করোনাকালে ফ্রন্টলাইনার যোদ্ধা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন ইউএনও ওয়াহিদা খানম


একুশে প্রতিবেদক : করোনাকালে ফ্রন্টলাইনার যোদ্ধা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন ইউএনও ওয়াহিদা খানম। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ঘোড়াঘাটের মানুষকে করোনামুক্ত রাখতে কাজ করেছিলেন রাতদিন।

দুর্বৃত্তের হামলায় গুরুতর আহত হয়ে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকা দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটের ইউএনও ওয়াহিদ খানম সম্পর্কে এমন কথা বলেছেন তার ব্যাচমেট ও অগ্রজরা।

ওয়াহিদা খানমের ব্যাচমেট ও নোয়াখালী সদরের ইউএনও ফারহানা জাহান উপমা বলেন, ব্যাচমেট হওয়াতে ওয়াহিদার সাথে আমার প্রায়ই যোগাযোগ ছিল। করোনার একেবারে শুরুর দিকে ঘোড়াঘাট উপজেলায় ঘরে ঘরে মাস্ক বিতরণ করেছেন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে এলাকার লোকজন যাতে করোনামুক্ত থাকে সেজন্য কঠোর পরিশ্রম করেছেন।

নারী অফিসার হয়েও একজন ইউএনও হিসেবে একটি উপজেলাকে সার্বিকভাবে এগিয়ে দিতে রাতদিন পরিশ্রম করেছেন। তার উপর এমন বর্বর হামলায় ভীষণ কষ্ট পেয়েছি। নিন্দা জানানোর ভাষা আমার জানা নেই-বলেন ইউএনও উপমা।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ভোরে অজ্ঞাত সন্ত্রাসীরা হত্যার উদ্দেশ্যে তার সরকারি বাসভবনে হামলা চালায়। এতে ইউএনও ওয়াহিদা এবং তার বাবা ওমর আলী গুরুতর আহত হয়েছেন। সন্ত্রাসীরা ওয়াহিদা খানমের ৩ বছরের শিশু সন্তানের সামনে দুজনকে কুপিয়ে জখম করে।

ঘটনাস্থলে যাওয়া বিসিএস প্রশাসন ৩০ ব্যাচের এক কর্মকর্তা অভ্যন্তরীণ ফেসবুক গ্রুপে ঘটনার বীভৎসতার বর্ণনা দিয়ে জানান, স্পটে আছি বন্ধুরা এরকম ঘটনা মেনে নেয়া যাবে না। বদমাইশগুলো হাতুড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করার পর নাক থেতলে দিয়ে দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করছে মৃত্যু নিশ্চিত করার জন্য এবং যখন সে পুরোপুরি নিস্তেজ হয়ে গেছে তখন তারা চলে গেছে মারা গেছে ভেবে। সবাই দোয়া কর আল্লাহ যেন ওয়াহিদাকে রক্ষা করে।

এদিকে, ইউএনও ওয়াহিদাকে এয়ার এম্বুলেন্সে দুপুরের দিকে ঢাকা পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে তিনি ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরো সায়েন্স অ্যান্ড হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি আছেন। তার শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন।