বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ৮ আশ্বিন ১৪২৭

ভারতে বজ্রপাতে ঝরে গেল ২৮ প্রাণ

প্রকাশিতঃ বুধবার, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২০, ১২:৪১ অপরাহ্ণ

ফাইল ছবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : পৃথক বজ্রপাতের ঘটনায় ভারতের বিহার ও উত্তর প্রদেশে অন্তত ২৮ জন নিহত হয়েছে। দেশটির আবহাওয়া অধিদপ্তরের (আইএমডি) মতে, বজ্রপাতের পূর্বাভাস দেয়া স্বত্ত্বেও বজ্রপাতে এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। তারা জানিয়েছে, দেশের বেশিরভাগ এলাকায় আগামী তিন থেকে চার দিন বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে এবং সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রায় কোন উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হবে না।

টাইমস অব ইন্ডিয়া মঙ্গলবার জানিয়েছে, বিহারের ছয়টি জেলায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানান, গোপালগঞ্জ, ভোজপুর এবং রোহতাস জেলায় তিনজন করে মারা গেছে। সারান, কাইমুর, ভাইসালিতে দুইজন করে মারা যাওয়ার খবর জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

সেখানকার মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার ঘোষণা করেন যে নিহতদের প্রত্যেক পরিবারকে ৪ লাখ টাকা করে দেওয়া হবে।
টাইমস অব ইন্ডিয়া সূত্রে আরও জানা গেছে, মঙ্গলবার উত্তরপ্রদেশের বিচ্ছিন্ন জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত হয়েছে। এসময় বিভিন্ন স্থানে বজ্রপাতে অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছে।

ত্রাণ কমিশনার সঞ্জয় গোয়েল এক বিবৃতিতে জানান, গাজীপুরে চারজন, কৌশাম্বিতে তিনজন, কুশীনগর ও চিত্রকূটে দুইজন করে, এবং জৌনপুর ও চান্দাউলিতে একজন করে মারা গেছে।

তিনি বলেন, উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ সংশ্লিষ্ট জেলা ম্যাজিস্ট্রেটদের নির্দেশ দিয়েছেন নিহতদের পরিবারের সদস্যদের ৪ লক্ষ টাকা আর্থিক সহায়তা দিতে। গোয়েল আরও বলেন যে বন্যার কারণে লক্ষ্মীপুর খেরি, সিটপুর এবং আজমগড়ের ২৮টি গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

পূর্ব উত্তর প্রদেশের বিচ্ছিন্ন স্থানে বজ্রপাতের সম্ভাবনা রয়েছে, অন্যদিকে বুধবার রাজ্যের পশ্চিমাঞ্চলে আবহাওয়া শুষ্ক থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, ১৭ ও ১৮ সেপ্টেম্বরও রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় হালকা বজ্রপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, দেশটির রাজধানীতে বৃষ্টির অভাব আগামী দুই দিনের তাপমাত্রা আরও বাড়িয়ে তুলবে।
ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তরের মতে, বৃষ্টির অভাবে আগামী দুই দিনে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস স্পর্শ করবে।

বিহারের মধুবনী, কাটিহার ও গয়ায় বজ্রপাত ডিটেকশন কেন্দ্র তৈরি করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। সেখান থেকে লোকজনকে সতর্ক করা হচ্ছে। দুর্যোগ এখনও না কাটায়, রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের কর্মীদের প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। দুর্যোগের সময় লেক, পুকুর, গাছাপালা থেকে দূরত্ব বজায় রাখতে বলা হয়েছে। বিদ্যুতের ধাতব খুঁটি থেকেও দূরে থাকতে বলা হয়েছে। মেঝেতে শুতেও বারণ করা হয়। এমন বিরূপ আবহাওয়ার দিনগুলোতে খুব প্রয়োজন ছাড়া দুর্যোগের মধ্যে লোকজনকে বাড়ির বাইরে বের হতে নিষেধ করা হয়েছে।