বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০, ৯ আশ্বিন ১৪২৭

আনোয়ারায় ধরাছোঁয়ার বাইরে হত্যা মামলার ১৩ আসামি

প্রকাশিতঃ বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২০, ১০:২২ পূর্বাহ্ণ


জিন্নাত আয়ুব, আনোয়ারা (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামে আনোয়ারায় তিনটি হত্যা মামলার ১৩ আসামিকে দীর্ঘদিনেও গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এখন এসব ঘটনায় করা মামলার বাদীকে আপোষ করতে বলেছেন আসামিরা৷ নয়তো হত্যাসহ নানাভাবে ক্ষতি করার হুমকি দেওয়া হচ্ছে৷ ফলে পরিবার ও স্বজন নিয়ে বাদী তিনজনই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

জায়গা-সম্পত্তির বিরোধের জেরে ২০১৯ সালে ২২ মার্চ উপজেলার বরুমছড়া এলাকায় আবদুল মোনাফ (৫৫) নামে এক বৃদ্ধ খুন হয়। এই ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বালি বেগম বাদী হয়ে ১৪ জনকে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করেন।

মামলাটির তদন্ত শেষ করে ৭ জনকে অব্যাহতি দিয়ে আনোয়ারা পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। উক্ত সাত জনের মধ্যে ৩ জন জামিনে থাকলেও বাকি চারজন পলাতক রয়েছেন। তারা হলেন জাহাঙ্গীর আলম, ফরহাদুল ইসলাম, আবদুল মজিদ ও বৈদ্য নাছির।

নিহত আব্দুল মোনাফের ছোট মেয়ে ফিরোজা আক্তার একুশে পত্রিকাকে বলেন, আমার বাবাকে খুন করেছে আজ এক বছর পার হয়ে গেছে। অথচ আসামিদের কাউকেই পুলিশ গ্রেপ্তার করতে পারেনি। অভিযোগপত্রভুক্ত যে তিন আসামি জামিনে আছেন, তারা আদালতে আত্মসমর্পণ করেছিল।

তিনি বলেন, অভিযোগপত্র থেকে পুলিশ যেসব আসামিকে বাদ দিয়েছে, তারা এখন ফোন করে আমাদের প্রতিনিয়ত হুমকি-দমকি দিচ্ছে, আপোষ করার জন্য। পুলিশকে এসব জানালেও কোন প্রতিকার পাচ্ছি না।

এ প্রসঙ্গে আনোয়ারা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এস এম দিদারুল ইসলাম সিকদার একুশে পত্রিকাকে বলেন, এই মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। তদন্তে ৭ জনের জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। পলাতক ৪ জনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

এদিকে পড়ৈকোড়া ইউনিয়নের তালশরা এলাকায় চলতি বছরের ২৪ মে খুন হন মো. ইয়াছিন (২৬)। এই ঘটনায় নিহতের বড় ভাই শেখ ফরিদ বাদী হয়ে ৫ জনকে আসামি করে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলায় একজন আসামি আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনে থাকলেও বাকি চারজন আলম প্রকাশ বাচা মিয়া, আবদুল গফুর, আবদুল ছবুর ও ফরমান এখনো পলাতক বলে জানান মামলার বাদী শেখ ফরিদ।

নিহতের বড় ভাই ইউসুফ মিয়া একুশে পত্রিকাকে বলেন, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমার ছোট ভাই ইয়াছিনকে দিনে-দুপুরে প্রকাশ্যে লাঠি দিয়ে মেরে হত্যা করা হয়েছে। আজ চারমাস অতিবাহিত হয়ে যাচ্ছে পুলিশ এখনো পর্যন্ত একজন আসামিকেও গ্রেপ্তার করেনি। অথচ আসামিরা প্রকাশ্য ঘুরে বেড়াচ্ছে। উল্টো আসামিরা আমাদেরকে মামলা দিয়ে হয়রানি করছে।

জানতে চাইলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আনোয়ারা থানার এসআই ইকারামুজ্জামান একুশে পত্রিকাকে বলেন, মামলা তদন্তাধীন আছে। একজন জামিনে রয়েছে। পলাতক থাকা চারজনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

অন্যদিকে বৈরাগ ইউনিয়নে হুন্দীপপাড়া এলাকায় গত ২৭ মে খুন হয় স্কুল পড়ুয়া দৃষ্টি প্রতিবন্ধী কিশোর মাসুদুল ইসলাম (১৬)। এ ঘটনায় নিহতের বাবা নুরুল আনোয়ার বাদী হয়ে ৬ জনকে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করেন।

উক্ত হত্যা মামলায় একজন জামিনে থাকলেও বাকি পাঁচজন ইমরান সিকদার, হারুনুর রশিদ, ওসমান, ইমতিয়াজ মিশু সলেমা খাতুন এখনো পলাতক বলে জানান বাদী নুরুল আনোয়ার।

নিহত মাসুদুল ইসলামের বড় ভাই আরিফুল একুশে পত্রিকাকে বলেন, গোবর ফেলাকে কেন্দ্র করে আমার প্রতিবন্ধী ভাইকে হত্যা করা হয়েছে। এই ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হলেও পুলিশ একজন আসামিকেও এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার করে নি।

এ প্রসঙ্গে তদন্তকারী কর্মকর্তা আনোয়ারা থানার এসআই মোবারক হোসেন একুশে পত্রিকাকে বলেন, মামলার একজন আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন। বাকিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টায় আছি। মামলাটি তদন্তধীন।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দুলাল মাহমুদ একুশে পত্রিকাকে বলেন, আবদুল মোনাফ হত্যা মামলার চার্জশিট আদালতে দাখিল করা হয়েছে। ইয়াছিন ও মাকসুদুল হত্যার মামলাটি তদন্তাধীন। এসব মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারের সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে।