বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২০, ৭ কার্তিক ১৪২৭

উখিয়ায় স্থানীয়দের জমি দখল করে রোহিঙ্গাদের জমিদারি!

প্রকাশিতঃ শনিবার, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২০, ৭:১৩ অপরাহ্ণ


জসিম উদ্দীন, কক্সবাজার : কক্সবাজারের উখিয়ায় কুতুপালং ক্যাম্পে আশ্রিত রোহিঙ্গারা আশ্রয়দাতা স্থানীয়দের জমিজমা দখল করে জমিদারি শুরু করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের মানবতার খাতিরে আশ্রয় দিয়ে নিজেরাই এখন উল্টো বিপদে আছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এনজিও সংস্থার কিছু লোকজন ও কুতুপালং ক্যাম্প ইনচার্জ এর উস্কানিতে রোহিঙ্গারা স্থানীয়দের ফসলি জমি, গাছের বাগান, শাক সবজি ক্ষেত এমনকি বসতভিটাও দখল করে নিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা নুরুল ইসলাম একুশে পত্রিকাকে বলেন, তার পরিবারের অনেক ফসলি জমি আগেই দখল করে বসতি গড়েছে রোহিঙ্গারা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিতে বলেছেন তাই ক্ষতি হলে হাসিমুখে মেনে নিয়েছেন তার পরিবার।

কিন্তুু সাম্প্রতিক সময়ে কুতুপালং ক্যাম্প ইনচার্জ খলিলুর রহমান আমার বাউন্ডারির ভিতরে ডুকে আমার গরুর গোয়াল নির্মাণ বন্ধ করে দিয়েছে। আমার ঘরবাড়ি উচ্ছেদের হুমকি দিয়েছে।

নুরুল ইসলামের অভিযোগ, স্থানীয়দের জায়গা জমির উপর খলিলুর রহমান রোহিঙ্গাদের দোকানপাট ও বিভিন্ন স্থাপনা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নির্মাণে সহায়তা করে যাচ্ছেন।

এনজিওদের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়ে রোহিঙ্গাদের এসব সুযোগ সুবিধা দেয়া হচ্ছে বলে দাবি তার।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রহমান বলেন, কুতুপালংয়ের স্থানীয়রা বিভিন্ন গ্রামে যুগ যুগ ধরে মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের প্রতি সহানুভূতি দেখিয়ে আসছে। রোহিঙ্গা ও স্থানীয়দের মধ্যে গড়ে উঠেছিল ভ্রাতৃত্ব সুলভ মনোভাব। কিন্তুু বর্তমানে পরিস্থিতি ভিন্ন। কিছু এনজিও সংস্থার উসকানি নিতে দখলবাজ হয়ে উঠেছে রোহিঙ্গা। থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। উসকানি বন্ধ না হলে ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে বলে মন্তব্য করেন আবদু রহমান।

এদিকে পরিস্থিতি সংঘাতের দিকে যাওয়ার আগে তা সমাধানের দাবিতে গত বৃহস্পতিবার উখিয়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় বাসিন্দা রশিদ আহমদ, নুরুল ইসলাম, মাহমুদুল অভিযোগ করে বলেন, গত তিন বছরে রোহিঙ্গা ও স্থানীয়দের মধ্যে কোন রকম অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে কুতুপালং ক্যাম্পে দায়িত্বরত ক্যাম্প ইনচার্জের স্থানীয়দের প্রতি বিমাতাসুলভ আচরণ নিয়ে রোহিঙ্গাদের মধ্যে এক প্রকার হিংসাত্মক মনোভাব সৃষ্টি হয়েছে।

তাদের অভিযোগ, রোহিঙ্গারা স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের ভোগদখলীয় জমিজমা, দোকানপাট, বসতভিটা, বিভিন্ন প্রকার ক্ষেত খামার, মৎস্য চাষ প্রভৃতি একের পর এক জোরপূর্বক দখলে নিয়ে নিচ্ছে।

এ বিষয়ে ক্যাম্প ইনচার্জের কাছে অভিযোগ করলে তিনি স্থানীয়দের উল্টো শাসিয়ে জানান, রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকায় স্থানীয়দের কোন আবেদন নিবেদন গ্রহণযোগ্য হবে না-এমন বিদ্বেষপূর্ণ আচরণের ফলে রোহিঙ্গারা উৎসাহিত হয়ে স্থানীয়দের বিভিন্নভাবে হয়রানি করছে বলে দাবি তাদের।

রেজিষ্ট্রার্ড ক্যাম্পের চেয়ারম্যান হাফেজ জালাল আহমদ বলেন, এ ধরনের কোন অস্বাভাবিক পরিবেশ এ পর্যন্ত পরিলক্ষিত হয়নি। তবে বিষয়টি তিনি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কুতুপালং ক্যাম্প ইনচার্জ (সিআইসি) খলিলুর রহমান একুশে পত্রিকাকে বলেন,আমি শুধু কাঁটাতারের বেড়ার ভিতরে পাকাবাড়ি ঘর নির্মাণ করতে নিষেধ করেছি। স্থানীয়দের সংবাদ সম্মেলন ও বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ অবগত আছেন জানিয়ে স্থানীয়দের উত্থাপিত সব অভিযোগই অসত্য বলে দাবি করেন তিনি।

কক্সবাজার শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন অতিরিক্ত সচিব শামশুদ্দোজা নয়ন একুশে পত্রিকাকে বলেন, কুতুপালং ক্যাম্প ইনচার্জ বিরুদ্ধে স্থানীয়দের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ভিন্ন প্রসঙ্গে টেনে তিনি বলেন, যেসব জায়গা স্থানীয়রা নিজেদের বলে দাবি করছে তা বনবিভাগের জায়গা।স্থানীয়রা এসব জায়গা দীর্ঘদিন ধরে ভোগ দখল করে আসছে দাবি করলেও তাদের কাছে বৈধ কোন কাগজপত্র নাই।

শামশুদ্দোজা বলেন,রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় স্থানীয়দের উন্নয়নের স্বার্থে অবকাঠামো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করতে গেলে একশ্রেণীর মানুষ জায়গার মালিকানা দাবি করে সেখানে বাধা প্রদান করেন।