বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২০, ৭ কার্তিক ১৪২৭

কোণঠাসা আনাস, কে হচ্ছেন শফীর উত্তরসূরি?

প্রকাশিতঃ শনিবার, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২০, ৬:০১ অপরাহ্ণ


চট্টগ্রাম : হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ- মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এ সংগঠনের শীর্ষ পদে ছিলেন সদ্য প্রয়াত আল্লামা শাহ আহমদ শফী। তাঁর মৃত্যুর আগে নানা কারণে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে অরাজনৈতিক এ সংগঠনটি। মহাসচিব জুনাইদ বাবুনগরীর নেতৃত্বে আলাদা একটি অংশ সক্রিয় হয়ে উঠে। কিন্তু আহমদ শফীর মৃত্যুর পর জানাজায় এসে সম্মেলনের ডাক দিয়ে শফির শূন্য স্থান পূরণ করার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) হাটহাজারী মাদ্রাসার মসজিদে দেওয়া এক ঘোষণায় জুনায়েদ বাবুনগরী বলেন, আল্লামা শফী হুজুর আমাদের মুরুব্বি। আমরা উনার জন্য দোয়া করছি। আর আপনারা জানেন, হেফাজতে ইসলামের মধ্যে কোন বিরোধ নাই। আল্লামা শফী হুজুরের মৃত্যুতে হেফাজতে ইসলামের আমির পদটি শূন্য হয়ে যায়। আমরা হুজুরের (আল্লামা শফী) জানাজা-দাফন শেষ করে দ্রুত সময়ের মধ্যে হেফাজতে ইসলামের সম্মেলন ডাক দিবো। সম্মেলনে আমরা সর্বসম্মতিক্রমে হেফাজতে ইসলামের আমির নির্বাচন করবো বলেন বাবুনগরী।

এই ঘোষণার মাধ্যমে হেফাজতে ইসলামে বড় ধরণের পরিবর্তনের আভাস আসতে পারে বলে ধারণা করছেন অনেকে। আহমদ শফির মৃত্যুর আগেই তার পুত্র হেফাজতে ইসলামের প্রচার সম্পাদক আনাস মাদানীর উপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা। তার বিরুদ্ধে আনা হয় কওমী আকিদার বিরুদ্ধে কাজের অভিযোগ, সরকারের সাথে আতাঁতসহ অবৈধ সুযোগ সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ। যার কারণে ধরেই নেওয়া যাচ্ছে সম্মেলন হলে অবহেলিত হয়েই থাকবেন শফিপুত্র আনাস।

হেফাজত সূত্রে জানা গেছে, হেফাজতে ইসলামের মূল নিয়ন্ত্রক হিসাবে দেখা যাবে মহাসচিব জুনাইদ বাবুনগরীকে। নানা কারণে আমির পদে তার আসার সম্ভাবনা না থাকলেও আমির তিনিই হবেন যিনি বাবুনগরীর প্রতি থাকবে অনুগত। আর এমন ব্যক্তিকে জনসম্মুখে হেফাজতের আমীর করলেও মূল নিয়ন্ত্রক থাকবেন জুনাইদ বাবুনগরী।

আর হেফাজতের আমির হিসাবে প্রথম স্থানে থাকছেন সিনিয়র নায়েবে আমীর মহিববুল্লাহ বাবুনগরীর নাম। নাজিরহাট মাদ্রাসায় মুহতামিম নিয়োগ নিয়ে মহিববুল্লাহ বাবুনগরীর সাথে বিরোধ প্রকাশ্যে আসে আল্লামা আহমদ শফীর।

এছাড়াও মহিববুল্লাহ বাবুনগরীর সম্পর্কে জুনাইদ বাবুনগরীর মামা। যার কারণে জুনাইদ বাবুনগরীর পছন্দের তালিকায়ও থাকবেন তিনি এমনটা ধারণা সবার। বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে কোণঠাসা করে দেওয়া হবে শফিপুত্র আনাস মাদানীকে।

এদিকে বাংলাদেশ কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড (বেফাক) ও আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি‘আতিল কওমিয়ার প্রধান ছিলেন আল্লামা শাহ আহমদ শফী। আমৃত্য তিনি এসব সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব পালন করেছেন। এই পদগুলোতে কে আসছেন তা নিয়ে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা-কল্পনা।