ফাজিল পরীক্ষার ফলাফল-বিভ্রাট, অনিশ্চয়তায় শিক্ষার্থীরা


আবছার রাফি : ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অনুষ্ঠিত ফাজিল (ডিগ্রী) পাস ১ম, ২য় ও ৩য় বর্ষ পরীক্ষা-২০১৯ এর ফলাফল সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) প্রকাশ করা হয়েছে।

২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়ে নভেম্বর মাস পর্যন্ত এ পরীক্ষাগুলো অনুষ্ঠিত হয়।

দীর্ঘ এক বছর পর প্রকাশিত এই ফলাফলে অনেক পরীক্ষার্থীরই ফলাফল স্থগিত রেখেছে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়।

দাখিল-আলিম পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া অনেক শিক্ষার্থীও পড়েছেন এই ‘স্থগিত’ কাণ্ডের কবলে। ফলে ত্রুটিপূর্ণ ফলাফল প্রকাশ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা গেছে।

করোনাভাইরাসের দরুণ সৃষ্ট পরিস্থিতির কারণে বিলম্বে ফলাফল প্রকাশকে মেনে নিলেও ত্রুটিপূর্ণ ফলাফল নিয়ে ব্যাপক ক্ষোভ বিরাজ করছে শিক্ষার্থীদের মধ্যে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার একটি মাদরাসা থেকে ফাজিল ৩য় বর্ষ কেন্দ্রীয় পরীক্ষায় ২৩জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে তার মধ্যে ১ জন ছাড়া বাকি ২২ জনের ফলাফল স্থগিত করা হয়েছে। ফলাফল তালিকায় জিপিএ’র স্থলে ইংরেজি বর্ণ ‘W’ এবং ফলাফল অপশনে ‘Withheld’ প্রদর্শন করা হচ্ছে।

শুধু চট্টগ্রাম নয়, পুরো বাংলাদেশের অপরাপর মাদরাসার চিত্রও কমবেশি এরকম বলে জানা গেছে।

চট্টগ্রাম নগরীর ষোলশহরে অবস্থিত ‘জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়া’ মাদরাসার অনেক শিক্ষার্থীও এই ‘স্থগিত’ কাণ্ডের শিকার।

মিজান আল জামি নামে একজন মাদরাসা শিক্ষার্থী ক্ষোভ জানিয়ে ফেসবুকে লিখেছেন,
“দেশজুড়ে হাজার হাজার ছাত্রের রেজাল্ট না আসার পরেও কর্তৃপক্ষের নিরবতা লজ্জাজনক। প্রায় বছর পরে রেজাল্ট প্রকাশ, তবুও কেনো এই সমস্যা। আমাদের একটাই দাবি অতি শিগগিরই আমাদের রেজাল্ট পুনঃপ্রকাশ করা হোক।”

ফলাফল ঘোষণার ৪৮ ঘন্টা পেরিয়ে গেলেও কী কারণে ফলাফল ‘স্থগিত’ করা হয়েছে সে ব্যাপারে অফিসিয়ালি কোন বিবৃতি দেয়নি ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ফলে ফাজিল শেষে কামিল শ্রেণিতে ভর্তি বিষয়ে শঙ্কা কাজ করছে ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে।

এ বিষয়ে জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়া মাদরাসার উপাধ্যক্ষ ড. লিয়াকত আলী একুশে পত্রিকাকে বলেন, প্রায় জায়গা থেকে এই অভিযোগ আসছে। পুরো বাংলাদেশের চিত্র এটি। আমরা আজকে চূড়ান্তভাবে ফলাফল জানান চেষ্টা করবো। ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সাথেও যোগাযোগ করবো।

ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক সিরাজ উদ্দিন আহমাদ একুশে পত্রিকাকে বলেন, “টেন্ডারের মাধ্যমে যে আইটি কোম্পানিকে কাজ দেওয়া হয়েছে তাদেরকে রিপোর্ট দিতে বলেছি ২-১দিনের মধ্যে। রিপোর্ট পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শীগ্রই ‘উইথহেল্ড’ সমস্যাটি কারেকশান করা হবে।

‘৪৮ ঘন্টা পেরিয়ে গেলেও কেন শিক্ষার্থীদের এ বিষয়ে নোটিশ দেওয়া হলো না’- এমন প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন তিনি।

এদিকে, অন্যান্য বছর অনলাইনের পাশাপাশি মুঠোফোনে ফলাফল জানার ব্যবস্থা রাখলেও এবছর আকস্মিক সেই ব্যবস্থা বাতিল করেছে কর্তৃপক্ষ। ফলাফল ঘোষণা পরবর্তী ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনলাইন সাইট জটিলতার কবলে পড়ায় শিক্ষার্থীদের মুঠোফোনে ফলাফল দেখাটা ছিলো তুলনামূলক সুবিধাজনক। এবার সেই সুবিধা থেকেও বঞ্চিত হয়েছে শিক্ষার্থীরা।