সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ৬ আশ্বিন ১৪২৭

মায়ের দুঃস্বপ্ন সত্যি হল, মোজাম্বিকে নিখোঁজ চট্টগ্রামের ছেলের লাশ মিলেছে

প্রকাশিতঃ বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২০, ৮:৩৫ পূর্বাহ্ণ


বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি : ঘুমের ভেতর সবাই কমবেশি স্বপ্ন দেখে থাকেন। এসব স্বপ্নের একেকটা হয় একেক রকম। ভালো স্বপ্ন যেমন আমরা দেখে থাকি খারাপ বা দুঃস্বপ্নও আমাদের দাপিয়ে বেড়ায়। কোনো সময় এমন ভয়ঙ্কর স্বপ্ন দেখি আমরা যার কারণে অন্তরাত্মা কেঁপে উঠে।

তেমনই একটি দুঃস্বপ্ন দেখেছিলেন চট্টগ্রামের বাঁশখালীর চাম্বল ইউনিয়নের দক্ষিণ চাম্বল মাঝেরপাড়ার মো. হোছাইনের স্ত্রী। গত ১২ সেপ্টেম্বর ভোররাতে তিনি স্বপ্ন দেখেন, কে যেন কবুতর জবাই করে মাটিতে ফেলে দিয়েছে। এরপর ফিনকি’র দিয়ে রক্ত পড়লো তার গায়ে। দুঃস্বপ্নটি দেখেই তিনি জেগে উঠেন।

স্বামী মো. হোছাইনকে ডেকে দুঃস্বপ্নটি দেখার কথা জানান তিনি। এ সময় প্রবাসী দুই ছেলের কিছু হয়েছে কি না সেটা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েন ওই মা। তখন স্ত্রীকে সান্ত্বনা দিয়ে হোছাইন উঠে দেখেন, ফজরের নামাজের সময় হয়েছে। সেদিন সকালে মায়ের তাগাদায় বাবা মো. হোছাইন মোজাম্বিক প্রবাসী ছোট ছেলে সাইফুল ইসলামকে ফোন করেন।

সে সময় ছোট ছেলে জানান, তারা ভালো আছেন, নিরাপদেই আছেন। বড় ভাই নুরুল ইসলাম ভিসা সংক্রান্ত কাজে বাসার বাইরে গেছেন।

কথা শেষ হওয়ার পর মোজাম্বিক থেকে ছোট ছেলে সাইফুল ইসলামের ফোন আসে বাবা হোছাইনের মোবাইলে। জানানো হয়, বড় ভাই নুরুল ইসলামের মোবাইল বন্ধ, খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

নিখোঁজের চারদিন পর গতকাল বুধবার পরিত্যক্ত অবস্থায় নুরুল ইসলামের লাশ উদ্ধার করেছে স্থানীয়রা। লাশটি কেটে কয়েক টুকরো করে ফেলেছে অমানুষরা।

সাইফুল ইসলাম মুঠোফোনে একুশে পত্রিকাকে জানান, গত ১২ সেপ্টেম্বর সকালে মোজাম্বিকের কাবু ডেলগাড়ু প্রদেশের প্লাম ডিস্ট্রিক্ট ফেম্বা এলাকার নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে ভিসা রিনিউ করার জন্য গাড়িতে করে আরেকটি শহরে যাওয়ার সময় অস্ত্রধারীদের হামলার শিকার হন তার ভাই। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন।

গতকাল বুধবার সকালে নুরুল ইসলামের লাশটি পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় কৃষ্ণাঙ্গরা বাংলাদেশী নাগরিকদের খবর দেয়। সেখানে গিয়ে লাশটি শনাক্ত করেন সাইফুল। পরে পুলিশের সহযোগিতায় লাশটি উদ্ধার করে হাসপাতালের মর্গে নিয়ে যাওয়া হয়।

এদিকে গতকাল বুধবার বিকেলে খবরটি বাঁশখালীর দক্ষিণ চাম্বল মাঝেরপাড়ায় নুরুল ইসলামের বাড়িতে পৌঁছতেই মায়ের আহাজারি শুরু হয়। বিলাপ করে কেঁদে কেঁদে তিনি বলছিলেন, স্বপ্নের কবুতরটির মতো আমার ছেলেকে জবাই করল পাষাণরা।