে বস্তার ভেতর কিছু নিয়ে ভেতরে ঢুকে, পরে বাসার খাটের নিচে সেটা ঢুকিয়ে দেয়। এক রুমে তারা তল্লাশি করে, আরেক রুমে গিয়ে বস্তাভর্তি অস্ত্রগুলো ঢুকিয়ে দেয়। একটু পর অস্ত্র পেয়েছে জানিয়ে তারা চলে যায়। পাশের জানালা দিয়ে আমরা এসব দেখেছি, আশপাশের সবাই দেখেছেন, আমার উপরের বাসার একজন আপাও দেখেছেন। সব সাজানো নাটক, অস্ত্রগুলো ঢুকাতে আমরা দেখেছি।”

শারমিন অভিযোগ করে বলেন, আমার বাসায় কোন প্রকার অস্ত্র মজুদ ছিল না। কিন্তু র‍্যাব সদস্যরা অস্ত্র, রামদা, শর্টগানের কার্তুজ দিয়ে ষড়যন্ত্রমূলভাবে মামলা দিয়েছে। আমার স্বামীর সঙ্গে তার ব্যবসায়িক পার্টনার আখতারুজ্জামান খান মিজানের ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব, কলহ সৃষ্টির পর থেকে তিনি বিভিন্ন সময়ে আমার স্বামীকে হুমকি-দমকি দিয়ে বলতেন, র‌্যাবে আমার বন্ধু আছে, বেশি বাড়াবাড়ি করলে তোকে র‍্যাব দিয়ে ধরিয়ে মৎস্য প্রজেক্ট আমার করে নিব।

ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে সত্য উদঘাটন করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আকুতি জানিয়ে শারমিন আকতার বলেন, দুই শিশু নিয়ে আমি এখন অসহায় অবস্থায় আছি, নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।

আনোয়ারা থানার ওসি দুলাল মাহমুদ বলেন, নাছির নামে এক আসামিকে আমাদের কাছে হস্তান্তর করে তার বিরুদ্ধে থানায় অস্ত্র মামলা করেছে র‌্যাব।

https://www.facebook.com/EkusheyPatrika/videos/435002277452553/