শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২০, ৯ কার্তিক ১৪২৭

‘আহহ চট্টগ্রাম’ পোস্ট দেওয়ার একঘণ্টার মধ্যেই চট্টগ্রামে প্রাণ গেলো ফাহিমের!

প্রকাশিতঃ শনিবার, অক্টোবর ১৭, ২০২০, ৪:২৩ অপরাহ্ণ


চট্টগ্রাম : শুক্রবার সন্ধ্যা ৬ টার দিকে মোটরসাইকেলসহ চট্টগ্রামের আলোআধারি দৃশ্যের একটি ছবি পোস্ট দেন ফাহিম ভূঁইয়া ওরফে ফাহিম আরজু। সাথে লিখেন- ‘আহহ চট্টগ্রাম’!

পোস্ট দেওয়ার এক ঘণ্টার মধ্যেই সেই চট্টগ্রামেই প্রাণ গেলো প্রতিশ্রুতিশীল তরুণ ফাহিমের।

শেরশাহ কলোনির বাসায় ফেরার পথে বায়েজিদ থানাধীন ডিওএইচএস এলাকায় পেছন দিক থেকে সজোরে ধাক্কা দেয় ঘাতক ট্রাক। গুরুতর আহত অবস্থায় চমেক হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান ফাহিম। এই ঘটনায় গুরুতর আহত তার ভাই ফয়সাল ভূঁইয়া চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

এই সহোদর বায়েজিদ থানায় কর্মরত এএসআই আবুল বাশার ভূঁইয়ার ছেলে এবং পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল কাশেম ভূঁইয়ার ভাতিজা।

ফেসবুকে নিহত ফাহিমের শুভানুধ্যায়ীরা তার জীবনের শেষ স্ট্যাটাস প্রসঙ্গ তুলে মাতম করছেন। কেউ কেউ বলছেন ‘আহহ চট্টগ্রাম’ কথাটি আফসোস অর্থে নয়, বরং উচ্ছ্বাস ও ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ অর্থে লিখেছেন ফাহিম।

চট্টগ্রামের প্রকৃতি, আকাশ-বাতাস বেশ পছন্দ করতেন ফাহিম। তার প্রিয় ছিল মোটরসাইকেল চালনা। চট্টগ্রামের সৌন্দর্য, চট্টগ্রামের প্রতি ভালোবাসা সঙ্গী করে চট্টগ্রামের রাজপথ দাপিয়ে বেড়াতেন ফাহিম। বিধিবাম, সেই রাজপথই কেড়ে নিলো চট্টগ্রামপ্রেমী ফাহিমের জীবন!

কারো কারো মতে, ফাহিম কি তবে বুঝতে পেরেছিলেন তার সময় শেষ? খুব দ্রুতই জগতের মায়া ছেড়ে চলে যাবেন তিনি? যদি তা না হয়, তাহলে এমনতর পোস্ট দেবেন কেন?

মারা যাওয়ার মাত্র ২০ ঘণ্টা আগে ফাহিম পোস্ট দিয়েছেন, Life is short. So grip it and rip it. চারদিন আগে ফেসবুকে লিখেন, ‘কেউই সারাজীবন পাশে থাকবে না, তাই নিজেকে নিজের’ই ভালো রাখতে শিখতে হবে!’ এসময় প্রিয় মোটরসাইকেলের পাশে দাঁড়িয়ে সুদর্শন পোজও দেন তিনি।

মৃত্যুর ৫ দিন আগে ফেসবুক পোস্টে লিখেন, ‘কোনওদিন আমার বিশেষ কোনও মানুষ ছিল না, আর ভবিষ্যতেও থাকবে না!’

এসবের মধ্যদিয়ে মূলত কী ইঙ্গিত করতে চেয়েছিলেন ফাহিম? এসব প্রশ্ন করতে করতে ফাহিমের জন্য আকুতি ঝরাচ্ছেন তার বন্ধুমহল ও পরিবারের সদস্যরা।

এদিকে, শনিবার বাদ জোহর ফাহিম ভূঁইয়ার জানাজা বায়েজিদ থানাধীন বার্মা কলোনি সংলগ্ন জহুর আহমদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হয়েছে। করোনা পরিস্থিতিতেও জানাজায় শত শত মানুষ উপস্থিত হয়ে অকাল প্রয়াত ফাহিমের জন্য চোখের জল ফেলেছেন। তার আত্মার শান্তি কামনা করেছেন।

প্রয়াতের পরিবারের পক্ষ থেকে প্রয়াতের চাচা পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কাশেম ভূঁইয়া ফাহিমের আত্মার শান্তি কামনায় সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন।