কাঁদলেন, কাঁদালেন ডা. বিদ্যুত বড়ুয়া


চট্টগ্রাম : বক্তৃতা দিতে উঠেই ঢুকরে কেঁদে উঠেন তিনি। কাঁদতে কাঁদতে দৃষ্টিসীমায় থাকা ভবন-পিলারের সাথে তুলনা করলেন স্বেচ্ছাসেবকদের। বললেন, এরা প্রত্যেকেই এই মানবিক হাসপাতালের একেকজন পিলার। তাদের উপর ভর করেই মানবিকতায় শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছে এই হাসপাতাল। তাদের ছাড়া এই হাসপাতালকে এগিয়ে নেওয়া ছিল একেবারে অসম্ভব ব্যাপার। কাজেই এই হাসপাতালের সমস্ত কৃতিত্ব আমি তাদেরকে উৎসর্গ করতে চাই। বলেই এবার হাউমাউ করে কেঁদে উঠে ধপাস করে বসে পড়লেন তিনি।

শুধু নিজে কেঁদেছেন তা নয়, স্বেচ্ছাসেবক, চিকিৎসক-নার্স এবং উপস্থিত সবাইকে কাঁদিয়েছেন, চোখের জলে ভাসিয়েছেন তিনি। এসময় অনুষ্ঠান কিছুক্ষণের জন্য থমকে যায়। পুরো হাসপাতালজুড়ে সৃষ্টি হয় অন্যরকম এক পরিবেশের।

আর এই পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছিল রোববার (৩০ আগস্ট) সকালে চট্টগ্রাম ফিল্ড হাসপাতালের ‘সাময়িক বিরতি’ অনুষ্ঠানে হাসপাতালটির প্রধান উদ্যোক্তা ও সিইও ডা. বিদ্যুত বড়ুয়ার আবেগঘন বক্তৃতাপর্বে।

পরে নিজেকে সামলে নিয়ে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. বিদ্যুত বড়ুয়া বলেন, করোনার উগ্র-আগ্রাসী থাবায় মানবতা যখন গুমড়ে কাঁদছিল, চিকিৎসা-সঙ্কটে চরম এক অন্ধকার সময় পার করছিল জাতি; তখনই মানবতার বাতিঘর এবং সাহসের চূড়ান্ত মাইলফলক স্পর্শ করতে এসেছিলাম আমরা। পরবর্তীতে আমাদের সাহসের পথ ধরে দেশজুড়ে মানবিকতা ডানা মেলে। ভয়-দ্বিধা, সংকোচ, ঘৃণা, অবহেলা কাটিয়ে সৃষ্টি হয় চিকিৎসাপ্রাপ্তির এক নতুন পথ। এই পথ তৈরিতে কিংবা মানবিকতার ‘মাইলফলক’ স্পর্শে নাভানা গ্রুপসহ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যারা আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন, সাধ্যমতো সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছেন সেইসব মানুষদের আজকের এই মাহেন্দ্রক্ষণে কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করছি।


এসময় বিদ্যমান অবকাঠামো ও লজিস্টিক সামনে রেখে খুব শিগগির ৬০ শয্যা বিশিষ্ট একটি আধুনিক ও ইউনিক হাসপাতাল গড়ে তোলার ইচ্ছে এবং প্রত্যয়ের কথা শোনান জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. বিদ্যুত বড়ুয়া।

অনুষ্ঠানে ভিডিওকলে যুক্ত হয়ে নাভানা গ্রুপের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম ঘোষণা দেন এই ব্যবস্থাপনা ও নেতৃত্বের হাত ধরে অচিরেই এখানে একটি আনপেরালাল সেবার হাসপাতাল গড়ে তোলা হবে, যেখানে ন্যূনতম ও নামেমাত্র খরচে সর্বোচ্চ সেবা পাবে রোগীরা।

অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম ফিল্ড হাসপাতালের উদ্যোক্তা ও একুশে পত্রিকার সম্পাদক আজাদ তালুকদার, আরেক উদ্যোক্তা চসিকের প্রাক্তন কমিশনার এডভোকেট রেহানা বেগম রানু, চিকিৎসকবৃন্দ এবং একজন মানবিক স্বেচ্ছাসেবক বক্তৃতা করেন। তাদের প্রত্যেকের কণ্ঠে ঝরে পড়ে যুদ্ধজয়ের অনবদ্যসব গল্প।

অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট সবার হাতে ক্রেস্ট, সম্মাননা এবং ডা. বিদ্যুত বড়ুয়ার স্বাক্ষরযুক্ত আকর্ষণীয় মগ তুলে দেওয়া হয়। এরপর ফটোসেশনে মিলিত হন সবাই।