শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২০, ৯ কার্তিক ১৪২৭

আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে জমেছে অনিয়মের পাহাড়

প্রকাশিতঃ সোমবার, অক্টোবর ৫, ২০২০, ৫:৩৬ অপরাহ্ণ


চট্টগ্রাম : আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের (আইআইইউসি) বোর্ড অব ট্রাস্টি শতভাগ জামায়াতে ইসলামীর নিয়ন্ত্রণে। এই ট্রাস্টির ছয় জন সদস্যের প্রত্যেকেই জামায়াতের কেন্দ্রীয়, মহানগর ও জেলা পর্যায়ের নেতা। আবার শুধু তাই নয়, জামায়াতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর আ ন ম শামসুল ইসলামপন্থী নেতাদেরই এ ট্রাস্টের সদস্য করা হয়েছে।

শামসুল ইসলামের পছন্দের লোক ছাড়া এই বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো চাকরি হয় না কারও। দায়িত্বও জুটেনা তার ইশারা ছাড়া। শত কোটি টাকার হিসেব নিয়েও তার বিরুদ্ধে উঠেছে নয়ছয়ের অভিযোগ। এছাড়া আইআইইউসির টাকায় গড়ে উঠছে জামায়াত ইসলামীর শত কোটির টাকার ফান্ড। যার নেতৃত্ব দিচ্ছেন আনম শামসুল ইসলাম।

এমনকি আইআইইউসি ট্রাস্ট গুটিয়ে নিতেও নতুন একটি ট্রাস্টও গঠন করা হয়েছে বলে জানা গেছে। আইআইইউসির গঠনতন্ত্রের একটি ধারাকে ব্যবহার করে সুক্ষ্মভাবে এই কাজটি চালিয়ে যাচ্ছে শামসুল ইসলাম। গঠনতন্ত্রের ওই ধারা অনুযায়ী, যদি আইআইইউসি যদি কোনো কারণে বিলুপ্ত করতে হয় তাহলে সমমনা কোনো ট্রাস্টে সকল সম্পদ হস্তান্তর করা যাবে।

অভিযোগ উঠেছে, আইআইইউসি ট্রাস্টে হাজার হাজার কোটি টাকার সম্পদ দেশ ট্রাস্ট নামে একটি ট্রাস্টের অধীনে সরিয়ে নেওয়ার তৎপরতা শুরু করেছে আনম শামসুল ইসলাম।

আইআইইউসিকে ঘিরে শামসু সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে এবার উঠেছে আরও গুরুতর অভিযোগ। ক্যাম্পাসে জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ছবি ভাংচুরসহ রাষ্ট্রদ্রোহের মত গুরুতর অভিযোগ নিয়ে শামসুল ইসলাম তার দলবলসহ গিয়েছেন কারাগারে।

এসব মামলায় কারাগারে যাওয়া আইআইইউসি’র বাকি দায়িত্বশীল পর্যায়ের ব্যক্তিরা হলেন জামায়াতের কেন্দ্রিয় নায়েবে আমীর আহসান উল্লাহ, আইআইইউসি জামায়াতের আমীর, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ও চবি ছাত্রলীগ কর্মী বকুল হত্যার মূল আসামি মাহবুবুর রহমান, জামায়াতের রুকন ও মজলিসে শুরার সদস্য কাউসার আহমদ, জামাতের রুকন ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক দুর্ধর্ষ ক্যাডার সফিউল আলম ও নিজাম উদ্দিন। তারা প্রত্যেকেই আ ন ম শামসুল ইসলামের ব্যক্তিগত অনুসারী।

জানা গেছে, আইআইইউসি ক্যাম্পাসে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি ভাংচুরের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলার আসামি হিসেবে আদালতে হাজির হন গত ১ সেপ্টেম্বর। তারা এ সময় জামিনের আবেদন করলে চট্টগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ মো. ইসমাইল হোসেনের আদালত তা নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠান তাদের। এছাড়া তাদের বিরুদ্ধে সীতাকুণ্ড থানায় দায়ের হওয়ার রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ মামলা হিসেবে রেকর্ড কর‍তে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের জন্য পাঠিয়েছে পুলিশ।

এদিকে জামায়াতের এই নেতৃবৃন্দ গ্রেপ্তারের পর বেরিয়ে আসতে থাকে জামায়াত ইসলামীর নেতাদের এই বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে অনিয়ম-দুর্নীতির নানা তথ্য।

অভিযোগ উঠেছে, শত শত কোটি টাকার হিসেব নেই এই বিশ্ববিদ্যালয়ের। দেশের বিভিন্ন স্থানে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের রয়েছে শত শত কোটি টাকার জমি, অবকাঠামো৷ এসব জমি ও অবকাঠামো কেনা ও নির্মাণের যাবতীয় কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করছেন বোর্ড অব ট্রাস্টির চেয়ারম্যান আ ন ম শামসুল ইসলাম।

এছাড়া সম্প্রতি এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ সাংগঠনিক কার্যক্রম শুরু করলে তাদের উপর নেমে আসে একাডেমিক নির্যাতনের পাশাপাশি রাজনৈতিক নির্যাতন। পরীক্ষায় নম্বর কম প্রদান, মারধর, হুমকির পাশাপাশি হলে রাতভর নির্যাতনও করা হয়েছে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে। আনম শামসুল ইসলামের নির্দেশে গত ২৯ জানুয়ারি প্রক্টর, সহকারী প্রক্টরের উপস্থিতিতে শিবিরের ক্যাডাররা ছাত্রলীগের উপর রাতভর হামলা চালায়। এবং ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের হল ছাড়া করে বলে অভিযোগ উঠেছে।

আ ন ম শামসুল ইসলামের একক আধিপত্য যেভাবে গড়ে উঠে

আইআইইউসি সংশ্লিষ্টরা জানান, ১৯৯৫ সালে চট্টগ্রামের বায়তুশ শরফ মাদ্রাসার পীর মাওলানা আব্দুল জব্বার শাহ, প্রফেসর ড. সাব্বির আহমদ, প্রফেসর ড. মঈনুদ্দিন আহমেদ খান, এডভোকেট শামসুদ্দিন মির্জা ও ইসলামী সমাজ কল্যাণ পরিষদ চট্টগ্রামের সেক্রেটারি বদিউল আলমের নেতৃত্বে আইআইইউসি ট্রাস্ট গঠিত হয়। বদিউল আলমকে এ সময় ট্রাস্টের সেক্রেটারি মনোনয়ন দেওয়া হয়। এ সময় ইসলামী সমাজ কল্যাণ পরিষদের কর্মকর্তা ছিলেন জামায়াতে নেতা আনম শামসুল ইসলাম।

কিছুদিন পর আ ন ম শামসুল ইসলাম জামায়াতের চট্টগ্রাম মহানগর আমীর নিযুক্ত হন। এরপর ২০০৮ সালে শামসুল ইসলাম সাতকানিয়া-লোহাগাড়া আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর থেকেই আইআইইউসি দখলে নিতে মরিয়া হয়ে উঠে শামসুল ইসলাম। তিনি প্রথমেই ট্রাস্টের সেক্রেটারি পদ থেকে বদিউল আলমকে অপসারণ করে নিজে ওই পদে আসীন হন। এরপর তিনি তিনি ট্রাস্ট ও আইআইইউসির সিন্ডিকেট সদস্য পদ থেকে অব্যাহতি প্রদান করেন তার প্রধান রাজনৈতিক শত্রু জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে সূরা সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীকে।

মূলত শাহজাহান চৌধুরীকে অপসারণ করেই এই বিশ্ববিদ্যালয়ের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ নেন শামসুল ইসলাম। তিনি এরপর তার নিজের প্রভাব পাকাপোক্ত করতে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জামায়াতের আমীর জাফর সাদেককে ট্রাস্টের সদস্য মনোনয়ন দেন। এছাড়া লোহাগড়া জামায়াতের আমীর হেলাল উদ্দীন নোমানকে যোগ্যতার বাছবিচার না করেই এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক পদে নিয়োগ দেন। গারাঙ্গিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক ও লোহাগাড়া উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি সাবের আহমেদকেও এই বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকচারার পদে নিয়োগ দেন শামসুল ইসলাম। এছাড়া সাতকানিয়া জামায়াতের আমীর যিনি নিযুক্ত হন তাকেই আইআইইউসির কোনো না কোনো পদে নিয়োগ দিয়ে থাকেন শামসু। এভাবেই এই বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজের অন্যায় আধিপত্য পাকাপোক্ত করে নেন তিনি। শামসুল ইসলামের অনুগত জামায়াত-শিবির নেতাদেরই এ বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরি অলিখিত বিধান রয়েছে।

আইআইইউসির টাকায় জামায়াতের ফান্ড

আইআইইউসির বিভিন্ন ফান্ডের টাকা কেন্দ্রীয় জামায়াতের নেতাদের হাতে তুলে দিয়ে শামসুল ইসলাম জামায়াতে নিজের অবস্থান করেছেন পাকাপোক্ত- এমন অভিযোগ উঠেছে আইআইইউসির শিক্ষক পর্যায় থেকে। যুদ্ধাপরাধ মামলা ঠেকাতে আইআইইউসির বিভিন্ন ফান্ড থেকে কেন্দ্রীয় নেতাদের হাতে কোটি কোটি তুলে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে শামসুর বিরুদ্ধে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫০০ কর্মকর্তা, কর্মচারী, ২০০ শিক্ষকের কাছ থেকে প্রতি তিন মাস পরপর শামসুলের কাছে পাঠাতে হয় সর্বনিম্ন ৩ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকা। এ টাকা জামায়াতের কেন্দ্রীয় বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে ব্যয় করা হয় বলে জানা গেছে।

শামসুলপন্থীরা চাকরি না করেও তুলেন বেতন-ভাতা

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অভিযোগ, শামসুল ইসলাম তার অনুগত শিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি আ জ ম ওবায়দুল্লাহকেও পরিচালক পদে নিয়োগ দেন। গত তিন চার-বছর ধরে আ জ ম ওবায়দুল্লাহ’র বিরুদ্ধে চাকরি না করে বেতন তোলার অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, হাজিরা মেশিন চেক করলেই এ বিষয়ের সত্যতা পাওয়া যাবে।

এছাড়া অভিযোগ উঠেছে, শামসুল ইসলামের কথিত পিএস হিসেবে নিযুক্ত শফিউল আলম আইআইইউসি ৮৮ হাজার টাকা বেতন পান। যিনি আবার চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলরেরও দায়িত্ব পালন করেছেন গত ৫ বছর ধরে। এক সময়ের শিবির ক্যাডার মোহাম্মদ শফিকেও এখন এখানে চাকরি করতে হয় না। শামসুর বদান্যতায় প্রতিমাসের বেতন তুলেন তিনি।

শামসুলপন্থী শিবির নেতা হলেই মিলে চাকরি

ছাত্রলীগ নেতাদের অভিযোগ, এ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক ও অফিসার পদে নিয়োগ পেতে হলে শিবিরের সাথী কিংবা সদস্য পর্যায়ের নেতা হতে হয়৷ শুধু সাথী কিংবা সদস্য হলেই হবে না, শামসুলপন্থী শিবির নেতা হলেই মিলে চাকরি। এক্ষেত্রে শাহজাহান চৌধুরী কিংবা অন্য কোনো নেতার সংস্পর্শে থাকা শিবির নেতাকর্মীদের এখানে চাকরির সুযোগ নেই। এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে, নিজের আধিপত্য পাকাপোক্ত করতে নিজের পছন্দের ৫০০ কর্মকর্তা, কর্মচারী নিয়োগ দিয়েছেন শামসুল ইসলাম। যদিও এত সংখ্যক কর্মকর্তা কর্মচারীর প্রয়োজনীয়তা নিয়েও রয়েছে প্রশ্ন।

শত কোটি টাকার বিদেশী অর্থায়নে গড়া সম্পদের হিসেব নিয়ে যাচ্ছেতাই অবস্থা

ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের অর্থায়নে চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে আইআইইউসির অধীনে একটি ১৪ তলা বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণ করা হয়। কিন্তু এ ভবনের আয়-ব্যয়ের সঠিক কোনো হিসেব নেই। অভিযোগ রয়েছে, ট্রাস্টের চেয়ারম্যান আ ন ম শামসুল ইসলাম এ ভবনের স্পেস বিক্রি ও ভাড়া দিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। ভবনটির একেকটি ফ্লোর বিভিন্ন শিপিং কোম্পানিকে ভাড়া দেওয়ার সময় নেওয়ার হয় ১০ থেকে ১২ কোটি টাকা করে অগ্রীম অর্থ। এসব অর্থ আইআইইউসির হিসেবের খাতায় আছে কিনা তা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন।

আইআইইউসির সম্পদ বিক্রি করার তোড়জোড়

চট্টগ্রামের বহদ্দারহাট বাস টার্মিনাল এলাকা ছাত্রীদের জন্য ১২০ কাঠার একটি প্লটে ভবন নির্মাণ করা হয় কয়েকবছর আগে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের অনুমোদন না থাকায় ওই ভবনটি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শিবিরের সাবেক সাধারণ সম্পাদক প্রয়াত হাসান মাহমুদ চৌধুরীর মাধ্যমে ১৫০ কোটি টাকায় বিক্রির প্রচেষ্টা চালিয়েছেন আ ন ম শামসুল ইসলাম। ঢাকার কেরানীগঞ্জে ৫০ কাঠার একটি জমিও তিনি বর্তমানে বিক্রির পায়তারা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

আইআইইউসিকে ঘিরে জামায়াত নেতাদের আয়ের মূল উৎস দুটি, শামসুলের কব্জায় তিন আমীর

জামায়াত নেতা শামসুল ইসলাম আইআইইউসিকে নিজের অধীনে রাখতে জামায়াতের চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা আমীরকে আইআইইউসি ট্রাস্টের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে নেন। উত্তর জেলা জামায়াতের আমীর আমিরুজ্জামানকে দায়িত্ব দেওয়া হয় আই আইইউসির ট্রান্সপোর্ট ডিভিশনের দায়িত্ব। তার বেতন ধরা হয় ২ লাখ টাকা। এছাড়া তার ব্যবহারের জন্য দেওয়া হয় দামি গাড়ি। এছাড়া চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের আমীর শাহজাহান চৌধুরী ও দক্ষিণ জেলা আমীরকে ট্রাস্টের সদস্য মনোনয়ন দেওয়া হয়। তাদের জন্যও দেওয়া হয় দামি গাড়ি। বেতন ধরা হয় ২ লাখ টাকা করে। এই তিন জনের মাধ্যমে জামায়াত নেতা শামসুল আইআইইউসির নামে বিভিন্ন স্থানে জমি কিনে থাকেন। অভিযোগ রয়েছে, আইআইইউসির জমি কেনার আগে ওই জমি তারা নিজেদের নামে কিংবা আত্মীয়স্বজনের নামে কিনে নেন। পরে দ্বিগুণ কিংবা তারও বেশি দামে বিক্রি করেন আইআইইউসির নামে। আবার কিছুদিন পর এই জমি বিক্রি করে দেন। জমি কেনা-বেচার ফাঁকে তারা আয় করে নেন কোটি কোটি টাকা।

ওমর ফারুক ও ইমরান চৌধুরী নামে আইআইইউসি ছাত্রলীগের দুই নেতা অভিযোগ করেন, ‘এ বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা কুয়েত, মালয়েশিয়া, সৌদি আরব থেকে এনে মূলত জামায়াত নেতারা তাদের সংগঠনকেই দিচ্ছেন। এই টাকা ব্যয় হচ্ছে আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে। জামায়াত নেতা শামসু কোটি কোটি টাকা এখান থেকে লুটপাট করছেন। সরকারের উচিত এ বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ্য, দক্ষ ও মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে বিশ্বাসীদের ট্রাস্টের চেয়ারম্যান ও সদস্য হিসেবে নিযুক্ত করা।’

তুহিন আলম ও মৃদুল চক্রবর্তী নামে ছাত্রলীগের দুই নেতা বলেন, ‘আমরা এখানে যখন ছাত্রলীগের রাজনীতি শুরু করি তখন থেকে আমাদের উপর অত্যাচারের খড়গ নেমে আসে। আমাদের একাডেমিক ক্যারিয়ারও জামায়াত-শিবিরের শিক্ষকরা নষ্ট করে দিচ্ছে। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে সরকারের হস্তক্ষেপ জরুরি।’

মারওয়ান সাইদ নামে আইআইইউসি ছাত্রলীগের এক নেতা বলেন, ‘আইআইইউসিকে নিরাপদ আস্থানা হিসেবে ব্যবহার করে সরকারবিরোধী নানা কর্মকাণ্ডে জড়িত রয়েছে জামায়াতের ট্রাস্টি সদস্যরা। চট্টগ্রাম শহর থেকে দূরে সীতাকুণ্ডের কোলাহলমুক্ত পাহাড়ি ক্যাম্পাসকে তারা শিবিরের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে রুপান্তরিত করেছে দীর্ঘদিন ধরে। গত কিছুদিন ধরে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শিক্ষক-ছাত্ররা শহীদ মিনার, স্মৃতিসৌধ নির্মাণসহ বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বিভিন্ন সেমিনার-সিম্পোজিয়ামের আয়োজনের মাধ্যমে বুদ্ধিবৃত্তিক কর্মকাণ্ড শুরু করলে জামায়াত-শিবিরের উচ্চপর্যায়ের নেতাদের নির্দেশে শিবিরের ক্যাডাররা আমাদের উপর হামলা চালিয়েছে গত ২৯ জানুয়ারি। তারা হলে ঢুকে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ছবি ভাঙচুর করেছে। এসব ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটাতে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডকে জামায়াতমুক্ত করতে হবে।’

এসব বিষয়ে জানতে আইআইইউসির উপাচার্য প্রফেসর ড. গোলাম মহিউদ্দিনের মোবাইলে একাধিকবার কল করা হলেও সংযোগ পাওয়া সম্ভব হয়নি।

জামায়াত নেতা আ ন ম শামসুল ইসলামের মোবাইলে কল করা হলে তা বন্ধ পাওয়া গেছে।