
জিন্নাত আয়ুব, আনোয়ারা (চট্টগ্রাম) : আনোয়ারা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আশিষ কুমার আচার্যের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ, স্বেচ্ছাচারিতা ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
উপজেলার পূর্ব বোয়ালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি ফজুল মোবিন চৌধুরী শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) আশিষ কুমার আচার্যের বিরুদ্ধে এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগটি তদন্ত সাপেক্ষে বিধি মোতাবেক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য উপজেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার (শিক্ষা) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট গালিব চৌধুরী।
লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, পূর্ব বোয়ালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের রুটিন কাজ বাবদ ৪০ হাজার টাকা, ওয়াশ ব্লক বাবদ ২০ হাজার টাকা, প্রাক প্রাথমিক বাবদ ১০ হাজার টাকা, উন্নয়ন প্রকল্প বাবদ ৭০ হাজার টাকা বিদ্যালয়ের নামে একাউন্টে জমা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শিক্ষা কর্মকর্তা উক্ত টাকা বিদ্যালয়ের একাউন্টে না দিয়ে জমা করেন প্রধান শিক্ষিকা দেবী চৌধুরীর একাউন্টে।
নিয়মানুযায়ী প্রতিটি বরাদ্দের বিপরীতে আলাদা আলাদা কমিটি গঠন করা হয়। সে অনুযায়ী স্কুল ফান্ডে টাকা জমা হওয়ার আগেই কমিটির সদস্যদের স্বাক্ষর গ্রহণ করা হয়। কিন্তু কোন বরাদ্দে কত খরচ হয়েছে তা কমিটির সদস্যরা জানেন না।
উপজেলার বারশত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি মো. মুছা একুশে পত্রিকাকে বলেন, চলতি বছরের ২৬ জুলাই ১ লাখ ৫০ হাজার টাকার একটা বরাদ্দ আমার বিদ্যালয়ের একাউন্টে জমা না করে প্রধান শিক্ষক আবদুল মাবুদের একাউন্টে জমা করেন শিক্ষা কর্মকর্তা আশিষ কুমার আচার্য।
তিনি আরও বলেন, ওই বরাদ্দের কাজের হিসাব আমরা ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা জানি না। কোন খাতে কত খরচ করা হয়েছে কিছুই জানা নেই আমাদের। এভাবে উপজেলার সব স্কুলে স্বজনপ্রীতি ও অনিয়ম করছেন শিক্ষা কর্মকর্তা।
তবে বারশত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক আবদুল মাবুদ বলেন, ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার বরাদ্দের মধ্যে ভ্যাট কেটে ১ লক্ষ ৩৬ হাজার টাকা পেয়েছি। স্কুল কমিটিকে সাথে নিয়েই এই টাকাগুলো দিয়ে কাজ করছি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে উপজেলার একটি স্কুলের একজন দপ্তরি জানান, উপজেলায় অনুষ্ঠিত বিভিন্ন কার্যক্রমে দপ্তরিদের ডিউটি করালে সেখান থেকেও ১০০ টাকা করে কেটে রাখেন শিক্ষা কর্মকর্তা আশিষ কুমার আচর্য।
অভিযোগের বিষয়ে শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আশিষ কুমার আচার্য বলেন, নিয়মবহির্ভূত কিছু করিনি। স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সমন্বয়ে বরাদ্দের সকল কাজ সম্পাদন করা হয়েছে। ফজুল মোবিন চৌধুরীর অসৎ উদ্দেশ্যকে আমি পাত্তা দেইনি। তাই আমার বিরুদ্ধে এসব অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
জানতে চাইলে আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ জুবায়ের আহমদ বলেন, জেলা প্রশাসন থেকে শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আশিষ কুমার আচার্যের বিরুদ্ধে একটা অভিযোগ তদন্তের আদেশ এসেছে। এ বিষয়ে আমি এখন তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবো।
