
জোবায়েদ ইবনে শাহাদত : নগরের দুই নম্বর গেইট আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভারের নিচে চশমা হিল এলাকার রাস্তা ঘেঁষে শিশু কবরস্থানটি। স্থানীয় বাসিন্দা ও মৃত শিশুদের শেষ ঠিকানা এই কবরস্থানটি মানবতার নিদর্শন হয়ে আছে ১৯৬০ সাল থেকে।
যে কোনো শিশুর লাশ দাফনের জন্য প্রয়োজনীয় কাফনের কাপড়, সাবান, বাঁশ, চাটাই ও কবরখোদাই করাসহ সকল খরচ বহন করা হচ্ছে কয়েকজন মহৎপ্রাণ ব্যাক্তিগত তহবিল থেকে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শুরুতে এই কবরস্থানে লাশ দাফন-কাফন ও আনুষঙ্গিক খরচের জন্য টাকা নেওয়া হলেও বিগত ৫ বছর ধরে কবরস্থানে লাশ দাফনে মৃতের স্বজনদের একটি টাকাও খরচ করতে হয় না। এ কবরস্থানে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে লাশ দাফন করা হচ্ছে।
শুধু শিশুদের লাশ দাফনই নয়, এলাকায় মৃত অস্বচ্ছল নাগরিকদের লাশ দাফন-কাফন ও আনুষঙ্গিক খরচও বহন করছেন শিশু কবরস্থানের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা তিন ব্যক্তি।
শিশু কবরস্থানের দায়িত্বে থাকা সৈয়দ মোহাম্মদ আসাদ সর্দার একুশে পত্রিকাকে বলেন, আমাদের এলাকাসহ যে কোনো বাইরের যে কোনো শিশুর লাশ এখানে কবরস্থ করতে চাইলে আমাদের সাহায্য পাওয়া যাবে। এই শিশু কবরস্থানে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে শিশুদের লাশ দাফন করা হচ্ছে। ব্যতিক্রমধর্মী এ উদ্যোগে সুবিধাভোগীরা বেশ আনন্দিত বলেও জানান তিনি।
এই কবরস্থানের দায়িত্বে থাকা মো. শাহীন আলম একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘আমরা শিশুদের দাফন-কাফন ও কবর দেওয়ার কাজ বিনামূল্যে করার পাশাপাশি এলাকার অস্বচ্ছলদের কবরস্থ করতে যাবতীয় খরচ বহন করে থাকি।’
সমাজের বিত্ত ও সহৃদয়বান ব্যক্তিদের সাহায্য চেয়ে তিনি বলেন, ‘কবরস্থানের মাটি ভরাট ও সীমানা প্রাচীর দেওয়া গেলে এই কার্যক্রম আরো ভালোভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হতো। সেই সাথে আরও বৃহৎ পরিসরে এই মহৎ কাজ করতে পারতাম।’
গেলো সপ্তাহে সিয়াম রাব্বি নামে ৩ বছরের এক শিশুর লাশ দাফন কর হয় এই কবরস্থানে। প্রয়াত শিশুর স্বজনেরা জানান, কবর দিতে তাদের কোনো টাকা লাগেনি। বাসা থেকে গোসল করিয়ে এনেছেন বলে দাফনের কাপড়টা তারা কিনেছেন। বিনামূল্যে দাফনের এ উদ্যোগকে তারা স্বাগত ও ধন্যবাদ জানান।
সেবাপ্রত্যাশীরা এই চারটি মোবাইল ফোন নম্বরে (01819853464, 01973333037, 01818909664, 01819107471) যোগাযোগ করতে পারেন।
